কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে ৩ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে তোলা হয়। এসময় ১৬৪ ধারায় তিনি জবানবন্দি না দেয়ায় তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক।
এদিকে, আদালতে কোনো জবানবন্দী না দিলেও রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
এদিকে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারগারের সামনে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “পিবিআই লুকোচুরি করছে, কোনো তথ্য আমাকে জানানো হচ্ছে না।” এদিকে রিমান্ডে প্রথম দিনেই গ্রেফতারকৃত হাফিজুর রহমান এর ডিএনএ সংগ্রহ করেছে পিবিআই।
গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর পিবিআই তাকে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুল হক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতের নির্দেশে সাবেক সেনা সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে ওইদিনই ৩ দিনের রিমান্ডে নেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওইদিন হাফিজুর রহমানকে ঢাকায় ল্যাবে নিয়ে তার বেশ কিছু ডিএনএ নমুনা নেয়া হয়।
এদিকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে একটি মাইক্রোবাসযোগে তাকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় পুলিশ তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আমানের আদালতে নেয়া হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। দুপুর ২টার দিকে তাকে পুনরায় মাইক্রোবাসে করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেননি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া সন্দেহভাজন আরও দুই সেনা সদস্যকে খোঁজা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সেনা সদস্য কোনো তথ্য দিয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রিমান্ডে হাফিজুর রহমান বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন।আমরা এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করবো। তাই এ নিয়ে এখনই বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে মোবাইলে কল দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের কুমিল্লা কারাগার এর গেইটে থাকতে বলেছেন। আমি বাবাকে নিয়ে (মামলার বাদি) গেইটে পৌঁছে জানতে পেরেছি আসামিকে (হাফিজুর) কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাই তাকে দেখা হয়নি।
পরে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আজকে আমাকে বলছে, কুমিল্লা কারাগারের সামনে আসার জন্য। আমি এখানে এসে দেখি, তারা চলে গেছে। ওরা আমাকে মিথ্যা বলতাছে। পিবিআই আমার সঙ্গে প্রতারণা করছে। ”
তনুর বাবা আরও বলেন, “পিবিআই আমার কথা শুনে না। এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো অফিসার আছে। না হয় আমার কথা কেন শুনবে না। একটা মার্ডার কেইস। আজকে এগারো বছর, এটার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আসাসি অ্যারেস্ট হওয়ার পর আমি সন্তুষ্ট না। আমার সঙ্গে কথা হয় না, পিবিআইয়ের সঙ্গে কথা বলতে না পারলে আমি কেমনে সন্তুষ্ট হবো। ”
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি’র তদন্ত টিম তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পায়। তবে পরে আর এগুলো সন্দেহভাজন কারও সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে (ক্রস ম্যাচ) দেখা হয়নি।
গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল পিবিআই। আদালতের আদেশ পেয়েই তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পিবিআই।
গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই প্রথম সন্দেহভাজন একজনের ডিএনএ ক্রস ম্যাচ (মিলিয়ে দেখা) নমুনা নেয়া হয়। অপর দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদেরও ডিএনএ নমুনা নেয়া হবে বলে পিবিআই জানিয়েছে।
এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। দুই দফায় ময়নাতদন্তেও তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ ছিল না। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে ৩ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে তোলা হয়। এসময় ১৬৪ ধারায় তিনি জবানবন্দি না দেয়ায় তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক।
এদিকে, আদালতে কোনো জবানবন্দী না দিলেও রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
এদিকে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারগারের সামনে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “পিবিআই লুকোচুরি করছে, কোনো তথ্য আমাকে জানানো হচ্ছে না।” এদিকে রিমান্ডে প্রথম দিনেই গ্রেফতারকৃত হাফিজুর রহমান এর ডিএনএ সংগ্রহ করেছে পিবিআই।
গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর পিবিআই তাকে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুল হক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতের নির্দেশে সাবেক সেনা সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে ওইদিনই ৩ দিনের রিমান্ডে নেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওইদিন হাফিজুর রহমানকে ঢাকায় ল্যাবে নিয়ে তার বেশ কিছু ডিএনএ নমুনা নেয়া হয়।
এদিকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে একটি মাইক্রোবাসযোগে তাকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় পুলিশ তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আমানের আদালতে নেয়া হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। দুপুর ২টার দিকে তাকে পুনরায় মাইক্রোবাসে করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেননি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া সন্দেহভাজন আরও দুই সেনা সদস্যকে খোঁজা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সেনা সদস্য কোনো তথ্য দিয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রিমান্ডে হাফিজুর রহমান বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন।আমরা এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করবো। তাই এ নিয়ে এখনই বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে মোবাইলে কল দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের কুমিল্লা কারাগার এর গেইটে থাকতে বলেছেন। আমি বাবাকে নিয়ে (মামলার বাদি) গেইটে পৌঁছে জানতে পেরেছি আসামিকে (হাফিজুর) কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাই তাকে দেখা হয়নি।
পরে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আজকে আমাকে বলছে, কুমিল্লা কারাগারের সামনে আসার জন্য। আমি এখানে এসে দেখি, তারা চলে গেছে। ওরা আমাকে মিথ্যা বলতাছে। পিবিআই আমার সঙ্গে প্রতারণা করছে। ”
তনুর বাবা আরও বলেন, “পিবিআই আমার কথা শুনে না। এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো অফিসার আছে। না হয় আমার কথা কেন শুনবে না। একটা মার্ডার কেইস। আজকে এগারো বছর, এটার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আসাসি অ্যারেস্ট হওয়ার পর আমি সন্তুষ্ট না। আমার সঙ্গে কথা হয় না, পিবিআইয়ের সঙ্গে কথা বলতে না পারলে আমি কেমনে সন্তুষ্ট হবো। ”
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি’র তদন্ত টিম তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পায়। তবে পরে আর এগুলো সন্দেহভাজন কারও সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে (ক্রস ম্যাচ) দেখা হয়নি।
গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল পিবিআই। আদালতের আদেশ পেয়েই তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পিবিআই।
গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই প্রথম সন্দেহভাজন একজনের ডিএনএ ক্রস ম্যাচ (মিলিয়ে দেখা) নমুনা নেয়া হয়। অপর দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদেরও ডিএনএ নমুনা নেয়া হবে বলে পিবিআই জানিয়েছে।
এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। দুই দফায় ময়নাতদন্তেও তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ ছিল না। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।

আপনার মতামত লিখুন