সংবাদ

গ্রিড প্রস্তুত, সমন্বয়হীনতায় অন্ধকারে চরফ্যাশন


প্রতিনিধি, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রতিনিধি, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

গ্রিড প্রস্তুত, সমন্বয়হীনতায় অন্ধকারে চরফ্যাশন
ভোলার চরফ্যাশনে নবনির্মিত ২৩০/৩৩ কেভি আধুনিক বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। ছবি : সংবাদ

ভোলার চরফ্যাশনে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি (গ্রিড) গত এক সপ্তাহ ধরে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও আলোর মুখ দেখছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুই সংস্থা-ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সমন্বয়হীনতার কারণে ২৩০/৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন এই জিআইএস (গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার) উপকেন্দ্রটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে তীব্র গরমে চরফ্যাশনজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং আরও প্রকট হয়েছে।

উপকেন্দ্র প্রস্তুত থাকার পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। উল্টো দ্রুত বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য বিতরণ সংস্থা দুটিকে কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাওয়ার গ্রিডের বরিশাল অনুবিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মিত উপকেন্দ্রটি গত ২৩ মে সফলভাবে কমিশনিং সম্পন্ন করেছে। এটি এখন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো লোড গ্রহণে গড়িমসি করছে। দ্রুত বিদ্যুৎ গ্রহণ না করলে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিং-সংক্রান্ত কোনো দায় পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন এই উপকেন্দ্রটি চালু হলে চরফ্যাশন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের লো-ভোল্টেজ ও বিদ্যুৎ ঘাটতির স্থায়ী সমাধান হবে। তবে গ্রিড প্রস্তুতের পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ না করার বিষয়ে জানতে ওজোপাডিকো ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শাহ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিডের চিঠি আমরা পেয়েছি। আমাদের কারিগরি দল কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’

স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক উপকেন্দ্র এভাবে ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের ভোগান্তি কমাতে সব জটিলতা নিরসন করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


গ্রিড প্রস্তুত, সমন্বয়হীনতায় অন্ধকারে চরফ্যাশন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

ভোলার চরফ্যাশনে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি (গ্রিড) গত এক সপ্তাহ ধরে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও আলোর মুখ দেখছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুই সংস্থা-ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সমন্বয়হীনতার কারণে ২৩০/৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন এই জিআইএস (গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার) উপকেন্দ্রটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে তীব্র গরমে চরফ্যাশনজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং আরও প্রকট হয়েছে।

উপকেন্দ্র প্রস্তুত থাকার পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। উল্টো দ্রুত বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য বিতরণ সংস্থা দুটিকে কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাওয়ার গ্রিডের বরিশাল অনুবিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মিত উপকেন্দ্রটি গত ২৩ মে সফলভাবে কমিশনিং সম্পন্ন করেছে। এটি এখন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো লোড গ্রহণে গড়িমসি করছে। দ্রুত বিদ্যুৎ গ্রহণ না করলে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিং-সংক্রান্ত কোনো দায় পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন এই উপকেন্দ্রটি চালু হলে চরফ্যাশন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের লো-ভোল্টেজ ও বিদ্যুৎ ঘাটতির স্থায়ী সমাধান হবে। তবে গ্রিড প্রস্তুতের পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ না করার বিষয়ে জানতে ওজোপাডিকো ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শাহ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিডের চিঠি আমরা পেয়েছি। আমাদের কারিগরি দল কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’

স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক উপকেন্দ্র এভাবে ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের ভোগান্তি কমাতে সব জটিলতা নিরসন করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত