২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন পর্যন্ত ‘শুধু ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে’ বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
রবিবার (৩ মে) নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ‘এ ঘটনায় এরইমধ্যে আমরা ৩২ জন নিহত ব্যক্তির তালিকা পেয়েছি। তারা শাপলা চত্বরেই নিহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামেও হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া সে সময়কার সরকারের ঊর্ধ্বতনদের বা পুলিশের যারা জড়িত রয়েছেন, কিংবা অর্থের জোগান দিয়েছেন; তাদেরও আসামি করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘শাপলা চত্বরের এ মামলায় ৯০ শতাংশ তদন্ত শেষ হয়েছে। বাকি কাজও শিগগির সম্পন্ন করতে পারবো। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আকারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
চলতি বছরের গত ৫ এপ্রিল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে আগামী ৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল।
শাপলা চত্বরের এ মামলায় আসামির তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদসহ আরও অনেকের নাম উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় এক যুগ আগে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে আলোচনায় আসে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। ব্লগারদের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, নারী নীতির বিরোধিতা এবং ১৩ দফা দাবি তুলে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়।
২০১৩ সালের ৫ মে দিনভর উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে হেফাজতে ইসলামের ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় সহিংসতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির অভিযানে এলাকা খালি করা হয়।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন পর্যন্ত ‘শুধু ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে’ বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
রবিবার (৩ মে) নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ‘এ ঘটনায় এরইমধ্যে আমরা ৩২ জন নিহত ব্যক্তির তালিকা পেয়েছি। তারা শাপলা চত্বরেই নিহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামেও হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া সে সময়কার সরকারের ঊর্ধ্বতনদের বা পুলিশের যারা জড়িত রয়েছেন, কিংবা অর্থের জোগান দিয়েছেন; তাদেরও আসামি করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘শাপলা চত্বরের এ মামলায় ৯০ শতাংশ তদন্ত শেষ হয়েছে। বাকি কাজও শিগগির সম্পন্ন করতে পারবো। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আকারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
চলতি বছরের গত ৫ এপ্রিল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে আগামী ৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল।
শাপলা চত্বরের এ মামলায় আসামির তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদসহ আরও অনেকের নাম উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় এক যুগ আগে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে আলোচনায় আসে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। ব্লগারদের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, নারী নীতির বিরোধিতা এবং ১৩ দফা দাবি তুলে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়।
২০১৩ সালের ৫ মে দিনভর উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে হেফাজতে ইসলামের ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় সহিংসতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির অভিযানে এলাকা খালি করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন