রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানানোর কারণে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আতাউর রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যে বিরোধী দলের এই আইনপ্রণেতা বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে তার অন্তর থেকে ‘কোনো ভালোবাসা’ তৈরি হচ্ছে না।
নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য (এমপি) বলেন, “এই রাষ্ট্রপতিই বিগত সময়ে ‘ফ্যাসিজমের’ সব কার্যক্রমকে বৈধতা দিয়েছেন।”
রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানানো নিয়ে সরকারি দলের সদস্যদের উদ্দেশে আতাউর রহমান বলেন, “আমি মাঝে মাঝে খেয়াল করে দেখি, উনাদের কেউ যদি একটু বেশি ধন্যবাদ দিয়ে ফেলেন, পাশের জন মুচকি হাসি দেন। তিনিও ভাবেন, এই ধন্যবাদ হয়ত তাদের জন্য ঠিক নয়।”
তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্রপতি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের অন্ধকারে রেখে হত্যা করাটাকে বৈধ করেছিলো, সেই রাষ্ট্রপতিকে এই সংসদে দাঁড়িয়ে আজ ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমি নিশ্চিত, এর মাধ্যমে বেগম জিয়ার আত্মা চরমভাবে কষ্ট পাবে।”
জামায়াতের এই এমপি বলেন, “সেজন্য এই দায়িত্ব যারা পালন করছেন, সেই বন্ধুদের অনুরোধ করবো, নিশ্চয়ই আমাদের হিসাব-নিকাশ করে কথা বলা দরকার।”
তিনি বলেন, “কুকুরে লেজ নাড়ায়, না লেজে কুকুর নাড়ায়, সেটা বুঝতে পারি না।”
এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার পরে আমার কাছে দুটি জিনিস মনে হয়েছে। হয় আমাদের রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড অনেক শক্ত হয়েছে। না হলে মনে হয়েছে, রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড কেউ বাঁকা করে দিয়েছেন। শেষটাই আমার কাছে মনে হয়েছে সবচেয়ে পারফেক্ট।”
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, একটি আদেশের বিষয়ে তিনি রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি তা দিয়েছেন কি না।
আতাউর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রপতি নাকি তাকে জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি তো দিতে চাইনি। আমাকে দিয়ে দেয়ানো হয়’।” তিনি বলেন, ওই ঘটনা বর্ণনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, “রাজহংসকে জোর করে ডিম্ব পাড়ানো হয়েছে।”
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, “আজ রাজহংস আবারও এখানে ডিম পাড়ছে কি পাড়ছে না, তা আমাদের বিশ্বাস করার সুযোগ আছে বলে মনে করি না। যে রাজহংস মালিক পরিবর্তন হলে ডিমের কালার পরিবর্তন করে, ওই রাজহংসের বক্তৃতায় আমাদের ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ নেই।”

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানানোর কারণে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আতাউর রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যে বিরোধী দলের এই আইনপ্রণেতা বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে তার অন্তর থেকে ‘কোনো ভালোবাসা’ তৈরি হচ্ছে না।
নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য (এমপি) বলেন, “এই রাষ্ট্রপতিই বিগত সময়ে ‘ফ্যাসিজমের’ সব কার্যক্রমকে বৈধতা দিয়েছেন।”
রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানানো নিয়ে সরকারি দলের সদস্যদের উদ্দেশে আতাউর রহমান বলেন, “আমি মাঝে মাঝে খেয়াল করে দেখি, উনাদের কেউ যদি একটু বেশি ধন্যবাদ দিয়ে ফেলেন, পাশের জন মুচকি হাসি দেন। তিনিও ভাবেন, এই ধন্যবাদ হয়ত তাদের জন্য ঠিক নয়।”
তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্রপতি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের অন্ধকারে রেখে হত্যা করাটাকে বৈধ করেছিলো, সেই রাষ্ট্রপতিকে এই সংসদে দাঁড়িয়ে আজ ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমি নিশ্চিত, এর মাধ্যমে বেগম জিয়ার আত্মা চরমভাবে কষ্ট পাবে।”
জামায়াতের এই এমপি বলেন, “সেজন্য এই দায়িত্ব যারা পালন করছেন, সেই বন্ধুদের অনুরোধ করবো, নিশ্চয়ই আমাদের হিসাব-নিকাশ করে কথা বলা দরকার।”
তিনি বলেন, “কুকুরে লেজ নাড়ায়, না লেজে কুকুর নাড়ায়, সেটা বুঝতে পারি না।”
এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার পরে আমার কাছে দুটি জিনিস মনে হয়েছে। হয় আমাদের রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড অনেক শক্ত হয়েছে। না হলে মনে হয়েছে, রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড কেউ বাঁকা করে দিয়েছেন। শেষটাই আমার কাছে মনে হয়েছে সবচেয়ে পারফেক্ট।”
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, একটি আদেশের বিষয়ে তিনি রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি তা দিয়েছেন কি না।
আতাউর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রপতি নাকি তাকে জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি তো দিতে চাইনি। আমাকে দিয়ে দেয়ানো হয়’।” তিনি বলেন, ওই ঘটনা বর্ণনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, “রাজহংসকে জোর করে ডিম্ব পাড়ানো হয়েছে।”
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, “আজ রাজহংস আবারও এখানে ডিম পাড়ছে কি পাড়ছে না, তা আমাদের বিশ্বাস করার সুযোগ আছে বলে মনে করি না। যে রাজহংস মালিক পরিবর্তন হলে ডিমের কালার পরিবর্তন করে, ওই রাজহংসের বক্তৃতায় আমাদের ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ নেই।”

আপনার মতামত লিখুন