সংবাদ

সুন্দরগঞ্জে কাঁচাবাজারে আগুন, দিশেহারা ক্রেতারা


প্রতিনিধি, সুুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রতিনিধি, সুুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

সুন্দরগঞ্জে কাঁচাবাজারে আগুন, দিশেহারা ক্রেতারা
সুন্দরগঞ্জে সবজির দামে অস্থিরতা। ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে সবজিখেত নষ্ট হওয়ায় বাজারে কাঁচামালের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন না থাকায় বাইরের জেলা থেকে সবজি আনতে গিয়ে বাড়ছে পরিবহন খরচ, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। বাজারে সবজির দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে যেসব সবজি পাওয়া যাচ্ছে তার সিংহভাগই রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুর থেকে আসছে। সুন্দরগঞ্জ বাজারের সবজি বিক্রেতা হামিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে সামান্য বেগুন ও পটল ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য জেলা থেকে সবজি আনতে দ্বিগুণ পরিবহন খরচ দিতে হচ্ছে, ফলে কেজিপ্রতি দাম ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

বাজারে সবজি কিনতে আসা সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আব্দুস সামাদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘এক কেজি আলু কিনে ছিলাম ২৫ পয়সায়, বেগুন ২০ পয়সা, পটল ১৫ পয়সা, মরিচ ৩০ পযসা, পিয়াজ ২০ পযসা। আজ সেই আলু কিনতে হচ্ছে ২৫ হতে ৩৫ টাকা, বেগুন ৭০ হতে ৮০ টাকা, মুলা-৮০ টাকা, ঢেড়স-৪০ টাকা, কুমড়া ৭০ টাকা,  পটল ৫৫ হতে ৬০ টাকা, করলা ৬০ হতে ৮০ টাকা, কচু ৪০ হতে ৬০ টাকা, মরিচ ২৪০ হতে ২৬০ টাকা, পিয়াজ ৪৫ হতে ৫০ টাকা দরে। সেই দিনগুলো কোথায় গেল! আমাদের মতো গরিব মানুষ এখন কী খাবে?’ 

বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারি শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন বলেন কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম লাগামহীন ভাবে বেড়ে গেছে। ঠিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানর শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাড়েনি, তবে দাম বেড়েছে নিত্য পর্ণ্যরে।  একজন সাধারন মানুষ থেকে একজন চাকরি জীবী কিভাবে সংসার চালাবেন এখানেই সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। তবে বাজার মনিটরিং জোর করতে হবে। 

একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় অটোরিকশা চালক ছামিউল ইসলাম বলেন, 'সারাদিন অটোরিকশা চালিয়ে যে টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে কোনমত চাল, ডাল, লবন, তেল কেনা যায়। কাঁচা বাজারের যাওয়ার মত সাধ্য নেই নিন্ম ও মধ্যম আয়ের মানুষের বৃষ্টি-বাদলের অজুহাতে  যে হারে প্রতিদিন সবজিসহ প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েই চলছে, তাতে করে মাসে একদিনও মাছ  এবং মাংস কেনা সম্ভব হবে না।'

উপজেলার শান্তিরাম গ্রামের সবজি চাষি পলাশ চন্দ্র বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারনে সকল প্রকার সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে জমি তৈরি করে সবজি চাষাবাদে আরও সময় লাগবে। আবহাওয়া অনুকলে থাকলে হয়তো অল্প সময়ের মধ্যে সবজি বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী জানান, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ২০ হেক্টর জমির সবজিখেত নষ্ট হয়েছে। কৃষকেরা পুনরায় চাষাবাদের চেষ্টা করছেন। নতুন শাকসবজি বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। কোনো বিক্রেতা বা সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


সুন্দরগঞ্জে কাঁচাবাজারে আগুন, দিশেহারা ক্রেতারা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে সবজিখেত নষ্ট হওয়ায় বাজারে কাঁচামালের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন না থাকায় বাইরের জেলা থেকে সবজি আনতে গিয়ে বাড়ছে পরিবহন খরচ, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। বাজারে সবজির দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে যেসব সবজি পাওয়া যাচ্ছে তার সিংহভাগই রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুর থেকে আসছে। সুন্দরগঞ্জ বাজারের সবজি বিক্রেতা হামিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে সামান্য বেগুন ও পটল ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য জেলা থেকে সবজি আনতে দ্বিগুণ পরিবহন খরচ দিতে হচ্ছে, ফলে কেজিপ্রতি দাম ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

বাজারে সবজি কিনতে আসা সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আব্দুস সামাদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘এক কেজি আলু কিনে ছিলাম ২৫ পয়সায়, বেগুন ২০ পয়সা, পটল ১৫ পয়সা, মরিচ ৩০ পযসা, পিয়াজ ২০ পযসা। আজ সেই আলু কিনতে হচ্ছে ২৫ হতে ৩৫ টাকা, বেগুন ৭০ হতে ৮০ টাকা, মুলা-৮০ টাকা, ঢেড়স-৪০ টাকা, কুমড়া ৭০ টাকা,  পটল ৫৫ হতে ৬০ টাকা, করলা ৬০ হতে ৮০ টাকা, কচু ৪০ হতে ৬০ টাকা, মরিচ ২৪০ হতে ২৬০ টাকা, পিয়াজ ৪৫ হতে ৫০ টাকা দরে। সেই দিনগুলো কোথায় গেল! আমাদের মতো গরিব মানুষ এখন কী খাবে?’ 

বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারি শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন বলেন কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম লাগামহীন ভাবে বেড়ে গেছে। ঠিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানর শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাড়েনি, তবে দাম বেড়েছে নিত্য পর্ণ্যরে।  একজন সাধারন মানুষ থেকে একজন চাকরি জীবী কিভাবে সংসার চালাবেন এখানেই সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। তবে বাজার মনিটরিং জোর করতে হবে। 

একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় অটোরিকশা চালক ছামিউল ইসলাম বলেন, 'সারাদিন অটোরিকশা চালিয়ে যে টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে কোনমত চাল, ডাল, লবন, তেল কেনা যায়। কাঁচা বাজারের যাওয়ার মত সাধ্য নেই নিন্ম ও মধ্যম আয়ের মানুষের বৃষ্টি-বাদলের অজুহাতে  যে হারে প্রতিদিন সবজিসহ প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েই চলছে, তাতে করে মাসে একদিনও মাছ  এবং মাংস কেনা সম্ভব হবে না।'

উপজেলার শান্তিরাম গ্রামের সবজি চাষি পলাশ চন্দ্র বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারনে সকল প্রকার সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে জমি তৈরি করে সবজি চাষাবাদে আরও সময় লাগবে। আবহাওয়া অনুকলে থাকলে হয়তো অল্প সময়ের মধ্যে সবজি বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী জানান, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ২০ হেক্টর জমির সবজিখেত নষ্ট হয়েছে। কৃষকেরা পুনরায় চাষাবাদের চেষ্টা করছেন। নতুন শাকসবজি বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। কোনো বিক্রেতা বা সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত