সংবাদ

৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন সুন্দরবনে অপহৃত ১১ জেলে


প্রতিনিধি, শরণখোলা (বাগেরহাট)
প্রতিনিধি, শরণখোলা (বাগেরহাট)
প্রকাশ: ৯ মে ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন সুন্দরবনে অপহৃত ১১ জেলে
ছবি : সংগৃহীত

সুন্দরবনের বনদস্যুদের হাতে সাত দিন শিকলবন্দি থাকার পর ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জেলে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় তারা বাগেরহাটের শরণখোলার নিজ বাড়িতে পৌঁছান। এর আগে গত ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’ তাদের অপহরণ করেছিল।

মুক্ত হয়ে ফিরে আসা জেলেরা জানান, অপহরণের তিন দিন পর ৫ মে অপর এক বনদস্যু দল ‘শরীফ বাহিনী’র সঙ্গে জাহাঙ্গীর বাহিনীর গোলাগুলি হয়। এতে জাহাঙ্গীর বাহিনীকে পরাস্ত করে অপহৃত জেলেদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় শরীফ বাহিনী। এরপর দস্যুরা তাদের সুন্দরবনের কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে।

শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার (৩০) জানান, ৩ মে রাতে তাদের অপহরণ করার পর জাহাঙ্গীর বাহিনী অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং তাদের পায়ে শিকল পরিয়ে রাখে। মুক্তিপণ পাওয়ার পর শুক্রবার ভোরে শরীফ বাহিনী তাদের নৌকায় করে সুন্দরবনের ধানসাগর এলাকার আড়ুয়ার বেড় নদীর মোহনায় নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার হেঁটে তারা লোকালয়ে পৌঁছান।

ফিরে আসা অন্য জেলেরা হলেন-উত্তর রাজাপুর গ্রামের ছবি (৩২), রাকিব (২৩), লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজীব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০) ও ইয়াসিন হাওলাদার (২৩)। এ ছাড়া মুক্তি পেয়েছেন বরগুনার পাথরঘাটার রুবেল (২৫) ও খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)।

নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, বনদস্যুরা প্রথমে প্রতি জেলের জন্য ১ লাখ টাকা দাবি করেছিল। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭০ হাজার টাকা হিসেবে মোট ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে আনা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ফিরে আসার বিষয়টি পুলিশের জানা নেই। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন সুন্দরবনে অপহৃত ১১ জেলে

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

সুন্দরবনের বনদস্যুদের হাতে সাত দিন শিকলবন্দি থাকার পর ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জেলে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় তারা বাগেরহাটের শরণখোলার নিজ বাড়িতে পৌঁছান। এর আগে গত ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’ তাদের অপহরণ করেছিল।

মুক্ত হয়ে ফিরে আসা জেলেরা জানান, অপহরণের তিন দিন পর ৫ মে অপর এক বনদস্যু দল ‘শরীফ বাহিনী’র সঙ্গে জাহাঙ্গীর বাহিনীর গোলাগুলি হয়। এতে জাহাঙ্গীর বাহিনীকে পরাস্ত করে অপহৃত জেলেদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় শরীফ বাহিনী। এরপর দস্যুরা তাদের সুন্দরবনের কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে।

শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার (৩০) জানান, ৩ মে রাতে তাদের অপহরণ করার পর জাহাঙ্গীর বাহিনী অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং তাদের পায়ে শিকল পরিয়ে রাখে। মুক্তিপণ পাওয়ার পর শুক্রবার ভোরে শরীফ বাহিনী তাদের নৌকায় করে সুন্দরবনের ধানসাগর এলাকার আড়ুয়ার বেড় নদীর মোহনায় নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার হেঁটে তারা লোকালয়ে পৌঁছান।

ফিরে আসা অন্য জেলেরা হলেন-উত্তর রাজাপুর গ্রামের ছবি (৩২), রাকিব (২৩), লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজীব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০) ও ইয়াসিন হাওলাদার (২৩)। এ ছাড়া মুক্তি পেয়েছেন বরগুনার পাথরঘাটার রুবেল (২৫) ও খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)।

নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, বনদস্যুরা প্রথমে প্রতি জেলের জন্য ১ লাখ টাকা দাবি করেছিল। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭০ হাজার টাকা হিসেবে মোট ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে আনা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ফিরে আসার বিষয়টি পুলিশের জানা নেই। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত