সংবাদ

কালীগঞ্জে সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ


প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১২:২২ পিএম

কালীগঞ্জে সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ
মাদ্রাসায় মজুত করে রাখা সরকারি চালের বস্তা। ছবি : সংবাদ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের তালিকায় মৃত ও প্রবাসীদের নাম রেখে নিয়মিত চাল উত্তোলন করে তা বেশি দামে বিক্রির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি একটি মাদ্রাসায় সরকারি চালের বস্তা পাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল তুমলিয়া ইউনিয়নের একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় সরকারি মনোগ্রামযুক্ত ৪০টির বেশি চালের বস্তা দেখতে পান স্থানীয়রা। মাদ্রাসার সুপার আরিফ উল্লাহ জানান, ডিলারের প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া রুবেল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ৪২ বস্তা চাল কিনেছেন। প্রতি বস্তার দাম পড়েছে ১,০৫০ টাকা। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কার্ডধারী হতদরিদ্রদের জন্য ৩০ কেজির প্রতি বস্তা চালের দাম মাত্র ৪৫০ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, নাগরী ইউনিয়নের ডিলার সেফালী বেগমের পক্ষে তার জামাতা এস এম রুবেল হাসান কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তালিকায় নাম থাকলেও অনেক সক্রিয় উপকারভোগী চাল পাচ্ছেন না। পরিবর্তে মৃত বা এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নামে প্রতি মাসে অন্তত ৭০ বস্তা চাল আত্মসাৎ করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এস এম রুবেল হাসান। তার দাবি, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাকিলা শারমিন বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়রা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


কালীগঞ্জে সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের তালিকায় মৃত ও প্রবাসীদের নাম রেখে নিয়মিত চাল উত্তোলন করে তা বেশি দামে বিক্রির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি একটি মাদ্রাসায় সরকারি চালের বস্তা পাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল তুমলিয়া ইউনিয়নের একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় সরকারি মনোগ্রামযুক্ত ৪০টির বেশি চালের বস্তা দেখতে পান স্থানীয়রা। মাদ্রাসার সুপার আরিফ উল্লাহ জানান, ডিলারের প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া রুবেল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ৪২ বস্তা চাল কিনেছেন। প্রতি বস্তার দাম পড়েছে ১,০৫০ টাকা। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কার্ডধারী হতদরিদ্রদের জন্য ৩০ কেজির প্রতি বস্তা চালের দাম মাত্র ৪৫০ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, নাগরী ইউনিয়নের ডিলার সেফালী বেগমের পক্ষে তার জামাতা এস এম রুবেল হাসান কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তালিকায় নাম থাকলেও অনেক সক্রিয় উপকারভোগী চাল পাচ্ছেন না। পরিবর্তে মৃত বা এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নামে প্রতি মাসে অন্তত ৭০ বস্তা চাল আত্মসাৎ করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এস এম রুবেল হাসান। তার দাবি, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাকিলা শারমিন বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়রা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত