পেটের ক্ষুধাই তাকে টেনে নিয়েছিল পাহাড়ের চূড়ায়। বর্ষায় সজিব হয়ে ওঠা গাছের লতাপাতা খুঁজতে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল একটি বন্য মা হাতি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া পাহাড়ি মাটি যেন তার জন্য লুকিয়ে রেখেছিল এক অদৃশ্য ফাঁদ।
হঠাৎ পা পিছলে যায়। বিশাল দেহটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাড়া ঢাল বেয়ে শত ফুট নিচে আছড়ে পড়ে। প্রচণ্ড আঘাতে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি সে। অসহায় চোখে চারপাশে তাকিয়ে কেবল নড়াচড়ার চেষ্টা- আর সেই দৃশ্য দেখে ছুটে আসেন স্থানীয় মানুষ, বন বিভাগের কর্মী ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকরা।
কক্সবাজারের টেকনাফে খাবারের খোঁজে পাহাড়ে উঠে প্রায় একশ ফুট উঁচু ঢাল থেকে পড়ে একটি বন্য মা হাতি গুরুতর আহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাতিটির পেছনের দুটি পা ভেঙে যেতে পারে। পেটে গুরুতর আঘাত লেগেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটায় তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই ঘটনাস্থলেই বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে চিকিৎসা চলছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর প্রায় ৩টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়া পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ জানায়, পাহাড়ে লতাপাতা খাওয়ার সময় টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় হাতিটির পা পিছলে যায়। এরপর খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় এবং আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি।
স্থানীয়রা হাতিটির করুণ অবস্থা দেখে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেন। খবর পেয়ে টেকনাফ রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তারা টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন।
টেকনাফ রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। চিকিৎসকরা হাতিটিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কয়েকদিন সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা দিতে পারলে এটি সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, হাতিটি গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে শুয়ে আছে। সামান্য নড়াচড়া করতে পারলেও পেছনের দুটি পা নাড়াতে পারছে না। পেটেও গুরুতর আঘাত রয়েছে।
তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে আসছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় হাতিটিকে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। তাই ঘটনাস্থলেই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে আবার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে। তবে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
পেটের ক্ষুধাই তাকে টেনে নিয়েছিল পাহাড়ের চূড়ায়। বর্ষায় সজিব হয়ে ওঠা গাছের লতাপাতা খুঁজতে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল একটি বন্য মা হাতি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া পাহাড়ি মাটি যেন তার জন্য লুকিয়ে রেখেছিল এক অদৃশ্য ফাঁদ।
হঠাৎ পা পিছলে যায়। বিশাল দেহটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাড়া ঢাল বেয়ে শত ফুট নিচে আছড়ে পড়ে। প্রচণ্ড আঘাতে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি সে। অসহায় চোখে চারপাশে তাকিয়ে কেবল নড়াচড়ার চেষ্টা- আর সেই দৃশ্য দেখে ছুটে আসেন স্থানীয় মানুষ, বন বিভাগের কর্মী ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকরা।
কক্সবাজারের টেকনাফে খাবারের খোঁজে পাহাড়ে উঠে প্রায় একশ ফুট উঁচু ঢাল থেকে পড়ে একটি বন্য মা হাতি গুরুতর আহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাতিটির পেছনের দুটি পা ভেঙে যেতে পারে। পেটে গুরুতর আঘাত লেগেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটায় তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই ঘটনাস্থলেই বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে চিকিৎসা চলছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর প্রায় ৩টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়া পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ জানায়, পাহাড়ে লতাপাতা খাওয়ার সময় টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় হাতিটির পা পিছলে যায়। এরপর খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় এবং আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি।
স্থানীয়রা হাতিটির করুণ অবস্থা দেখে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেন। খবর পেয়ে টেকনাফ রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তারা টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন।
টেকনাফ রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। চিকিৎসকরা হাতিটিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কয়েকদিন সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা দিতে পারলে এটি সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, হাতিটি গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে শুয়ে আছে। সামান্য নড়াচড়া করতে পারলেও পেছনের দুটি পা নাড়াতে পারছে না। পেটেও গুরুতর আঘাত রয়েছে।
তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে আসছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় হাতিটিকে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। তাই ঘটনাস্থলেই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে আবার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে। তবে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন