সন্তানরা গরুর মাংস খেতে চেয়েছিলো, তাই অভাবের সংসারেও কসাইয়ের কাছ থেকে এক কেজি মাংস কিনেছিলেন দিনমজুর বাবা দ্বীন মোহাম্মদ ঢালী। হাতে টাকা না থাকায় ৪০০ টাকা বকেয়া রেখেছিলেন। কিন্তু সেই ৪০০ টাকার জন্যই যে তাকে নিজের জীবন দিতে হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি খুলনার রূপসার এই চা বিক্রেতা।
পাওনা
টাকার দ্বন্দ্বে কসাই খায়ের লস্করের
ইটের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের
এক মাস পর আত্মগোপনে
থাকা আসামি খায়েরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পাওনা
টাকা নিয়ে বিবাদ ও নৃশংসতা
নিহত
দ্বীন মোহাম্মদ ঢালী রূপসা ভবানীপুর
স্কুলের পাশে একটি ক্ষুদ্র
দোকানে চা ও পান
বিক্রি করে সংসার চালাতেন।
ঘটনার দিন গত ১৭
মার্চ বিকেল ৪টার দিকে কসাই
খায়ের তার দোকানে গিয়ে
বকেয়া ৪০০ টাকা দাবি
করে। তাৎক্ষণিক টাকা দিতে না
পারায় উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
এক পর্যায়ে খায়ের উত্তেজিত হয়ে দ্বীন মোহাম্মদকে
এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মেরে দোকান থেকে
রাস্তায় টেনে-হেঁচড়ে বের
করে আনে। সেখানে ক্ষিপ্ত
হয়ে রাস্তা থেকে ইট তুলে
দ্বীন মোহাম্মদের মাথায় সজোরে আঘাত করে খায়ের।
এতে তিনি গুরুতর আহত
হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে ঘাতক কসাই
কৌশলে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে
উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে খুলনা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে
গেলে সন্ধ্যায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা
করেন।
পিবিআইয়ের
‘জালে ঘাতক’ কসাই
হত্যাকাণ্ডের
পর নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম বাদী হয়ে
রূপসা থানায় মামলা দায়ের করেন। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় খুলনা জেলা ইউনিট ইনচার্জ
পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের নেতৃত্বে তদন্ত দল অভিযানে নামে।
দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের
মাধ্যমে গত ১৬ এপ্রিল
গভীর রাতে যশোর জেলার
উপশহর এলাকা থেকে আসামি খায়েরকে
গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক
জিজ্ঞাসাবাদে নিজের দোষ স্বীকার করে
ঘাতক খায়ের বলেন, "হত্যা ঘটানোর পর আমি খুলনা
থেকে পালিয়ে নড়াইলে গিয়ে একটি ইটের
ভাটায় কাজ শুরু করি।
পরে যশোরের উপশহরে এক আত্মীয়ের বাসায়
আত্মগোপন করি। আমিই দ্বীন
মোহাম্মদকে পাওনা ৪০০ টাকার জন্য
ইট দিয়ে আঘাত করে
হত্যা করেছি।"
আইনি
প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
মামলার
তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপার
রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, পিবিআইয়ের টিম গোয়েন্দা কার্যক্রম
চালিয়ে আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেপ্তার
করেছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারোর উস্কানি
বা সম্পৃক্ততা আছে কিনা তাও
খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোহানুর রহমান
বলেন, "গ্রেপ্তার আসামি একজন গরু ব্যবসায়ী
ও কসাই। সে নিজের অপরাধ
স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
এখন আমরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের
অপেক্ষায় আছি। সেটি হাতে
পেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।"

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
সন্তানরা গরুর মাংস খেতে চেয়েছিলো, তাই অভাবের সংসারেও কসাইয়ের কাছ থেকে এক কেজি মাংস কিনেছিলেন দিনমজুর বাবা দ্বীন মোহাম্মদ ঢালী। হাতে টাকা না থাকায় ৪০০ টাকা বকেয়া রেখেছিলেন। কিন্তু সেই ৪০০ টাকার জন্যই যে তাকে নিজের জীবন দিতে হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি খুলনার রূপসার এই চা বিক্রেতা।
পাওনা
টাকার দ্বন্দ্বে কসাই খায়ের লস্করের
ইটের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের
এক মাস পর আত্মগোপনে
থাকা আসামি খায়েরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পাওনা
টাকা নিয়ে বিবাদ ও নৃশংসতা
নিহত
দ্বীন মোহাম্মদ ঢালী রূপসা ভবানীপুর
স্কুলের পাশে একটি ক্ষুদ্র
দোকানে চা ও পান
বিক্রি করে সংসার চালাতেন।
ঘটনার দিন গত ১৭
মার্চ বিকেল ৪টার দিকে কসাই
খায়ের তার দোকানে গিয়ে
বকেয়া ৪০০ টাকা দাবি
করে। তাৎক্ষণিক টাকা দিতে না
পারায় উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
এক পর্যায়ে খায়ের উত্তেজিত হয়ে দ্বীন মোহাম্মদকে
এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মেরে দোকান থেকে
রাস্তায় টেনে-হেঁচড়ে বের
করে আনে। সেখানে ক্ষিপ্ত
হয়ে রাস্তা থেকে ইট তুলে
দ্বীন মোহাম্মদের মাথায় সজোরে আঘাত করে খায়ের।
এতে তিনি গুরুতর আহত
হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে ঘাতক কসাই
কৌশলে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে
উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে খুলনা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে
গেলে সন্ধ্যায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা
করেন।
পিবিআইয়ের
‘জালে ঘাতক’ কসাই
হত্যাকাণ্ডের
পর নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম বাদী হয়ে
রূপসা থানায় মামলা দায়ের করেন। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় খুলনা জেলা ইউনিট ইনচার্জ
পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের নেতৃত্বে তদন্ত দল অভিযানে নামে।
দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের
মাধ্যমে গত ১৬ এপ্রিল
গভীর রাতে যশোর জেলার
উপশহর এলাকা থেকে আসামি খায়েরকে
গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক
জিজ্ঞাসাবাদে নিজের দোষ স্বীকার করে
ঘাতক খায়ের বলেন, "হত্যা ঘটানোর পর আমি খুলনা
থেকে পালিয়ে নড়াইলে গিয়ে একটি ইটের
ভাটায় কাজ শুরু করি।
পরে যশোরের উপশহরে এক আত্মীয়ের বাসায়
আত্মগোপন করি। আমিই দ্বীন
মোহাম্মদকে পাওনা ৪০০ টাকার জন্য
ইট দিয়ে আঘাত করে
হত্যা করেছি।"
আইনি
প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
মামলার
তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপার
রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, পিবিআইয়ের টিম গোয়েন্দা কার্যক্রম
চালিয়ে আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেপ্তার
করেছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারোর উস্কানি
বা সম্পৃক্ততা আছে কিনা তাও
খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোহানুর রহমান
বলেন, "গ্রেপ্তার আসামি একজন গরু ব্যবসায়ী
ও কসাই। সে নিজের অপরাধ
স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
এখন আমরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের
অপেক্ষায় আছি। সেটি হাতে
পেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন