মৌলভীবাজারে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা। লবণের উচ্চমূল্য, তীব্র সংকট এবং ক্রেতা না থাকায় অনেক এলাকায় চামড়া পচে যাচ্ছে। দুর্গন্ধ এড়াতে নষ্ট চামড়া কোথাও মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে, আবার কোথাও মনু নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিনিধিরা চামড়ার জন্য কোরবানিদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। অনেক এলাকায় দিনভর অপেক্ষা করেও কোনো ক্রেতা বা সংগ্রহকারী পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে পরিবেশ দূষণ রোধে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন অনেকে।
কমলগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের জালাল মিয়া বলেন, ‘মাদ্রাসার ছাত্ররা প্রতিবছর চামড়া নিয়ে যেত, এবার তাদের পাওয়া যায়নি। একদিন অপেক্ষা করে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছি। গ্রামের আরও অনেকেই একই কাজ করেছেন।’
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বালিকান্দি চামড়ার হাটের অবস্থাও নাজুক। ব্যবসায়ীরা জানান, লবণের চড়া দামের কারণে অনেক চামড়ায় সময়মতো লবণ দেওয়া সম্ভব হয়নি। মৌলভীবাজার পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় গরুর চামড়া মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা সংগ্রহকারীদের পরিবহন খরচের চেয়েও কম।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শওকত বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনলেও লবণ সংকটে আমরা দিশাহারা। চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে অন্তত ৩০০ মণ লবণ দরকার, কিন্তু আমাদের কাছে আছে মাত্র ১৫০ মণ। পর্যাপ্ত টাকাও নেই। ফলে পচে যাওয়া চামড়া নদীতে ফেলা বা পুঁতে রাখা ছাড়া উপায় থাকছে না।’
এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষকেরা জানান, গত কয়েক বছর চামড়া সংগ্রহ করে লোকসান হওয়ায় এবার অনেক প্রতিষ্ঠান চামড়া সংগ্রহে আগ্রহ দেখায়নি।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, মৌলভীবাজারে এবার প্রায় ৭১ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে, যার মধ্যে গরুর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বালিকান্দির ব্যবসায়ীরা যতটুকু সম্ভব চামড়া সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ সরবরাহ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন