সংবাদ

বন্যার প্রভাবে মৌলভীবাজারের পশুর হাটে মন্দাভাব


জেলা বার্তা পরিবেশক, মৌলভীবাজার
জেলা বার্তা পরিবেশক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

বন্যার প্রভাবে মৌলভীবাজারের পশুর হাটে মন্দাভাব
মৌলভীবাজারের টেংরা বাজারে সারি সারি গরু নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বিক্রেতারা। ছবিঃ সংবাদ

কোরবানির পশুর হাটে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে গরু, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা অনেক কম। গত কয়েক দিন ধরে মৌলভীবাজারের পশুর হাটগুলোয় এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে। তবে শেষ দুই দিনে বিক্রি জমজমাট হবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।

গরু ব্যবসায়ীদের মতে, চলতি বোরো মৌসুমে আকস্মিক বন্যায় জেলার প্রায় সব কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার রেশ পড়েছে কোরবানির পশুর বাজারে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার বোরো মৌসুমে ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মৌলভীবাজারে ২৫ হাজারেরও বেশি কৃষক কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এদিকে সব গরু বিক্রি হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন বিক্রেতারা। ইতিমধ্যে গৃহস্থদের প্রায় ৭৫ শতাংশেরও বেশি গরু ক্রেতা বা পাইকারেরা বাড়ি থেকেই কিনে নিয়েছেন। ফলে গৃহস্থদের হাতে এখন বিক্রির মতো গরু তেমন নেই, তবে পাইকারদের কাছে প্রচুর গরু রয়েছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে মৌলভীবাজারের দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু প্রবেশের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বাজারে পশুর সরবরাহ অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্রেতা এবার হাটে না গিয়ে সরাসরি খামার এবং ব্যক্তিগতভাবে লালন-পালনকারীদের বাড়ি থেকে পশু কিনছেন। এসব ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গৃহস্থের বাড়ি বা খামার থেকে গরু-ছাগল কিনলে তা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ওরাই দেখভাল করে এবং যথাসময়ে পৌঁছে দেয়। এতে কয়েক দিন পশু রাখার বা খাওয়ানোর ঝামেলা থাকে না। পাশাপাশি হাটে পশু কিনলে যে হাসিল (রসিদ ফি) দিতে হতো, তা-ও বেঁচে যায়। ফলে দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও সার্বিকভাবে খরচ কম পড়ে।

কমলগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়নের বনগাঁও এবং আদমপুর ইউনিয়নের উত্তরভাগ, মধ্যভাগ ও হেরেঙ্গা বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গৃহস্থরা তাদের বেশির ভাগ গরু বাড়িতেই বিক্রি করে দিয়েছেন। বনগাঁও গ্রামের চেরাগ মিয়া জানান, তার গরুটি এক পাইকার কিনেছিলেন, যিনি পরে সেটি এক কোরবানিদাতার কাছে বিক্রি করেন। ঈদের আগের দিন ওই ব্যবসায়ী গরুটি ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। পাশের বাড়ির আরেক গৃহস্থ তার দুটি গরু ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন, যা ঈদের আগের দিন পৌঁছে দেওয়া হবে। এই এলাকার অন্যতম বৃহৎ পশুর বাজার আদমপুরে গত শুক্রবার প্রচুর গরু-মহিষ উঠলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল বেশ কম।

রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজারেও কোরবানির পশু বেচাকেনার পরিস্থিতি একই রকম। ক্রেতারা দরদাম করলেও বিক্রি হচ্ছে কম। ক্রেতাদের অভিযোগ পশুর দাম বেশি, আর বিক্রেতাদের দাবি তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।

টেংরা বাজারে ১৫টি গরু নিয়ে আসা নিয়মিত ব্যবসায়ী রূপিয়ান মিয়া বলেন, ‘এবার বাজারের পরিস্থিতি ভালো নয়, ক্রেতা কম। যারা আসছেন, দরদামের ব্যবধান বেশি হওয়ায় কিনে ফিরছেন না। শেষ মুহূর্তে বাজার হয়তো খুব চড়া হবে, না হয় একেবারে মন্দা যাবে।’ তার মতে, বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ায় মানুষের হাতে টাকা কম। তাই ৮০-৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে ছোট আকৃতির গরুর চাহিদা এবার সবচেয়ে বেশি।

পৌর শহরের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বন্যায় ফসলের ক্ষতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের হাতে এখনো পর্যাপ্ত টাকা আসেনি। অন্য বছর ঈদের দুই দিন আগে যেখানে দোকানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না, এবার সেখানে বেচাকেনা বেশ ধীর।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


বন্যার প্রভাবে মৌলভীবাজারের পশুর হাটে মন্দাভাব

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

কোরবানির পশুর হাটে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে গরু, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা অনেক কম। গত কয়েক দিন ধরে মৌলভীবাজারের পশুর হাটগুলোয় এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে। তবে শেষ দুই দিনে বিক্রি জমজমাট হবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।

গরু ব্যবসায়ীদের মতে, চলতি বোরো মৌসুমে আকস্মিক বন্যায় জেলার প্রায় সব কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার রেশ পড়েছে কোরবানির পশুর বাজারে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার বোরো মৌসুমে ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মৌলভীবাজারে ২৫ হাজারেরও বেশি কৃষক কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এদিকে সব গরু বিক্রি হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন বিক্রেতারা। ইতিমধ্যে গৃহস্থদের প্রায় ৭৫ শতাংশেরও বেশি গরু ক্রেতা বা পাইকারেরা বাড়ি থেকেই কিনে নিয়েছেন। ফলে গৃহস্থদের হাতে এখন বিক্রির মতো গরু তেমন নেই, তবে পাইকারদের কাছে প্রচুর গরু রয়েছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে মৌলভীবাজারের দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু প্রবেশের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বাজারে পশুর সরবরাহ অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্রেতা এবার হাটে না গিয়ে সরাসরি খামার এবং ব্যক্তিগতভাবে লালন-পালনকারীদের বাড়ি থেকে পশু কিনছেন। এসব ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গৃহস্থের বাড়ি বা খামার থেকে গরু-ছাগল কিনলে তা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ওরাই দেখভাল করে এবং যথাসময়ে পৌঁছে দেয়। এতে কয়েক দিন পশু রাখার বা খাওয়ানোর ঝামেলা থাকে না। পাশাপাশি হাটে পশু কিনলে যে হাসিল (রসিদ ফি) দিতে হতো, তা-ও বেঁচে যায়। ফলে দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও সার্বিকভাবে খরচ কম পড়ে।

কমলগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়নের বনগাঁও এবং আদমপুর ইউনিয়নের উত্তরভাগ, মধ্যভাগ ও হেরেঙ্গা বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গৃহস্থরা তাদের বেশির ভাগ গরু বাড়িতেই বিক্রি করে দিয়েছেন। বনগাঁও গ্রামের চেরাগ মিয়া জানান, তার গরুটি এক পাইকার কিনেছিলেন, যিনি পরে সেটি এক কোরবানিদাতার কাছে বিক্রি করেন। ঈদের আগের দিন ওই ব্যবসায়ী গরুটি ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। পাশের বাড়ির আরেক গৃহস্থ তার দুটি গরু ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন, যা ঈদের আগের দিন পৌঁছে দেওয়া হবে। এই এলাকার অন্যতম বৃহৎ পশুর বাজার আদমপুরে গত শুক্রবার প্রচুর গরু-মহিষ উঠলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল বেশ কম।

রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজারেও কোরবানির পশু বেচাকেনার পরিস্থিতি একই রকম। ক্রেতারা দরদাম করলেও বিক্রি হচ্ছে কম। ক্রেতাদের অভিযোগ পশুর দাম বেশি, আর বিক্রেতাদের দাবি তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।

টেংরা বাজারে ১৫টি গরু নিয়ে আসা নিয়মিত ব্যবসায়ী রূপিয়ান মিয়া বলেন, ‘এবার বাজারের পরিস্থিতি ভালো নয়, ক্রেতা কম। যারা আসছেন, দরদামের ব্যবধান বেশি হওয়ায় কিনে ফিরছেন না। শেষ মুহূর্তে বাজার হয়তো খুব চড়া হবে, না হয় একেবারে মন্দা যাবে।’ তার মতে, বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ায় মানুষের হাতে টাকা কম। তাই ৮০-৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে ছোট আকৃতির গরুর চাহিদা এবার সবচেয়ে বেশি।

পৌর শহরের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বন্যায় ফসলের ক্ষতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের হাতে এখনো পর্যাপ্ত টাকা আসেনি। অন্য বছর ঈদের দুই দিন আগে যেখানে দোকানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না, এবার সেখানে বেচাকেনা বেশ ধীর।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত