সংবাদ

মাজারের দিঘিতে শিশুর প্রাণহানি, ফিরলেন নিখোঁজ মা


জেলা বার্তা পরিবশেক, বাগেরহাট
জেলা বার্তা পরিবশেক, বাগেরহাট
প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

মাজারের দিঘিতে শিশুর প্রাণহানি, ফিরলেন নিখোঁজ মা
মেয়ের মৃত্যুর পর সাড়ে তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ফজিলা বেগমকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ছবি : সংবাদ

বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমার মা ফজিলা বেগমকে (৪৭) সাড়ে তিন বছর পর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মেয়ের মৃত্যু সংবাদ টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে ময়মনসিংহে থাকা স্বজনেরা তাকে শনাক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন আনুষ্ঠানিকভাবে ফজিলাকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফজিলা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে তিনি ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে ময়মনসিংহের সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। গত মঙ্গলবার বাগেরহাটের মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে আট বছর বয়সী শিশু ফাতেমার মৃত্যু হয়। এই খবর ও ভিডিও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছবিতে ফজিলা ও ফাতেমাকে চিনতে পারেন তাদের স্বজনেরা।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আজ বিকেলে ফজিলা বেগমের স্বামী মোমরুজ আলী, মা হাজেরা খাতুন ও দুই ভাইসহ পরিবারের ছয় সদস্যের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বাগেরহাট সমাজসেবা বিভাগ ও মডেল থানার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাতেমার বাবা মোমরুজ আলী বলেন, ‘টিভিতে মেয়ের মৃত্যুর খবর দেখে আমরা ওদের চিনতে পারি। সাড়ে তিন বছর পর স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে আমরা খুশি হলেও মেয়ের জন্য বুক ফেটে যাচ্ছে।’ ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন বলেন, ‘ফাতেমা যখন নিখোঁজ হয় তখন তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। নাতনিকে আর ফিরে পেলাম না, কিন্তু মেয়েকে ফিরে পেয়েছি।’

হস্তান্তরের সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম বিড়বিড় করে বারবার বলছিলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে কোথাও যাব না।’ সব প্রক্রিয়া শেষে আজ বিকেলেই পরিবারের সদস্যরা ফজিলা বেগমকে নিয়ে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হন।

বাগেরহাট সদর ইউএনও মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, স্বজনেরা যোগাযোগ করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ফজিলা বেগমকে তাঁর পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


মাজারের দিঘিতে শিশুর প্রাণহানি, ফিরলেন নিখোঁজ মা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমার মা ফজিলা বেগমকে (৪৭) সাড়ে তিন বছর পর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মেয়ের মৃত্যু সংবাদ টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে ময়মনসিংহে থাকা স্বজনেরা তাকে শনাক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন আনুষ্ঠানিকভাবে ফজিলাকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফজিলা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে তিনি ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে ময়মনসিংহের সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। গত মঙ্গলবার বাগেরহাটের মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে আট বছর বয়সী শিশু ফাতেমার মৃত্যু হয়। এই খবর ও ভিডিও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছবিতে ফজিলা ও ফাতেমাকে চিনতে পারেন তাদের স্বজনেরা।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আজ বিকেলে ফজিলা বেগমের স্বামী মোমরুজ আলী, মা হাজেরা খাতুন ও দুই ভাইসহ পরিবারের ছয় সদস্যের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বাগেরহাট সমাজসেবা বিভাগ ও মডেল থানার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাতেমার বাবা মোমরুজ আলী বলেন, ‘টিভিতে মেয়ের মৃত্যুর খবর দেখে আমরা ওদের চিনতে পারি। সাড়ে তিন বছর পর স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে আমরা খুশি হলেও মেয়ের জন্য বুক ফেটে যাচ্ছে।’ ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন বলেন, ‘ফাতেমা যখন নিখোঁজ হয় তখন তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। নাতনিকে আর ফিরে পেলাম না, কিন্তু মেয়েকে ফিরে পেয়েছি।’

হস্তান্তরের সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম বিড়বিড় করে বারবার বলছিলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে কোথাও যাব না।’ সব প্রক্রিয়া শেষে আজ বিকেলেই পরিবারের সদস্যরা ফজিলা বেগমকে নিয়ে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হন।

বাগেরহাট সদর ইউএনও মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, স্বজনেরা যোগাযোগ করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ফজিলা বেগমকে তাঁর পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত