সংবাদ

বৃষ্টি-ঈদের ছুটি কমিয়ে দিলো ঢাকার বায়ুদূষণ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

বৃষ্টি-ঈদের ছুটি কমিয়ে দিলো ঢাকার বায়ুদূষণ
বৃষ্টি-ঈদের ছুটি কমিয়ে দিলো ঢাকার বায়ুদূষণ

ঈদের ছুটি ও টানা বৃষ্টি যেন উপহার দিয়েছে ঢাকাবাসীকে। রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকা আর ধুলিকণা ধুয়ে যাওয়ায় রাজধানীর বায়ুর মানে দেখা গেছে লক্ষণীয় উন্নতি।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, দূষণের মাত্রায় ঢাকার স্কোর ৭৭। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান ১২৭টি শহরের তালিকায় ঢাকা আজ ১৯তম অবস্থানে রয়েছে। শহরটির বায়ুর মান ‘মাঝারি’ পর্যায়ে পড়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদে রাজধানীতে যানবাহন ও নির্মাণকাজ কমে যাওয়া এবং বৃষ্টি হওয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে কমে এসেছে। টানা বৃষ্টিতে ধুলাবালিও ধুয়ে গেছে। ফলে মেগাসিটি ঢাকার বাতাস আজ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

দূষণের তালিকায় ১৬৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ১৫৬। তৃতীয় স্থানে থাকা ফিলিপাইনের ম্যানিলার স্কোর ১১৯। চতুর্থ অবস্থানে চিলির সান্তিয়াগো (স্কোর ১১৪) এবং পঞ্চম স্থানে আলজেরিয়ার আলজিরাস (স্কোর ১১০)।

একিউআই মান অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোর থাকলে বায়ুর গুণমানকে ‘মাঝারি’ বলে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরের মধ্যে থাকলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। এ সময় সাধারণত শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

১৫১ থেকে ২০০ স্কোরের মধ্যে হলে বায়ু ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরের মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ বলে মনে করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে তাপমাত্রা কমে গেলে বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়ে, দূষিত কণাগুলো নিচের দিকে আটকে থাকে। এ কারণে সাধারণত শীতকালে ঢাকার বাতাস আরও বেশি দূষিত হয়। বায়ুদূষণের কারণে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

একিউআই সূচকের এই উন্নতি এলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি অস্থায়ী। বৃষ্টি থেমে গেলে আবারও বাড়তে পারে দূষণের মাত্রা। তাই দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


বৃষ্টি-ঈদের ছুটি কমিয়ে দিলো ঢাকার বায়ুদূষণ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

ঈদের ছুটি ও টানা বৃষ্টি যেন উপহার দিয়েছে ঢাকাবাসীকে। রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকা আর ধুলিকণা ধুয়ে যাওয়ায় রাজধানীর বায়ুর মানে দেখা গেছে লক্ষণীয় উন্নতি।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, দূষণের মাত্রায় ঢাকার স্কোর ৭৭। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান ১২৭টি শহরের তালিকায় ঢাকা আজ ১৯তম অবস্থানে রয়েছে। শহরটির বায়ুর মান ‘মাঝারি’ পর্যায়ে পড়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদে রাজধানীতে যানবাহন ও নির্মাণকাজ কমে যাওয়া এবং বৃষ্টি হওয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে কমে এসেছে। টানা বৃষ্টিতে ধুলাবালিও ধুয়ে গেছে। ফলে মেগাসিটি ঢাকার বাতাস আজ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

দূষণের তালিকায় ১৬৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ১৫৬। তৃতীয় স্থানে থাকা ফিলিপাইনের ম্যানিলার স্কোর ১১৯। চতুর্থ অবস্থানে চিলির সান্তিয়াগো (স্কোর ১১৪) এবং পঞ্চম স্থানে আলজেরিয়ার আলজিরাস (স্কোর ১১০)।

একিউআই মান অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোর থাকলে বায়ুর গুণমানকে ‘মাঝারি’ বলে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরের মধ্যে থাকলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। এ সময় সাধারণত শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

১৫১ থেকে ২০০ স্কোরের মধ্যে হলে বায়ু ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরের মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ বলে মনে করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে তাপমাত্রা কমে গেলে বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়ে, দূষিত কণাগুলো নিচের দিকে আটকে থাকে। এ কারণে সাধারণত শীতকালে ঢাকার বাতাস আরও বেশি দূষিত হয়। বায়ুদূষণের কারণে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

একিউআই সূচকের এই উন্নতি এলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি অস্থায়ী। বৃষ্টি থেমে গেলে আবারও বাড়তে পারে দূষণের মাত্রা। তাই দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত