মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে ঢাকামুখী সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে গত দুই দিনে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় পরিবহন শ্রমিকেরা প্রকাশ্যেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট দিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার যাত্রী গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। লঞ্চ, ফেরি ও স্পিডবোটের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে একটি বড় অংশই বাসের যাত্রী।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেলফি, স্বপ্ন, সেবালাইন, নীলাচল ও পদ্মা লাইনসহ বিভিন্ন পরিবহনে গন্তব্যভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। পাটুরিয়া থেকে নবীনগরের ১২০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা, ১৮০ টাকার গাবতলীর ভাড়া ৩০০ টাকা এবং সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৩০ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৩০০ টাকা।
হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার এক দিনেই যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে। আজ শনিবারও বিকেল পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার যাত্রী এই ঘাট দিয়ে পার হয়েছেন, যাদের কাছ থেকেও একইভাবে বাড়তি টাকা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দিনে আদায়কৃত অতিরিক্ত ভাড়ার পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।
সাধারণ যাত্রী হোসেন আলী ও রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, কোনো উপায় না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই বাড়তি টাকা দিয়ে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। ঘাটে দিনভর কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বা ভ্রাম্যমাণ আদালত চোখে পড়েনি বলে জানান যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিসি ও পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, প্রশাসনিক যোগসাজশে এই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এবং সেই টাকা বিভিন্ন স্তরে বণ্টন করা হচ্ছে। এ কারণেই ভাড়ার নৈরাজ্য বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বলেন, ‘আগামীকাল (রোববার) থেকে যথারীতি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
আপনার মতামত লিখুন