গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সড়কে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের অন্তত ১২টি স্থান ধসে যাওয়ায় ওই সড়ক দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে করে বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারসহ অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙন ঠেকাতে ও প্লাবন থেকে পরিত্রাণ পেতে বাঁধটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অব্যাহত বৃষ্টির কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ চরম দুর্বল হয়ে পড়েছে। একপর্যায়ে সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ ধসে যায়। ফলে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের মো. আতাউর রহমান (৬০) বলেন, ‘বাঁধ যেভাবে ধসে গেছে তাতে এই সড়ক দিয়ে আর যাতায়াত করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি আর উজানের পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমরা খুব আতঙ্কে আছি। ধসে যাওয়া স্থানগুলো দ্রুত মেরামত না করা হলে গ্রামকে গ্রাম পানিতে ভেসে যাবে। আমাদের ফসলি জমি ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হবে।’
শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. পলাশ মিয়া জানান, এই বাঁধটি শ্রীপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে এর কমপক্ষে ১২টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখনই যদি মেরামত করা না হয়, তবে চাপড়া, পুটিমারী, কুরুয়ার বাজার, বাবুর বাজারসহ অন্তত ১০টি গ্রাম ও বেশ কয়েকটি হাটবাজার প্লাবিত হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) জানানো হয়েছে।’
শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘গত বুধ ও বৃহস্পতিবারের টানা বৃষ্টিতে বাঁধের সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় ধস তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি আর সামান্য বাড়লেই লোকালয়ে পানি ঢুকবে। ফলে ইউনিয়নের বাকি অংশ প্লাবিত হয়ে নতুন করে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হবে, ডুবে যাবে ফসলি জমি এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়বে মানুষ।’
দুর্যোগের এমন মুহূর্তেও স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান এবং জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি অফিসে গিয়েও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে ধসে যাওয়া বাঁধ সংস্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত জানাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সড়কে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের অন্তত ১২টি স্থান ধসে যাওয়ায় ওই সড়ক দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে করে বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারসহ অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙন ঠেকাতে ও প্লাবন থেকে পরিত্রাণ পেতে বাঁধটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অব্যাহত বৃষ্টির কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ চরম দুর্বল হয়ে পড়েছে। একপর্যায়ে সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ ধসে যায়। ফলে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের মো. আতাউর রহমান (৬০) বলেন, ‘বাঁধ যেভাবে ধসে গেছে তাতে এই সড়ক দিয়ে আর যাতায়াত করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি আর উজানের পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমরা খুব আতঙ্কে আছি। ধসে যাওয়া স্থানগুলো দ্রুত মেরামত না করা হলে গ্রামকে গ্রাম পানিতে ভেসে যাবে। আমাদের ফসলি জমি ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হবে।’
শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. পলাশ মিয়া জানান, এই বাঁধটি শ্রীপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে এর কমপক্ষে ১২টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখনই যদি মেরামত করা না হয়, তবে চাপড়া, পুটিমারী, কুরুয়ার বাজার, বাবুর বাজারসহ অন্তত ১০টি গ্রাম ও বেশ কয়েকটি হাটবাজার প্লাবিত হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) জানানো হয়েছে।’
শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘গত বুধ ও বৃহস্পতিবারের টানা বৃষ্টিতে বাঁধের সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় ধস তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি আর সামান্য বাড়লেই লোকালয়ে পানি ঢুকবে। ফলে ইউনিয়নের বাকি অংশ প্লাবিত হয়ে নতুন করে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হবে, ডুবে যাবে ফসলি জমি এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়বে মানুষ।’
দুর্যোগের এমন মুহূর্তেও স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান এবং জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি অফিসে গিয়েও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে ধসে যাওয়া বাঁধ সংস্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত জানাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন