সংবাদ

‘রোগীর শ্বাসকষ্ট হলেও গল্পগুজবে মেতে ছিলেন নার্সরা’


জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

‘রোগীর শ্বাসকষ্ট হলেও গল্পগুজবে মেতে ছিলেন নার্সরা’
নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলা ও অক্সিজেন সংকটে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি : সংবাদ

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, মুমূর্ষু রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলেও দায়িত্বরত নার্সরা তা গুরুত্ব না দিয়ে গল্পগুজবে মেতে ছিলেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচার দাবিতে রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের মুক্তির মোড়ে ‘নওগাঁ নাগরিক অধিকার সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সুজন কুমার মন্ডল নামে এক ব্যক্তির মাকে হাসপাতালের কেবিনে ভর্তি করা হয়। 

সন্ধ্যার আগে রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে নার্সদের ডাকা হয়। তখন কেবিনের অক্সিজেন লাইনের মাস্ক রোগীর মুখে পরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ১৫-২০ মিনিট পার হলেও রোগীর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় স্বজনরা পরীক্ষা করে দেখেন যে অক্সিজেন লাইন দিয়ে কোনো অক্সিজেন আসছে না। বিষয়টি দায়িত্বরত নার্সদের বারবার জানানো হলেও তারা কর্ণপাত না করে নিজেদের মধ্যে গল্পগুজবে লিপ্ত ছিলেন।

প্রায় ৪৫ মিনিট ছটফট করার পর বিনা চিকিৎসায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়। বক্তারা একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চান।

এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনে পাল্টা মানববন্ধন করেছেন নার্স ও ইন্টার্ন শিক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ ডিউটিরত নার্সদের হেনস্তা ও ইন্টার্ন নার্স ইয়ামিন হাসানকে শারীরিক নির্যাতন করেছেন।

অভিযুক্ত সোহাগ বলেন, ‘রোগীর ইসিজিতে হার্টবিট পাওয়ার পর আমি নার্সকে জরুরি চিকিৎসক ডেকে আনতে বলি। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন তার ডিউটি ৮ তলায়, তিনি নিচে যাবেন না। তখন রাগের মাথায় আমি ওই নার্সকে একটি চড় মারি। জরুরি চিকিৎসককে ডেকে আনা কি রোগীর স্বজনদের দায়িত্ব?’

ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. বারিউল হায়দার অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীর অবস্থা আগে থেকেই সংকটাপন্ন ছিল এবং সাধ্যমতো সব চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অক্সিজেনের অভাব ছিল না।

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ ম আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম, তবে বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণ হলে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


‘রোগীর শ্বাসকষ্ট হলেও গল্পগুজবে মেতে ছিলেন নার্সরা’

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, মুমূর্ষু রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলেও দায়িত্বরত নার্সরা তা গুরুত্ব না দিয়ে গল্পগুজবে মেতে ছিলেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচার দাবিতে রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের মুক্তির মোড়ে ‘নওগাঁ নাগরিক অধিকার সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সুজন কুমার মন্ডল নামে এক ব্যক্তির মাকে হাসপাতালের কেবিনে ভর্তি করা হয়। 

সন্ধ্যার আগে রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে নার্সদের ডাকা হয়। তখন কেবিনের অক্সিজেন লাইনের মাস্ক রোগীর মুখে পরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ১৫-২০ মিনিট পার হলেও রোগীর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় স্বজনরা পরীক্ষা করে দেখেন যে অক্সিজেন লাইন দিয়ে কোনো অক্সিজেন আসছে না। বিষয়টি দায়িত্বরত নার্সদের বারবার জানানো হলেও তারা কর্ণপাত না করে নিজেদের মধ্যে গল্পগুজবে লিপ্ত ছিলেন।

প্রায় ৪৫ মিনিট ছটফট করার পর বিনা চিকিৎসায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়। বক্তারা একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চান।

এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনে পাল্টা মানববন্ধন করেছেন নার্স ও ইন্টার্ন শিক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ ডিউটিরত নার্সদের হেনস্তা ও ইন্টার্ন নার্স ইয়ামিন হাসানকে শারীরিক নির্যাতন করেছেন।

অভিযুক্ত সোহাগ বলেন, ‘রোগীর ইসিজিতে হার্টবিট পাওয়ার পর আমি নার্সকে জরুরি চিকিৎসক ডেকে আনতে বলি। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন তার ডিউটি ৮ তলায়, তিনি নিচে যাবেন না। তখন রাগের মাথায় আমি ওই নার্সকে একটি চড় মারি। জরুরি চিকিৎসককে ডেকে আনা কি রোগীর স্বজনদের দায়িত্ব?’

ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. বারিউল হায়দার অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীর অবস্থা আগে থেকেই সংকটাপন্ন ছিল এবং সাধ্যমতো সব চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অক্সিজেনের অভাব ছিল না।

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ ম আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম, তবে বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণ হলে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত