সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে বোরো ধান কাটার উৎসব শুরু হলেও দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার কারণে ধান কাটার যন্ত্র (হার্ভেস্টার ও রিপার) চালানো যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় মাঠের ধান দ্রুত ঘরে তুলতে জেলার সব কটি বালু-পাথর মহাল এবং তিনটি স্থল শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ধান কাটার কাজে যুক্ত হতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাওরে ধান পাকলেও শ্রমিকের অভাবে অনেক কৃষক সময়মতো ফসল কাটতে পারছেন না। আগে হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে দ্রুত ধান কাটা সম্ভব হলেও এবার হাওরে পানি জমে থাকায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে কায়িক শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
শ্রমিক সংকট নিরসনে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের নির্দেশনায় ও জেলা প্রশাসনের আহ্বানে তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী স্থল শুল্ক স্টেশনে কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন ১৮ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জেলার যাদুকাটা নদীসহ সব কটি বালু-পাথর মহাল থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) দিনভর সীমান্ত এলাকায় এ বিষয়ে মাইকিং করা হয়।
তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি খসরুল আলম বলেন, সংসদ সদস্যের পরামর্শে শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর ও মহালিয়া হাওরসহ বড় হাওরগুলোর ধান কাটার সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনটি শুল্ক স্টেশন বন্ধ থাকায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক হাওরে ধান কাটার কাজে যোগ দিতে পারবেন।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘হাওরের ধান কৃষকের একমাত্র ফসল। শ্রমিক সংকটের কারণে যাতে কৃষকের ক্ষতি না হয়, সে জন্য শুল্ক স্টেশন ও যাদুকাটা নদী বন্ধ রাখা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এর ফলে প্রায় ২০ হাজার অতিরিক্ত শ্রমিক হাওরে যুক্ত হবেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে।’
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বালু-পাথর মহালের শ্রমিকদের এই সময়ে ধান কাটার কাজে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন