ভোলার উকিলপাড়ায় একটি ফ্ল্যাটের পঞ্চম তলায় সুমাইয়া আক্তার ওরফে মিতু নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই গৃহবধূর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সুমাইয়া দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের মো. বশিরের মেয়ে। তার তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
স্বজনেরা জানান, এটি সুমাইয়া ও তার স্বামী সোহাগ-উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর থেকে সোহাগ তার মা কোহিনুর, বোন লিজা ও স্ত্রীকে নিয়ে উকিলপাড়ার ওই বাসায় থাকতেন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই নানা কারণে সুমাইয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বিষয়টি নিয়ে আগে কয়েকবার পারিবারিকভাবে সমঝোতাও হয়েছিল। গত বুধবার রাতেও সুমাইয়া তার বোনকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে স্বামী তাকে আবারও মারধর করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, আজ সকালে সোহাগ তাদের ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। তারা সেখানে গিয়ে দেখেন ফ্ল্যাটের দরজা খোলা এবং সোহাগসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেছেন। শয়নকক্ষের বিছানায় সুমাইয়ার মরদেহ পড়ে ছিল। পরে খবর পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ভোলা সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন