সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাতায়াতকারী বৈধ যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পরও বিজিবি সদস্যরা পুনরায় তল্লাশি করায় অনেক যাত্রী বিব্রত ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পথে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েন সাংবাদিক ও কলামিস্ট আকাশ চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাজ শেষ করে এবং নির্ধারিত রোড ট্যাক্স দিয়ে ভারত সীমান্তে প্রবেশের আগমুহূর্তে বিজিবি সদস্যরা আমার লাগেজ তল্লাশি করতে চান। কাস্টমস তো লাগেজ পরীক্ষার জন্যই রয়েছে, তাহলে পুনরায় বিজিবির তল্লাশি কেন?’
এ বিষয়ে বিজিবি-৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ভিত্তিতেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি করা হচ্ছে।’
তবে যাত্রীরা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর আবার বিজিবির একই ধরনের পরীক্ষা সময়ক্ষেপণ ও অতিরিক্ত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে চিনি, জিরা, প্রসাধনসামগ্রী ও মাদক আসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া গভীর রাতে অবৈধভাবে গরু ও মহিষ আসার ক্ষেত্রে বিজিবির নাম ভাঙিয়ে টাকা তোলার অভিযোগও শোনা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির পক্ষ থেকে মাইকিং করে তৎপরতা বাড়ানো হলেও বৈধ যাত্রীদের ক্ষেত্রে তাদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও বিজিবির কাজের মধ্যে সুস্পষ্ট সমন্বয় থাকা জরুরি। একজন বৈধ যাত্রীকে যদি বারবার একই ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়, তবে তা সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সমন্বয়হীনতাকেই তুলে ধরে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন