সংবাদ

ট্রাইব্যুনালের ‘শোকজ’ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

কামরুলের চিকিৎসা নথিতে 'জালিয়াতির' অভিযোগ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

কামরুলের চিকিৎসা নথিতে 'জালিয়াতির' অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই  আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচার শুরুর এই আদেশের দিনে ট্রাইব্যুনালে মূল আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয় কামরুল ইসলামের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে ভুয়া ও জালিয়াতি করা স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দাখিল করেছে আসামিপক্ষ এবং এ কারণে আদালত তাদের ১৫ দিনের সময় দিয়ে ‘শোকজ’ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করেছে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ জালিয়াতি ও শোকজ করার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে দাবি করেছে, ট্রাইব্যুনাল কোনো শোকজ করেনি, কেবল আগের আদেশের সার্টিফাইড কপি জমা দেওয়ার জন্য সময় দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

‘শোকজ’ নিয়ে দুই পক্ষের দুই রকম দাবি

গত ৩০ এপ্রিল শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, "কামরুল ইসলামের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে চরম অসঙ্গতি রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে ‘ফ্রড’ বা প্রতারণা করে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার আদেশ নেওয়া হয়েছিল। অসঙ্গতিগুলো ট্রাইব্যুনালের নজরে আনার পর আদালত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার আগের আদেশটি বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি এসব কাগজপত্র কীভাবে সংগ্রহ করা হলো, তার ব্যাখ্যা দিতে কামরুলের আইনজীবীদের ১৫ দিনের সময় দিয়ে শোকজ করেছে ট্রাইব্যুনাল।"

তবে প্রসিকিউশনের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আফতাব মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, "ভুয়া কাগজপত্র দাখিলের কারণে আদালত শোকজ করেছে বলে চিফ প্রসিকিউটর গণমাধ্যমে যে দাবি করেছেন, তা সঠিক নয়। আদালতের মৌখিক আদেশে শোকজের মতো কোনো বিষয় ছিল না।"

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আদালত আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল— নিম্ন আদালতের যে আদেশের কথা বলা হচ্ছে, তার সার্টিফাইড কপি কোথায়? আমরা সময় চাওয়ায় আদালত বিস্তারিত তথ্য ও সার্টিফাইড কপি জমা দেওয়ার জন্য আমাদের ১৫ দিনের সময় মঞ্জুর করেছেন। চিফ প্রসিকিউটর মূল ঘটনা থেকে সরে গিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এখানে ভুয়া ডকুমেন্টের কোনো অস্তিত্বই নেই।"

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, চিকিৎসা নথিতে মারাত্মক কিছু অসংগতি রয়েছে। কামরুল ইসলাম ১৮ নভেম্বর ২০২৪ থেকে জেলহাজতে রয়েছেন। অথচ আসামিপক্ষ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের (ভবিষ্যতের তারিখ) মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করেছে।

তিনি বলেন, "জেলে থাকা অবস্থায় তিনি বাইরে গিয়ে কীভাবে ডাক্তারের কাছে গেলেন? ১৫ ফেব্রুয়ারির কাগজে কামরাঙ্গীরচরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক ডাক্তারের নাম রয়েছে, যেখানে ‘গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার’ নামক অদ্ভুত রোগের কথা লেখা। আবার জেলহাজতে থাকা অবস্থায় সিঙ্গাপুর থেকে আনা বলে দাবি করা আরেকটি পেপার দাখিল করা হয়েছে, যা আমাদের কাছে চরম সন্দেহজনক।" জেল কর্তৃপক্ষের মতে আসামির ডায়াবেটিস ও ডিমেনশিয়া ছাড়া গুরুতর কোনো রোগ নেই বলে জানান তিনি।

আসামিপক্ষের ব্যাখ্যা

এসব অভিযোগের বিপরীতে কামরুল ইসলামের  আইনজীবী আফতাব মাহমুদ বলেন, "ট্রাইব্যুনাল এভারকেয়ারে স্থানান্তরের যে নির্দেশ আগে দিয়েছিল, তা আমাদের জমা দেওয়া নথির ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং পিজি হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছিল।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা আদালতে যা জমা দিয়েছিলাম, সেটি কোনো মেডিকেল রিপোর্ট নয়, রোগীর একটি 'কেস সামারি'। যেহেতু তিনি জেলে, তাই উনার চিকিৎসক ছেলের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই হিস্ট্রি দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ ছিল তিনি ২০১৭ সাল থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত।"

সিঙ্গাপুরের রিপোর্টের বিষয়ে এই আইনজীবী জানান, নিম্ন আদালতের অনুমতি নিয়েই পিজিতে আসামির কিছু ব্যয়বহুল টেস্ট করানো হয়েছিল। রোগীর পক্ষে বিদেশে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায়, পিজিতে হওয়া টেস্টের রিপোর্টগুলো নিজ খরচে সিঙ্গাপুরে তার পূর্বতন চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয় এবং চিকিৎসক সেটি দেখে একটি প্রেসক্রিপশন দেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো জালিয়াতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

কামরুল ও মেননের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

এদিকে, চিকিৎসা নথির বিতর্কের দিনেই শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার ও কারফিউ জারির 'প্ররোচনা' দেওয়ার অভিযোগে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে তিনটি চার্জ বা অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তাদের ষড়যন্ত্রে রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশ এলাকায় ২৩ জন নিহত হন বলে অভিযোগে বলা হয়।

এর আগে আসামিপক্ষের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মেনন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। অন্যদিকে কামরুল ইসলাম অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ৯ জুন পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


কামরুলের চিকিৎসা নথিতে 'জালিয়াতির' অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

চব্বিশের জুলাই  আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচার শুরুর এই আদেশের দিনে ট্রাইব্যুনালে মূল আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয় কামরুল ইসলামের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে ভুয়া ও জালিয়াতি করা স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দাখিল করেছে আসামিপক্ষ এবং এ কারণে আদালত তাদের ১৫ দিনের সময় দিয়ে ‘শোকজ’ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করেছে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ জালিয়াতি ও শোকজ করার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে দাবি করেছে, ট্রাইব্যুনাল কোনো শোকজ করেনি, কেবল আগের আদেশের সার্টিফাইড কপি জমা দেওয়ার জন্য সময় দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

‘শোকজ’ নিয়ে দুই পক্ষের দুই রকম দাবি

গত ৩০ এপ্রিল শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, "কামরুল ইসলামের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে চরম অসঙ্গতি রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে ‘ফ্রড’ বা প্রতারণা করে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার আদেশ নেওয়া হয়েছিল। অসঙ্গতিগুলো ট্রাইব্যুনালের নজরে আনার পর আদালত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার আগের আদেশটি বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি এসব কাগজপত্র কীভাবে সংগ্রহ করা হলো, তার ব্যাখ্যা দিতে কামরুলের আইনজীবীদের ১৫ দিনের সময় দিয়ে শোকজ করেছে ট্রাইব্যুনাল।"

তবে প্রসিকিউশনের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আফতাব মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, "ভুয়া কাগজপত্র দাখিলের কারণে আদালত শোকজ করেছে বলে চিফ প্রসিকিউটর গণমাধ্যমে যে দাবি করেছেন, তা সঠিক নয়। আদালতের মৌখিক আদেশে শোকজের মতো কোনো বিষয় ছিল না।"

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আদালত আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল— নিম্ন আদালতের যে আদেশের কথা বলা হচ্ছে, তার সার্টিফাইড কপি কোথায়? আমরা সময় চাওয়ায় আদালত বিস্তারিত তথ্য ও সার্টিফাইড কপি জমা দেওয়ার জন্য আমাদের ১৫ দিনের সময় মঞ্জুর করেছেন। চিফ প্রসিকিউটর মূল ঘটনা থেকে সরে গিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এখানে ভুয়া ডকুমেন্টের কোনো অস্তিত্বই নেই।"

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, চিকিৎসা নথিতে মারাত্মক কিছু অসংগতি রয়েছে। কামরুল ইসলাম ১৮ নভেম্বর ২০২৪ থেকে জেলহাজতে রয়েছেন। অথচ আসামিপক্ষ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের (ভবিষ্যতের তারিখ) মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করেছে।

তিনি বলেন, "জেলে থাকা অবস্থায় তিনি বাইরে গিয়ে কীভাবে ডাক্তারের কাছে গেলেন? ১৫ ফেব্রুয়ারির কাগজে কামরাঙ্গীরচরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক ডাক্তারের নাম রয়েছে, যেখানে ‘গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার’ নামক অদ্ভুত রোগের কথা লেখা। আবার জেলহাজতে থাকা অবস্থায় সিঙ্গাপুর থেকে আনা বলে দাবি করা আরেকটি পেপার দাখিল করা হয়েছে, যা আমাদের কাছে চরম সন্দেহজনক।" জেল কর্তৃপক্ষের মতে আসামির ডায়াবেটিস ও ডিমেনশিয়া ছাড়া গুরুতর কোনো রোগ নেই বলে জানান তিনি।

আসামিপক্ষের ব্যাখ্যা

এসব অভিযোগের বিপরীতে কামরুল ইসলামের  আইনজীবী আফতাব মাহমুদ বলেন, "ট্রাইব্যুনাল এভারকেয়ারে স্থানান্তরের যে নির্দেশ আগে দিয়েছিল, তা আমাদের জমা দেওয়া নথির ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং পিজি হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছিল।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা আদালতে যা জমা দিয়েছিলাম, সেটি কোনো মেডিকেল রিপোর্ট নয়, রোগীর একটি 'কেস সামারি'। যেহেতু তিনি জেলে, তাই উনার চিকিৎসক ছেলের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই হিস্ট্রি দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ ছিল তিনি ২০১৭ সাল থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত।"

সিঙ্গাপুরের রিপোর্টের বিষয়ে এই আইনজীবী জানান, নিম্ন আদালতের অনুমতি নিয়েই পিজিতে আসামির কিছু ব্যয়বহুল টেস্ট করানো হয়েছিল। রোগীর পক্ষে বিদেশে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায়, পিজিতে হওয়া টেস্টের রিপোর্টগুলো নিজ খরচে সিঙ্গাপুরে তার পূর্বতন চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয় এবং চিকিৎসক সেটি দেখে একটি প্রেসক্রিপশন দেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো জালিয়াতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

কামরুল ও মেননের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

এদিকে, চিকিৎসা নথির বিতর্কের দিনেই শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার ও কারফিউ জারির 'প্ররোচনা' দেওয়ার অভিযোগে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে তিনটি চার্জ বা অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তাদের ষড়যন্ত্রে রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশ এলাকায় ২৩ জন নিহত হন বলে অভিযোগে বলা হয়।

এর আগে আসামিপক্ষের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মেনন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। অন্যদিকে কামরুল ইসলাম অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ৯ জুন পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত