সংবাদ

পাঁচশ’র বেশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

পাঁচশ’র বেশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা
পুলিশ সদর দপ্তর।

বিমানবন্দরসহ পাঁচশ’র বেশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ (কেপিআই) স্থাপনায় জঙ্গি হামলাসহ যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। পোশাকে ও সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, টার্মিনাল এলাকা ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল ও ডিপারচার সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিও জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্কতার চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে। বিমানবন্দরের কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতা পরিকল্পনা ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের এক চিঠিতে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সতর্কতা জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিমানবন্দরগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল অব্যাহত থাকলেও যেকোনো অস্বাভাবিকতা তৎক্ষণাৎ রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে নিরাপত্তাকর্মীদের। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও নজরদারি বাড়িয়েছে। সাদা পোশাকের সদস্যরাও মাঠে নামানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিমানবন্দর সূত্র বলছে, নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া বিমানবন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে তল্লাশিতে কোনো ধরনের ঘাটতি না রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের বিভিন্ন প্রবেশপথের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোথাও কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ রয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার এম. রাকিবুল হাসান ভূঞা সংবাদকে বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্কতা জারির পর দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সিআইডিসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের গেটগুলোতেও কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। গেটে ঢুকতে গেলে বাড়তি বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

রাষ্ট্রের পাঁচশ’র বেশি কেপিআই স্থাপনায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সম্প্রদায় দেশীয় জঙ্গিদের যোগসাজশে নাশকতা চালাতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা অবশ্য বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর প্রায়ই কোনো তথ্য পেলে সতর্কতা জারি করে। কিন্তু গোপন প্রতিবেদন ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা নিয়ে সারাদেশে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। তারা সতর্কতার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছে।

অপরদিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নজরদারির দায়িত্ব প্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, কেপিআই পয়েন্টগুলোয় নজরদারি আছে। নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর বলতে পারবে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আগেও নিরাপত্তা জোরদার ছিল। এখন গোয়েন্দা সংস্থা আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আগামী কয়েক দিন বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে এই বাড়তি নিরাপত্তা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


পাঁচশ’র বেশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিমানবন্দরসহ পাঁচশ’র বেশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ (কেপিআই) স্থাপনায় জঙ্গি হামলাসহ যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। পোশাকে ও সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, টার্মিনাল এলাকা ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল ও ডিপারচার সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিও জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্কতার চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে। বিমানবন্দরের কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতা পরিকল্পনা ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের এক চিঠিতে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সতর্কতা জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিমানবন্দরগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল অব্যাহত থাকলেও যেকোনো অস্বাভাবিকতা তৎক্ষণাৎ রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে নিরাপত্তাকর্মীদের। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও নজরদারি বাড়িয়েছে। সাদা পোশাকের সদস্যরাও মাঠে নামানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিমানবন্দর সূত্র বলছে, নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া বিমানবন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে তল্লাশিতে কোনো ধরনের ঘাটতি না রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের বিভিন্ন প্রবেশপথের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোথাও কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ রয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার এম. রাকিবুল হাসান ভূঞা সংবাদকে বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্কতা জারির পর দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সিআইডিসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের গেটগুলোতেও কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। গেটে ঢুকতে গেলে বাড়তি বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

রাষ্ট্রের পাঁচশ’র বেশি কেপিআই স্থাপনায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সম্প্রদায় দেশীয় জঙ্গিদের যোগসাজশে নাশকতা চালাতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা অবশ্য বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর প্রায়ই কোনো তথ্য পেলে সতর্কতা জারি করে। কিন্তু গোপন প্রতিবেদন ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা নিয়ে সারাদেশে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। তারা সতর্কতার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছে।

অপরদিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নজরদারির দায়িত্ব প্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, কেপিআই পয়েন্টগুলোয় নজরদারি আছে। নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর বলতে পারবে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আগেও নিরাপত্তা জোরদার ছিল। এখন গোয়েন্দা সংস্থা আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আগামী কয়েক দিন বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে এই বাড়তি নিরাপত্তা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত