সংবাদ

​চামড়া পাচারের সুযোগ নেই, এবার রেকর্ড সংরক্ষণের আশা: বাণিজ্যমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

​চামড়া পাচারের সুযোগ নেই, এবার রেকর্ড সংরক্ষণের আশা: বাণিজ্যমন্ত্রী

কোরবানির চামড়া পাচার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা বা সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, পাচারের পথ বন্ধ থাকায় এবার বেশিরভাগ চামড়া সরাসরি ট্যানারি পর্যন্ত পৌঁছাবে। এর ফলে বিগত যেকোনো বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি সংখ্যক চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

​বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজার এলাকায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কেনা-বেচা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​চামড়া যেন নষ্ট বা পাচার না হতে পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "যেসব জায়গায় চামড়া এসে জড়ো হয়, তার প্রতিটি কেন্দ্রের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখানে আমাদের কর্মকর্তারা দিন-রাত কাজ করছেন। এছাড়া প্রতিটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আমরা সমন্বয় রাখছি।"

​তিনি আরও জানান, ঢাকা এবং দেশের প্রতিটি জেলা সদরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তাই চামড়া পাচারের কোনো সুযোগ নেই। এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে, চামড়া অক্ষত রেখে সময়মতো লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা, যেন এগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা যায়।

​বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চামড়া শিল্পকে পুরোপুরি বিকশিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এই খাত থেকে বেশি বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সেজন্য আমরা চামড়াজাত পণ্য বেশি রপ্তানি করতে চাই। আগামী দিনে দেশের শতভাগ কোরবানির চামড়া যেন সংরক্ষণ ও রপ্তানি খাতে ব্যবহার করা যায়, সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।"

​সাভার চামড়া শিল্পনগরীর (বিসিক) বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সাভারের সিইটিপি (CETP)-র সমস্যা সমাধান করা হবে। এছাড়া হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরিত হতে গিয়ে যে সমস্ত ট্যানারি রুগ্ন হয়ে পড়েছে বা এখনো ব্যবসা শুরু করতে পারেনি, তাদের বিষয়ে একটি স্থায়ী ফয়সালায় পৌঁছানো হবে।

​চামড়ার সঠিক দাম পাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বলেন, "কোরবানির পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি চামড়ায় লবণ মাখানো না হয়, তবে তা নষ্ট হতে শুরু করে। তাই যারা চামড়া সংগ্রহের পর দ্রুত লবণ মাখিয়ে ক্রেতার কাছে নিয়ে যাবেন, তারাই চামড়ার প্রকৃত ও ন্যায্য মূল্য পাবেন।"

​এদিকে, ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই সাভারের বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর ট্যানারিগুলোতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করেছে।

​বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত সাভার শিল্পনগরীতে মোট ৩৪১টি ট্রাকে করে ৭৯ হাজার ২১৮টি কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৭৫ হাজার ৫১৫টি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া রয়েছে ৭০৩টি।

​তিনি আরও জানান, চামড়াবাহী ট্রাকের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হরিণধরা এলাকা থেকে চামড়া শিল্প নগরী পর্যন্ত 'ওয়ান-ওয়ে' বা একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিসিক, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। দিন ও রাতে দুই শিফটে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত আছেন এবং এক ঘণ্টা পর পর মাঠ পর্যায়ে টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


​চামড়া পাচারের সুযোগ নেই, এবার রেকর্ড সংরক্ষণের আশা: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

কোরবানির চামড়া পাচার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা বা সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, পাচারের পথ বন্ধ থাকায় এবার বেশিরভাগ চামড়া সরাসরি ট্যানারি পর্যন্ত পৌঁছাবে। এর ফলে বিগত যেকোনো বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি সংখ্যক চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

​বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজার এলাকায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কেনা-বেচা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​চামড়া যেন নষ্ট বা পাচার না হতে পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "যেসব জায়গায় চামড়া এসে জড়ো হয়, তার প্রতিটি কেন্দ্রের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখানে আমাদের কর্মকর্তারা দিন-রাত কাজ করছেন। এছাড়া প্রতিটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আমরা সমন্বয় রাখছি।"

​তিনি আরও জানান, ঢাকা এবং দেশের প্রতিটি জেলা সদরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তাই চামড়া পাচারের কোনো সুযোগ নেই। এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে, চামড়া অক্ষত রেখে সময়মতো লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা, যেন এগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা যায়।

​বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চামড়া শিল্পকে পুরোপুরি বিকশিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এই খাত থেকে বেশি বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সেজন্য আমরা চামড়াজাত পণ্য বেশি রপ্তানি করতে চাই। আগামী দিনে দেশের শতভাগ কোরবানির চামড়া যেন সংরক্ষণ ও রপ্তানি খাতে ব্যবহার করা যায়, সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।"

​সাভার চামড়া শিল্পনগরীর (বিসিক) বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সাভারের সিইটিপি (CETP)-র সমস্যা সমাধান করা হবে। এছাড়া হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরিত হতে গিয়ে যে সমস্ত ট্যানারি রুগ্ন হয়ে পড়েছে বা এখনো ব্যবসা শুরু করতে পারেনি, তাদের বিষয়ে একটি স্থায়ী ফয়সালায় পৌঁছানো হবে।

​চামড়ার সঠিক দাম পাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বলেন, "কোরবানির পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি চামড়ায় লবণ মাখানো না হয়, তবে তা নষ্ট হতে শুরু করে। তাই যারা চামড়া সংগ্রহের পর দ্রুত লবণ মাখিয়ে ক্রেতার কাছে নিয়ে যাবেন, তারাই চামড়ার প্রকৃত ও ন্যায্য মূল্য পাবেন।"

​এদিকে, ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই সাভারের বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর ট্যানারিগুলোতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করেছে।

​বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত সাভার শিল্পনগরীতে মোট ৩৪১টি ট্রাকে করে ৭৯ হাজার ২১৮টি কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৭৫ হাজার ৫১৫টি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া রয়েছে ৭০৩টি।

​তিনি আরও জানান, চামড়াবাহী ট্রাকের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হরিণধরা এলাকা থেকে চামড়া শিল্প নগরী পর্যন্ত 'ওয়ান-ওয়ে' বা একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিসিক, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। দিন ও রাতে দুই শিফটে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত আছেন এবং এক ঘণ্টা পর পর মাঠ পর্যায়ে টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত