সংবাদ

ইতালির স্বপ্নে খোয়ালেন ৪৫ লাখ টাকা


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, মাদারীপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, মাদারীপুর
প্রকাশ: ২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

ইতালির স্বপ্নে খোয়ালেন ৪৫ লাখ টাকা
ছবি : সংগৃহীত

'আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন, ইতালির ভিসা হয়ে যাবে’—এই একটি আশ্বাসে বারবার ভরসা করেছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্ব শ্রীনাথদী গ্রামের মামুন খন্দকার। একমাত্র ছেলেকে ইতালিতে পাঠিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্নে জীবনের সঞ্চয়, ধারদেনা ও ব্যাংক ঋণ মিলিয়ে দালালের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ৪৫ লাখ টাকা। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হাতে পাওয়া ভিসা ও কাগজপত্র ইতালীয় দূতাবাসে যাচাই করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, এর সবই জাল।

স্বপ্নভঙ্গের এই ঘটনায় মামুন খন্দকার বাদী হয়ে ২৬ জুলাই মাদারীপুরের বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন। মামলায় একই পরিবারের ১২ জনসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পূর্ব শ্রীনাথদী গ্রামের কাবিল ফকির, মজিবর ফকির, হাবিবুর রহমান ফকির, রহমান ফকিরসহ একই পরিবারের ১২ সদস্য। এ ছাড়া আজাদ বেপারী, আলেম মৃধা, আলী মোকসেদ ও বিউটি বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে কাবিল ফকিরের স্ত্রী তানিয়া আক্তারীর ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সোহাগী আক্তার শিক্ষকতার আড়ালে এবং হাবিবুর রহমান ও তাহমিনা আক্তার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকেও দালালি চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কিস্তিতে ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। ২০২৩ সালের মে মাসে একটি কথিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেখিয়ে দ্রুত ভিসার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে আগস্ট মাসে ঢাকা ইতালীয় দূতাবাসে গিয়ে মামুন খন্দকার জানতে পারেন, তাকে দেওয়া কাগজপত্রগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পরও নতুন করে আরও কয়েক দফায় টাকা আদায় করে আসামিরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই চক্রটির বিরুদ্ধে বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয় এক সালিশকারী বোরহান সিকদার বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ভুক্তভোগী মামুন খন্দকারের বোন মাকসুদা খন্দকার বলেন, ‘ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সব খুইয়ে আমরা এখন নিঃস্ব। ছেলেটার পড়াশোনাও নষ্ট হলো। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’

অভিযোগ অস্বীকার করে আসামি হাবিবুর রহমান ফকির ও রহমান ফকির বলেন, তারা এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত নন। তবে অন্য আসামি তানিয়া আক্তারী বলেন, তার স্বামী আগে ইতালিতে লোক পাঠাতেন। পরে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, মানবপাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসন সবসময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছে। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা বা তদন্তের দায়িত্ব পেলে প্রতিটি বিষয় গুরুত্বসহকারে যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


ইতালির স্বপ্নে খোয়ালেন ৪৫ লাখ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

'আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন, ইতালির ভিসা হয়ে যাবে’—এই একটি আশ্বাসে বারবার ভরসা করেছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্ব শ্রীনাথদী গ্রামের মামুন খন্দকার। একমাত্র ছেলেকে ইতালিতে পাঠিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্নে জীবনের সঞ্চয়, ধারদেনা ও ব্যাংক ঋণ মিলিয়ে দালালের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ৪৫ লাখ টাকা। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হাতে পাওয়া ভিসা ও কাগজপত্র ইতালীয় দূতাবাসে যাচাই করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, এর সবই জাল।

স্বপ্নভঙ্গের এই ঘটনায় মামুন খন্দকার বাদী হয়ে ২৬ জুলাই মাদারীপুরের বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন। মামলায় একই পরিবারের ১২ জনসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পূর্ব শ্রীনাথদী গ্রামের কাবিল ফকির, মজিবর ফকির, হাবিবুর রহমান ফকির, রহমান ফকিরসহ একই পরিবারের ১২ সদস্য। এ ছাড়া আজাদ বেপারী, আলেম মৃধা, আলী মোকসেদ ও বিউটি বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে কাবিল ফকিরের স্ত্রী তানিয়া আক্তারীর ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সোহাগী আক্তার শিক্ষকতার আড়ালে এবং হাবিবুর রহমান ও তাহমিনা আক্তার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকেও দালালি চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কিস্তিতে ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। ২০২৩ সালের মে মাসে একটি কথিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেখিয়ে দ্রুত ভিসার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে আগস্ট মাসে ঢাকা ইতালীয় দূতাবাসে গিয়ে মামুন খন্দকার জানতে পারেন, তাকে দেওয়া কাগজপত্রগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পরও নতুন করে আরও কয়েক দফায় টাকা আদায় করে আসামিরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই চক্রটির বিরুদ্ধে বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয় এক সালিশকারী বোরহান সিকদার বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ভুক্তভোগী মামুন খন্দকারের বোন মাকসুদা খন্দকার বলেন, ‘ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সব খুইয়ে আমরা এখন নিঃস্ব। ছেলেটার পড়াশোনাও নষ্ট হলো। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’

অভিযোগ অস্বীকার করে আসামি হাবিবুর রহমান ফকির ও রহমান ফকির বলেন, তারা এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত নন। তবে অন্য আসামি তানিয়া আক্তারী বলেন, তার স্বামী আগে ইতালিতে লোক পাঠাতেন। পরে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, মানবপাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসন সবসময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছে। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা বা তদন্তের দায়িত্ব পেলে প্রতিটি বিষয় গুরুত্বসহকারে যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত