সংবাদ

ঝুঁকি নিয়ে ইছামতী পার হচ্ছে হালদারপাড়াবাসী

স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও মেলেনি সেতু


প্রতিনিধি, মহেশপুর(ঝিনাইদহ)
প্রতিনিধি, মহেশপুর(ঝিনাইদহ)
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও মেলেনি সেতু
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পাড় হচ্ছেন ইউএনও মো. সাজ্জাদ হোসেন। ছবি : সংবাদ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্যামকুড় ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর হালদারপাড়া গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিয়ে দৈনিক সংবাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে 'স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও মেলেনি সেতু, ঝুঁকি নিয়ে ইছামতী পার', শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল পাঁচটার দিকে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি ইছামতী নদীর ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো নিজে হেঁটে পার হন এবং স্থানীয় নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র দেখেন। তিন দিক নদী ও এক দিকে ভারতীয় সীমান্তবেষ্টিত হালদারপাড়া গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখনো এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কয়েক শতাধিক মানুষ চলাচল করছেন এ পথে।স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন দপ্তরের আশ্বাস মিললেও আজ পর্যন্ত সেখানে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে সাঁকো পারাপার করে। অনেক সময় শিশু শিক্ষার্থীরা বই-খাতাসহ নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। কৃষকদের ফসল, সার ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।

শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বলেন, হালদারপাড়ার মানুষের এই কষ্ট অনেক পুরোনো। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ সহজ হবে না, পুরো এলাকার মানুষের জীবনমান বদলে যাবে।

উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার আকাশ জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বাস্তবে এসে মানুষের দুর্ভোগ দেখে বিষয়টির গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি। সীমান্তবর্তী এই জনপদের মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি স্থায়ী সেতু অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এদিকে মহেশপুর-কোটচাঁদপুর ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান সম্প্রতি জাতীয় সংসদে হালদারপাড়ার মানুষের এই দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইছামতীর বুকে একটি সেতু শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি হবে সীমান্তবর্তী অবহেলিত মানুষের স্বপ্নের সেতুবন্ধন।প্রশাসনের সরেজমিন পরিদর্শন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন হালদারপাড়াবাসী। এখন তাদের একটাই দাবি, বহু বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত নির্মাণ করা হোক একটি নিরাপদ স্থায়ী সেতু।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও মেলেনি সেতু

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্যামকুড় ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর হালদারপাড়া গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিয়ে দৈনিক সংবাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে 'স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও মেলেনি সেতু, ঝুঁকি নিয়ে ইছামতী পার', শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল পাঁচটার দিকে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি ইছামতী নদীর ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো নিজে হেঁটে পার হন এবং স্থানীয় নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র দেখেন। তিন দিক নদী ও এক দিকে ভারতীয় সীমান্তবেষ্টিত হালদারপাড়া গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখনো এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কয়েক শতাধিক মানুষ চলাচল করছেন এ পথে।স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন দপ্তরের আশ্বাস মিললেও আজ পর্যন্ত সেখানে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে সাঁকো পারাপার করে। অনেক সময় শিশু শিক্ষার্থীরা বই-খাতাসহ নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। কৃষকদের ফসল, সার ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।

শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বলেন, হালদারপাড়ার মানুষের এই কষ্ট অনেক পুরোনো। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ সহজ হবে না, পুরো এলাকার মানুষের জীবনমান বদলে যাবে।

উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার আকাশ জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বাস্তবে এসে মানুষের দুর্ভোগ দেখে বিষয়টির গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি। সীমান্তবর্তী এই জনপদের মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি স্থায়ী সেতু অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এদিকে মহেশপুর-কোটচাঁদপুর ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান সম্প্রতি জাতীয় সংসদে হালদারপাড়ার মানুষের এই দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইছামতীর বুকে একটি সেতু শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি হবে সীমান্তবর্তী অবহেলিত মানুষের স্বপ্নের সেতুবন্ধন।প্রশাসনের সরেজমিন পরিদর্শন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন হালদারপাড়াবাসী। এখন তাদের একটাই দাবি, বহু বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত নির্মাণ করা হোক একটি নিরাপদ স্থায়ী সেতু।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত