সংবাদ

হবিগঞ্জে কিশোরীর মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য


প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রকাশ: ১ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

হবিগঞ্জে কিশোরীর মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে। ছবি : সংবাদ

হবিগঞ্জে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের পর ওই কিশোরীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। সোমবার (১ জুন) ভোরে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত নদী দাস (১৬) আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর এলাকার অজিত দাসের মেয়ে। মায়ের মৃত্যুর পর বানিয়াচং উপজেলার মশাকলি গ্রামে নানা বাড়িতে থেকে তিনি পড়াশোনা করতেন। সম্প্রতি তিনি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন, কেবল ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াচংয়ের সুনারু গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় আইনজীবী সহকারী দিলিপ দাসের সঙ্গে নদীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নদীকে হবিগঞ্জ শহরের ইসকন মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নদী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ বিয়ে সম্পন্ন না করে তাকে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

নদীর নানা নারায়ণ দাস অভিযোগ করেন, রোববার (৩১ মে) সকালে পরিবারের অগোচরে নদীকে আবারও বাড়ি থেকে নিয়ে যান দিলিপ দাস। রাত ৮ টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের বাণিজ্যিক এলাকার একটি সড়কের পাশে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে আনার সময় নদীর নাক ও মুখ রক্তাক্ত ছিল বলে দাবি পরিবারের।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি ধর্ষণ, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬


হবিগঞ্জে কিশোরীর মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের পর ওই কিশোরীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। সোমবার (১ জুন) ভোরে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত নদী দাস (১৬) আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর এলাকার অজিত দাসের মেয়ে। মায়ের মৃত্যুর পর বানিয়াচং উপজেলার মশাকলি গ্রামে নানা বাড়িতে থেকে তিনি পড়াশোনা করতেন। সম্প্রতি তিনি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন, কেবল ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াচংয়ের সুনারু গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় আইনজীবী সহকারী দিলিপ দাসের সঙ্গে নদীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নদীকে হবিগঞ্জ শহরের ইসকন মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নদী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ বিয়ে সম্পন্ন না করে তাকে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

নদীর নানা নারায়ণ দাস অভিযোগ করেন, রোববার (৩১ মে) সকালে পরিবারের অগোচরে নদীকে আবারও বাড়ি থেকে নিয়ে যান দিলিপ দাস। রাত ৮ টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের বাণিজ্যিক এলাকার একটি সড়কের পাশে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে আনার সময় নদীর নাক ও মুখ রক্তাক্ত ছিল বলে দাবি পরিবারের।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি ধর্ষণ, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত