কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট নবম বছরে গড়িয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য ধারাবাহিকভাবে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
এই সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতি বছর যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। তবে স্থানীয় অংশীজনরা অভিযোগ করেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা তহবিল যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ২০২৬-এর বাস্তবায়ন কাঠামো থেকে স্থানীয় এনজিওগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১০ জুন) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইউএনএইচসিআরকে অবশ্যই স্থানীয় এনজিওদের অংশীদারিত্বে অগ্রাধিকার দিতে হবে; জেআরপিতে স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ বরাদ্দ স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তারা আরও বলেন, রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয় অংশীজনদের অর্থবহ অন্তর্ভুক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। বক্তাদের অভিযোগ, জেআরপি বাস্তবায়ন কাঠামো থেকে স্থানীয় এনজিওদের বাদ দেওয়া জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর স্থানীয়করণ সংক্রান্ত অঙ্গীকারের পরিপন্থী।
বক্তারা জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিদের যথাযথ সুযোগ না দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিদের বক্তব্যের সুযোগ রাখা হয়নি; অথচ আন্তর্জাতিক এনজিও প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বক্তারা বৈশ্বিক স্থানীয়করণ প্রতিশ্রুতির আলোকে জেআরপিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক এনজিও ও জাতিসংঘ সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠনগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া তারা একটি ‘জেআরপি ২.০’ কাঠামোর প্রস্তাব দেন, যেখানে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সিসিএনএফ-এর প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি আঞ্জুমান আরা, কোস্ট ফাউন্ডেশনের জাহাঙ্গীর আলম, মো. ইকবাল উদ্দিন, মো. শাহিনুর ইসলাম, তাহরিমা আফরোজ টুম্পা; কক্সবাজার পর্যটন শিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেওয়াজ মো. সেলিম, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল কবির, পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর আহমদ।
আরও বক্তব্য দেন, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, কক্সবাজার ইয়ুথ ফোরামের নাসিমা আখতার, কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্সের জাহানারা ইসলাম এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী। এ সময় সিসিএনএফ-এর সদস্য, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট নবম বছরে গড়িয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য ধারাবাহিকভাবে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
এই সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতি বছর যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। তবে স্থানীয় অংশীজনরা অভিযোগ করেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা তহবিল যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ২০২৬-এর বাস্তবায়ন কাঠামো থেকে স্থানীয় এনজিওগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১০ জুন) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইউএনএইচসিআরকে অবশ্যই স্থানীয় এনজিওদের অংশীদারিত্বে অগ্রাধিকার দিতে হবে; জেআরপিতে স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ বরাদ্দ স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তারা আরও বলেন, রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয় অংশীজনদের অর্থবহ অন্তর্ভুক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। বক্তাদের অভিযোগ, জেআরপি বাস্তবায়ন কাঠামো থেকে স্থানীয় এনজিওদের বাদ দেওয়া জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর স্থানীয়করণ সংক্রান্ত অঙ্গীকারের পরিপন্থী।
বক্তারা জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিদের যথাযথ সুযোগ না দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিদের বক্তব্যের সুযোগ রাখা হয়নি; অথচ আন্তর্জাতিক এনজিও প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বক্তারা বৈশ্বিক স্থানীয়করণ প্রতিশ্রুতির আলোকে জেআরপিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক এনজিও ও জাতিসংঘ সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠনগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া তারা একটি ‘জেআরপি ২.০’ কাঠামোর প্রস্তাব দেন, যেখানে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সিসিএনএফ-এর প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি আঞ্জুমান আরা, কোস্ট ফাউন্ডেশনের জাহাঙ্গীর আলম, মো. ইকবাল উদ্দিন, মো. শাহিনুর ইসলাম, তাহরিমা আফরোজ টুম্পা; কক্সবাজার পর্যটন শিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেওয়াজ মো. সেলিম, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল কবির, পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর আহমদ।
আরও বক্তব্য দেন, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, কক্সবাজার ইয়ুথ ফোরামের নাসিমা আখতার, কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্সের জাহানারা ইসলাম এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী। এ সময় সিসিএনএফ-এর সদস্য, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন