সংবাদ

শেরপুরে জমে উঠেছে মৌসুমি কৃষি শ্রমিকের হাট


প্রতিনিধি, শেরপুর (বগুড়া)
প্রতিনিধি, শেরপুর (বগুড়া)
প্রকাশ: ৬ মে ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

শেরপুরে জমে উঠেছে মৌসুমি কৃষি শ্রমিকের হাট
ভোরের আলো ফোটার আগেই শ্রমিকদের ভিড়। ছবি : সংবাদ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে মৌসুমি কৃষি শ্রমিকের হাট। প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই উপজেলার শেরপুর-ধুনট সড়কের আলীয়া মাদরাসা গেট সংলগ্ন করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে কয়েক’শ শ্রমিকের জমায়েত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘কামলার হাট’ নামে পরিচিত।

বুধবার (৬ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর সাড়ে চারটা থেকে শুরু হওয়া এই হাটে স্থানীয় শ্রমিকদের পাশাপাশি রংপুর, নীলফামারী ও বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজের সন্ধানে এসেছেন। সকাল আটটা পর্যন্ত চলে শ্রমিক কেনাবেচার এই ধুম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকের সংখ্যা কমতে থাকে।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে বোরো ধান কাটার ভরপুর মৌসুম চলায় শ্রমিকের চাহিদা তুঙ্গে। শেরপুরের আমইন, বোডেরহাট, দারুগ্রাম, চন্ডেশ্বর, পানিসারা, খানপুর, খামারকান্দি ও ঘোড়দৌড় গ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকেরা এই হাটে ভিড় করেন। দূরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকেরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে কাজে যোগ দেন।

হাটে আসা শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের সেরুয়া গ্রামের কৃষক হানিফ উদ্দিন জানান, তিনি তাঁর আড়াই বিঘা জমির ধান কাটার জন্য ৯০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে ১৪ জন শ্রমিক নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ধান পেকে গেছে, কিন্তু আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনিশ্চিত। তাই দ্রুত ধান ঘরে তুলতে বাড়তি মজুরিতে শ্রমিক নিতে হচ্ছে।’ বর্তমানে বাজারে একেকজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।

কুসুম্বি ইউনিয়নের বোডের হাট থেকে আসা শ্রমিক জলিল মিয়া ও রহমত জানান, এই হাটে এলে সহজেই কাজ পাওয়া যায়। প্রতি বছরই তারা এই মৌসুমে ধান কাটতে আসেন। থাকা-খাওয়াসহ এক মাস কাজ করলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় করে বাড়ি ফেরা সম্ভব হয়।

বোরো মৌসুমের এই ব্যস্ততা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত এই শ্রমিকের হাট জমজমাট থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


শেরপুরে জমে উঠেছে মৌসুমি কৃষি শ্রমিকের হাট

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে মৌসুমি কৃষি শ্রমিকের হাট। প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই উপজেলার শেরপুর-ধুনট সড়কের আলীয়া মাদরাসা গেট সংলগ্ন করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে কয়েক’শ শ্রমিকের জমায়েত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘কামলার হাট’ নামে পরিচিত।

বুধবার (৬ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর সাড়ে চারটা থেকে শুরু হওয়া এই হাটে স্থানীয় শ্রমিকদের পাশাপাশি রংপুর, নীলফামারী ও বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজের সন্ধানে এসেছেন। সকাল আটটা পর্যন্ত চলে শ্রমিক কেনাবেচার এই ধুম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকের সংখ্যা কমতে থাকে।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে বোরো ধান কাটার ভরপুর মৌসুম চলায় শ্রমিকের চাহিদা তুঙ্গে। শেরপুরের আমইন, বোডেরহাট, দারুগ্রাম, চন্ডেশ্বর, পানিসারা, খানপুর, খামারকান্দি ও ঘোড়দৌড় গ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকেরা এই হাটে ভিড় করেন। দূরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকেরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে কাজে যোগ দেন।

হাটে আসা শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের সেরুয়া গ্রামের কৃষক হানিফ উদ্দিন জানান, তিনি তাঁর আড়াই বিঘা জমির ধান কাটার জন্য ৯০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে ১৪ জন শ্রমিক নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ধান পেকে গেছে, কিন্তু আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনিশ্চিত। তাই দ্রুত ধান ঘরে তুলতে বাড়তি মজুরিতে শ্রমিক নিতে হচ্ছে।’ বর্তমানে বাজারে একেকজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।

কুসুম্বি ইউনিয়নের বোডের হাট থেকে আসা শ্রমিক জলিল মিয়া ও রহমত জানান, এই হাটে এলে সহজেই কাজ পাওয়া যায়। প্রতি বছরই তারা এই মৌসুমে ধান কাটতে আসেন। থাকা-খাওয়াসহ এক মাস কাজ করলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় করে বাড়ি ফেরা সম্ভব হয়।

বোরো মৌসুমের এই ব্যস্ততা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত এই শ্রমিকের হাট জমজমাট থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত