মে মাসে বেসরকারি এলপি গ্যাসের দাম কেজিতে ৫ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাসার রান্নায় বেশী ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ায়নি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
রবিবার সংবাদ সম্মেলনে কমিশন নতুন যে মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে মে মাসের জন্য বেসরকারি এলপি গ্যাসের (এলপিজি) খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৬১ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এপ্রিলের দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ানোর পর প্রতি কেজির মূল্য ছিল ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা। সে হিসাবে কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ পয়সা।
তবে বিইআরসির ঘোষণায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ি, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৯৪১ টাকা হওয়ার কথা।
বাজারে সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত যেসব সিলিন্ডার রয়েছে, প্রতি কেজির দাম অনুযায়ি সেগুলোর মধ্যে কয়েকটির দাম ১ টাকা এবং কয়েকটির দাম ২ টাকা বেড়েছে।
বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কমিশন না বাড়ালেও বাজার থেকে বাড়তি দামে এই সিলিন্ডার কিনতে হয় সাধারণ মানুষকে। কমিশন ঘোষিত দামে কখনোই সিলিন্ডার পাওয়া যায় না, এমন অভিযোগ সব সময়ই পাওয়া যায়।
এপ্রিলে দুই দফায় ৫৯৯ টাকা বাড়ানোর পর ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা হয়েছিল।
মে মাসের জন্য গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটোগ্যাস) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা। এপ্রিলে দুই দফা বাড়ার পর এর দাম ছিল প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা।
এলপি গ্যাসের দাম প্রতি মাসে একবার সমন্বয় করা হলেও এপ্রিলে দুইবার সমন্বয় করেছিল বিইআরসি।
গত ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। এরপর গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি।
অটোগ্যাসের দামও এপ্রিলে দুবার সমন্বয় করা হয়েছিল। গত ২ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ১৯ এপ্রিল আবার ৯ টাকা ৭৩ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে বিইআরসি।
মে মাসের জন্য সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারির আদেশ অনুযায়ী সরকারি এলপিজির ডিলার বা রিটেইলার পয়েন্টে সাদেড় ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ৭৭৬ দশমিক ৯৩ টাকা বহাল রাখা হয়েছে।
১ শতাংশের কম সরকারি এলপিজি
দেশে মোট চাহিদার এক শতাংশের কম এলপিজি সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়। ৯৯ শতাংশের বেশী বাজার বেসরকারি কোম্পানির দখলে। বিইআরসি প্রতি মাসেই দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে এই দামে এলপি গ্যাস পাওয়া যায় না, এমন অভিযোগ ভোক্তাদের কাছ থেকে সব সময়ই আসছে।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিলে সবশেষ নির্ধারণ করা ১ হাজার ৯৪০ টাকায় ১২ কেজি সিলিন্ডার মেলে না কোন দোকানে। আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা বাড়তি দিয়ে কিনতে হয় এই সিলিন্ডার।
তবে বিইআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কমিশন সদস্যদের দাবি, তারা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেন। এছাড়া, বাজার নজরদারিতে রাখতে ভোক্তা অধিদপ্তর ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন; তাদের তরফেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বেশি দাম, অভিযোগ সংসদে
বাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এলপিজির দাম বেশি রাখার অভিযোগ তুলেছেন। গত ২৩ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে তিনি বলেন, “সরকারি নির্ধারিত দাম ১৯৪০ টাকা হলেও বাজারে ২২০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।”
এর আগে, গত ২ এপ্রিল এলপি গ্যাসের অনিয়ন্ত্রিত বাজার নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির সংসদ সদস্য (ঢাকা-১৯) দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
দেশে বহুল ব্যবহৃত বসুন্ধরা, ওমেরা, ইউনাইটেড, পেট্রম্যাক্স, বেক্সিমকো, সেনা, ফ্রেশ এলপিজি কোম্পানির ১২ কেজির সিলিন্ডারের কথা উল্লেখ করে এই এমপি বলেন, “সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য হলো ১৩৪১ (মার্চ মাসের জন্য নির্ধারিত) টাকা। কিন্তু এই প্রক্যেকটা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার, বাইশশ’, ছাব্বিশশ’ টাকা করে।”
সিন্ডিকেট মুক্ত হবে কবে?
সরকারি দলের এই এমপি প্রশ্ন রাখেন, “এখনো যদি এই সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে কবে সাধারণ মানুষ মুক্ত হবে? সরকার নির্ধারিত মূল্যে কবে মানুষ এলপিজি পাবে?”
জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “সরকার থেকে যেন এই সিলিন্ডার করতে পারি, সে পরিকল্পনা করছি। আশা করি, অতি দ্রুত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে, সরকারের পক্ষ থেকে এই সিলিন্ডার বিক্রি করা হবে।”
উচ্চ আদালতের আদেশে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত।
এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।

রোববার, ০৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
মে মাসে বেসরকারি এলপি গ্যাসের দাম কেজিতে ৫ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাসার রান্নায় বেশী ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ায়নি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
রবিবার সংবাদ সম্মেলনে কমিশন নতুন যে মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে মে মাসের জন্য বেসরকারি এলপি গ্যাসের (এলপিজি) খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৬১ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এপ্রিলের দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ানোর পর প্রতি কেজির মূল্য ছিল ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা। সে হিসাবে কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ পয়সা।
তবে বিইআরসির ঘোষণায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ি, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৯৪১ টাকা হওয়ার কথা।
বাজারে সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত যেসব সিলিন্ডার রয়েছে, প্রতি কেজির দাম অনুযায়ি সেগুলোর মধ্যে কয়েকটির দাম ১ টাকা এবং কয়েকটির দাম ২ টাকা বেড়েছে।
বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কমিশন না বাড়ালেও বাজার থেকে বাড়তি দামে এই সিলিন্ডার কিনতে হয় সাধারণ মানুষকে। কমিশন ঘোষিত দামে কখনোই সিলিন্ডার পাওয়া যায় না, এমন অভিযোগ সব সময়ই পাওয়া যায়।
এপ্রিলে দুই দফায় ৫৯৯ টাকা বাড়ানোর পর ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা হয়েছিল।
মে মাসের জন্য গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটোগ্যাস) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা। এপ্রিলে দুই দফা বাড়ার পর এর দাম ছিল প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা।
এলপি গ্যাসের দাম প্রতি মাসে একবার সমন্বয় করা হলেও এপ্রিলে দুইবার সমন্বয় করেছিল বিইআরসি।
গত ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। এরপর গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি।
অটোগ্যাসের দামও এপ্রিলে দুবার সমন্বয় করা হয়েছিল। গত ২ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ১৯ এপ্রিল আবার ৯ টাকা ৭৩ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে বিইআরসি।
মে মাসের জন্য সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারির আদেশ অনুযায়ী সরকারি এলপিজির ডিলার বা রিটেইলার পয়েন্টে সাদেড় ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ৭৭৬ দশমিক ৯৩ টাকা বহাল রাখা হয়েছে।
১ শতাংশের কম সরকারি এলপিজি
দেশে মোট চাহিদার এক শতাংশের কম এলপিজি সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়। ৯৯ শতাংশের বেশী বাজার বেসরকারি কোম্পানির দখলে। বিইআরসি প্রতি মাসেই দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে এই দামে এলপি গ্যাস পাওয়া যায় না, এমন অভিযোগ ভোক্তাদের কাছ থেকে সব সময়ই আসছে।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিলে সবশেষ নির্ধারণ করা ১ হাজার ৯৪০ টাকায় ১২ কেজি সিলিন্ডার মেলে না কোন দোকানে। আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা বাড়তি দিয়ে কিনতে হয় এই সিলিন্ডার।
তবে বিইআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কমিশন সদস্যদের দাবি, তারা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেন। এছাড়া, বাজার নজরদারিতে রাখতে ভোক্তা অধিদপ্তর ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন; তাদের তরফেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বেশি দাম, অভিযোগ সংসদে
বাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এলপিজির দাম বেশি রাখার অভিযোগ তুলেছেন। গত ২৩ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে তিনি বলেন, “সরকারি নির্ধারিত দাম ১৯৪০ টাকা হলেও বাজারে ২২০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।”
এর আগে, গত ২ এপ্রিল এলপি গ্যাসের অনিয়ন্ত্রিত বাজার নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির সংসদ সদস্য (ঢাকা-১৯) দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
দেশে বহুল ব্যবহৃত বসুন্ধরা, ওমেরা, ইউনাইটেড, পেট্রম্যাক্স, বেক্সিমকো, সেনা, ফ্রেশ এলপিজি কোম্পানির ১২ কেজির সিলিন্ডারের কথা উল্লেখ করে এই এমপি বলেন, “সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য হলো ১৩৪১ (মার্চ মাসের জন্য নির্ধারিত) টাকা। কিন্তু এই প্রক্যেকটা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার, বাইশশ’, ছাব্বিশশ’ টাকা করে।”
সিন্ডিকেট মুক্ত হবে কবে?
সরকারি দলের এই এমপি প্রশ্ন রাখেন, “এখনো যদি এই সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে কবে সাধারণ মানুষ মুক্ত হবে? সরকার নির্ধারিত মূল্যে কবে মানুষ এলপিজি পাবে?”
জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “সরকার থেকে যেন এই সিলিন্ডার করতে পারি, সে পরিকল্পনা করছি। আশা করি, অতি দ্রুত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে, সরকারের পক্ষ থেকে এই সিলিন্ডার বিক্রি করা হবে।”
উচ্চ আদালতের আদেশে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত।
এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।

আপনার মতামত লিখুন