সংবাদ

আদালতকক্ষে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ: মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ সাংবাদিকদের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

আদালতকক্ষে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ: মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ সাংবাদিকদের

সুপ্রিম কোর্টের আদালতকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে সর্বোচ্চ আদালতের সব ধরনের সংবাদ বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

র‌বিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি পালন করে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম (এসআরএফ)।

গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসলেও গত চার মাস ধরে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রধান বিচারপতি হিসেবে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এজলাস কক্ষগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশে মৌখিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে তারা জানান।

​বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে এমন পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে এসআরএফ-এর সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম বলেন, “আজকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এই দিনেও সারা বিশ্বে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বিভিন্ন জায়গায় বাধাগ্রস্ত ও নির্যাতন করা হচ্ছে। আদালত কক্ষ হচ্ছে একটি পাবলিক প্লেস, যেখানে বিচার কার্যক্রম সর্বসাধারণের পর্যবেক্ষণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তাই আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া কেবল পেশাগত প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং এটি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আদালতসহ সকল পাবলিক প্লেসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বজায় রাখা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

​কর্মসূচিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এসআরএফ সভাপতি মাস-উদ-দুর রহমান রানা বলেন, “আমরা এমন একটা বাস্তবতায় এখানে প্রতিবাদ করছি, যখন সারা বিশ্বে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হচ্ছে। অথচ আমাদের দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্র সুপ্রিম কোর্টে আমরা প্রবেশ করতে পারছি না। সর্বোচ্চ আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি রীতি বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধ করে দিয়েছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের ও কষ্টের।”

দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় এমন বাধা কি না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমরা যারা এখানে কাজ করি, এটাই কি আমাদের অপরাধ যে আমরা সুপ্রিম কোর্টের দুর্নীতি, অনিয়ম এগুলো নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করি? যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আমরা বলতে চাই, আপনি যদি প্রবেশাধিকার বন্ধও করে দেন, আমাদের কলম চলবে। আমরা আমাদের সংবাদ প্রকাশ করতেই থাকবো এবং সকলকে সাথে নিয়ে আমরা সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশাধিকার ফেরত চাই।”

​দাবি পূরণ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রানা আরও বলেন, “সাংবাদিকরা ব্যক্তিগত কোনো লাভের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যান না। সেক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি যদি আমাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করেন, তাহলে আমরা কঠোর থেকে কঠোরতর হতে বাধ্য হবো। আমরা প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের সকল সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করে দেবো।”

প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা আবারো একতাবদ্ধ হয়ে বলবো, আপনি অবিলম্বে সর্বোচ্চ আদালতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার খুলে দিন। অন্যথায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য সুপ্রিম কোর্ট দায়ী থাকবে।”

মানববন্ধনে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ সুপ্রিম কোর্ট বিটে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


আদালতকক্ষে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ: মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ সাংবাদিকদের

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

সুপ্রিম কোর্টের আদালতকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে সর্বোচ্চ আদালতের সব ধরনের সংবাদ বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

র‌বিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি পালন করে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম (এসআরএফ)।

গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসলেও গত চার মাস ধরে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রধান বিচারপতি হিসেবে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এজলাস কক্ষগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশে মৌখিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে তারা জানান।

​বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে এমন পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে এসআরএফ-এর সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম বলেন, “আজকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এই দিনেও সারা বিশ্বে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বিভিন্ন জায়গায় বাধাগ্রস্ত ও নির্যাতন করা হচ্ছে। আদালত কক্ষ হচ্ছে একটি পাবলিক প্লেস, যেখানে বিচার কার্যক্রম সর্বসাধারণের পর্যবেক্ষণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তাই আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া কেবল পেশাগত প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং এটি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আদালতসহ সকল পাবলিক প্লেসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বজায় রাখা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

​কর্মসূচিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এসআরএফ সভাপতি মাস-উদ-দুর রহমান রানা বলেন, “আমরা এমন একটা বাস্তবতায় এখানে প্রতিবাদ করছি, যখন সারা বিশ্বে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হচ্ছে। অথচ আমাদের দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্র সুপ্রিম কোর্টে আমরা প্রবেশ করতে পারছি না। সর্বোচ্চ আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি রীতি বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধ করে দিয়েছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের ও কষ্টের।”

দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় এমন বাধা কি না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমরা যারা এখানে কাজ করি, এটাই কি আমাদের অপরাধ যে আমরা সুপ্রিম কোর্টের দুর্নীতি, অনিয়ম এগুলো নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করি? যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আমরা বলতে চাই, আপনি যদি প্রবেশাধিকার বন্ধও করে দেন, আমাদের কলম চলবে। আমরা আমাদের সংবাদ প্রকাশ করতেই থাকবো এবং সকলকে সাথে নিয়ে আমরা সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশাধিকার ফেরত চাই।”

​দাবি পূরণ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রানা আরও বলেন, “সাংবাদিকরা ব্যক্তিগত কোনো লাভের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যান না। সেক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি যদি আমাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করেন, তাহলে আমরা কঠোর থেকে কঠোরতর হতে বাধ্য হবো। আমরা প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের সকল সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করে দেবো।”

প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা আবারো একতাবদ্ধ হয়ে বলবো, আপনি অবিলম্বে সর্বোচ্চ আদালতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার খুলে দিন। অন্যথায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য সুপ্রিম কোর্ট দায়ী থাকবে।”

মানববন্ধনে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ সুপ্রিম কোর্ট বিটে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত