চলমান বিক্ষোভের মুখে ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
গত ২৩ জুলাই মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের বিধান এবং কঠোর শাস্তির প্রস্তাবসহ একটি খসড়া বিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া পোস্টে মোদী জানান, আগামীকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
ভিডিও বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় একাধিক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হতে না দেওয়া।
তাই অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে এবং সম্প্রতি ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা এখানেই থেমে থাকছি না। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। তারা রাতভর কাজ করে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। এতে দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আগামীকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে এটি নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি জানান, মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামত যুক্ত করে বিলটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে এবং সংসদের চলতি অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এটি দ্রুত পাস করানোর চেষ্টা করা হবে।
মোদী বলেন, আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। যারা তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মোদী প্রথমবারের মতো প্রশ্নফাঁস বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা দেন।
এদিকে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধী দলগুলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছে এবং চলমান সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনারও দাবি জানানো হয়েছে। একই ইস্যুতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে মোদীর আশ্বাসের পরও থামছে না আন্দোলনকারীরা। সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন শেষ করলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোজ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
২৪ জুলাই দেশব্যাপী মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি জানায়, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদ এবং তাদের দাবিগুলোর পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতেই এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন শেষ করায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে ওয়াংচুক দেশের বিবেককে জাগিয়ে তুলেছেন। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলবে। এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সোনম ওয়াংচুক তার অনশন ভাঙেন। গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে ওয়াংচুক লিখেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা, ড. জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখের অ্যাপেক্স বডির জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে আমি ২৬ দিনের অনশন শেষ করেছি। বৈঠকে দুই মন্ত্রী ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন এবং তাকে তরল পানীয় পান করিয়ে অনশন ভাঙান। জে.পি. নাড্ডা জানান, প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস সরকার ইতোমধ্যে দিয়েছে। এছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী এবং ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলে অংশ নেওয়াদের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত আত্মহত্যার ঘটনাগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে ওয়াংচুকের অনশন শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে দ্রুত সুস্থ হয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আহ্বান জানান এবং তার সুস্বাস্থ্যও কামনা করেন। অন্যদিকে, দেশব্যাপী মিছিলকে সামনে রেখে সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর সদস্যদের স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচির লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
দলটির দাবি, গত কয়েক দিনে চণ্ডীগড়, ধর্মশালা, ভোপাল, পাটনা, গৌহাটি, কালাবুর্গি, বিশাখাপত্তনমসহ অন্তত ৩৩টি শহরে তাদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
চলমান বিক্ষোভের মুখে ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
গত ২৩ জুলাই মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের বিধান এবং কঠোর শাস্তির প্রস্তাবসহ একটি খসড়া বিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া পোস্টে মোদী জানান, আগামীকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
ভিডিও বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় একাধিক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হতে না দেওয়া।
তাই অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে এবং সম্প্রতি ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা এখানেই থেমে থাকছি না। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। তারা রাতভর কাজ করে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। এতে দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আগামীকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে এটি নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি জানান, মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামত যুক্ত করে বিলটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে এবং সংসদের চলতি অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এটি দ্রুত পাস করানোর চেষ্টা করা হবে।
মোদী বলেন, আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। যারা তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মোদী প্রথমবারের মতো প্রশ্নফাঁস বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা দেন।
এদিকে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধী দলগুলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছে এবং চলমান সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনারও দাবি জানানো হয়েছে। একই ইস্যুতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে মোদীর আশ্বাসের পরও থামছে না আন্দোলনকারীরা। সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন শেষ করলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোজ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
২৪ জুলাই দেশব্যাপী মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি জানায়, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদ এবং তাদের দাবিগুলোর পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতেই এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন শেষ করায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে ওয়াংচুক দেশের বিবেককে জাগিয়ে তুলেছেন। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলবে। এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সোনম ওয়াংচুক তার অনশন ভাঙেন। গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে ওয়াংচুক লিখেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা, ড. জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখের অ্যাপেক্স বডির জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে আমি ২৬ দিনের অনশন শেষ করেছি। বৈঠকে দুই মন্ত্রী ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন এবং তাকে তরল পানীয় পান করিয়ে অনশন ভাঙান। জে.পি. নাড্ডা জানান, প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস সরকার ইতোমধ্যে দিয়েছে। এছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী এবং ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলে অংশ নেওয়াদের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত আত্মহত্যার ঘটনাগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে ওয়াংচুকের অনশন শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে দ্রুত সুস্থ হয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আহ্বান জানান এবং তার সুস্বাস্থ্যও কামনা করেন। অন্যদিকে, দেশব্যাপী মিছিলকে সামনে রেখে সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর সদস্যদের স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচির লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
দলটির দাবি, গত কয়েক দিনে চণ্ডীগড়, ধর্মশালা, ভোপাল, পাটনা, গৌহাটি, কালাবুর্গি, বিশাখাপত্তনমসহ অন্তত ৩৩টি শহরে তাদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন