মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১১০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে সই করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি উভয় দেশের পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে। ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলন শেষে ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজে এই চুক্তি সই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।
চুক্তি সইয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেছেন।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে। একই সাথে বন্ধ থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবার খুলে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রাখবে। ম্যাখোঁ আরও যোগ করেন, এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’র বরাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর চূড়ান্ত খসড়ায় সই করেছেন। এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো চুক্তিটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভার্সাই প্রাসাদে নথিতে সই সম্পন্ন করা হয়। অবশ্য ইরান জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে চূড়ান্ত চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। চুক্তি সইয়ের পর এখন উভয় দেশের হাতে ৬০ দিন সময় রয়েছে চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন করার জন্য।
এর আগে গত বুধবার মার্কিন কর্মকর্তারা এক কনফারেন্স কলে এই চুক্তির বিভিন্ন ধারা পড়ে শোনান। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় জনমতের চাপের মুখে এর শর্তগুলো প্রকাশ করা হয়। গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম এই চুক্তির ঘোষণা দেন, যার আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’।
চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সামরিক অভিযান বন্ধ: লেবাননসহ সব অঞ্চলে চলমান সব ধরনের সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা: আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগের মতো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।
সেনা প্রত্যাহার: চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
নিরাপদ বাণিজ্যিক রুট: ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে এবং এই জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না।
১১০ দিনের যুদ্ধের অবসান
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়। টানা প্রায় চার মাস ধরে চলা এই সংঘাতের পর নতুন এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১১০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে সই করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি উভয় দেশের পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে। ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলন শেষে ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজে এই চুক্তি সই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।
চুক্তি সইয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেছেন।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে। একই সাথে বন্ধ থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবার খুলে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রাখবে। ম্যাখোঁ আরও যোগ করেন, এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’র বরাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর চূড়ান্ত খসড়ায় সই করেছেন। এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো চুক্তিটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভার্সাই প্রাসাদে নথিতে সই সম্পন্ন করা হয়। অবশ্য ইরান জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে চূড়ান্ত চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। চুক্তি সইয়ের পর এখন উভয় দেশের হাতে ৬০ দিন সময় রয়েছে চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন করার জন্য।
এর আগে গত বুধবার মার্কিন কর্মকর্তারা এক কনফারেন্স কলে এই চুক্তির বিভিন্ন ধারা পড়ে শোনান। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় জনমতের চাপের মুখে এর শর্তগুলো প্রকাশ করা হয়। গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম এই চুক্তির ঘোষণা দেন, যার আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’।
চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সামরিক অভিযান বন্ধ: লেবাননসহ সব অঞ্চলে চলমান সব ধরনের সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা: আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগের মতো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।
সেনা প্রত্যাহার: চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
নিরাপদ বাণিজ্যিক রুট: ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে এবং এই জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না।
১১০ দিনের যুদ্ধের অবসান
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়। টানা প্রায় চার মাস ধরে চলা এই সংঘাতের পর নতুন এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে।

আপনার মতামত লিখুন