সংবাদ

অভিবাসীদের ঢল ঠেকাতে সাগরে বসল ভাসমান প্রতিবন্ধক


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

অভিবাসীদের ঢল ঠেকাতে সাগরে বসল ভাসমান প্রতিবন্ধক
ছবি : এএফপি

মরক্কো ও স্পেনের ছিটমহল সেউতার মধ্যে সাগরে ভাসমান প্রতিবন্ধকতা স্থাপন শুরু করেছে স্পেনের কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার স্পেনের সিভিল গার্ডের সদস্যরা এই বাতাসভর্তি ব্যারিয়ার বসানোর কাজ করেন। কয়েক দিন আগে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী হঠাৎ সীমান্ত পার হয়ে সেউতায় প্রবেশ করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ একদিনের মধ্যে সীমান্ত পার হয়েছিলেন। এর মধ্যে অন্তত ৪৮ হাজার ৩০০ জনকে ইতিমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে, আরও অনেকে নিজে থেকেই ছিটমহল ছেড়ে গেছেন। স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টার সময় সাম্প্রতিক দিনগুলোয় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন করে বসানো প্রতিবন্ধকতাটি প্রায় ৪৮৮ মিটার (১,৬০০ ফুট) লম্বা এবং পানির প্রায় এক মিটার নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নৌবাহিনীর নোঙর করা বয়ার আরেকটি সারি, যা প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে।

এই ঘটনার জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০টির বেশি দেশ কমিশনের কাছে জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কমিশনকে চিঠি লিখে নিজের সরকারের অভিবাসননীতি সমর্থন করেছেন এবং স্পেনকে শেনজেন ব্যবস্থার বাইরে রাখার দাবিকারীদের সমালোচনা করেছেন।

সেউতার একটি সৈকতে এখনো অনেক অভিবাসী অবস্থান করছেন, যাদের বড় অংশ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা। তাদের অনেকের ধারণা, ভিন্ন দেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। খাবারের সংকটেও ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তারা। সুদান থেকে আসা এক তরুণ জানান, দেশে গৃহযুদ্ধের কারণে তিনি পালিয়ে এসেছেন এবং মরক্কোয় ফিরতে চান না।

আপাতত স্পেন সরকারের নজর মূলত সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের দিকেই। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ জানিয়েছেন, সমুদ্রে বয়া বসিয়ে অন্তত একটি দৃশ্যমান প্রতিবন্ধক তৈরি করাই এখনকার লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


অভিবাসীদের ঢল ঠেকাতে সাগরে বসল ভাসমান প্রতিবন্ধক

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মরক্কো ও স্পেনের ছিটমহল সেউতার মধ্যে সাগরে ভাসমান প্রতিবন্ধকতা স্থাপন শুরু করেছে স্পেনের কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার স্পেনের সিভিল গার্ডের সদস্যরা এই বাতাসভর্তি ব্যারিয়ার বসানোর কাজ করেন। কয়েক দিন আগে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী হঠাৎ সীমান্ত পার হয়ে সেউতায় প্রবেশ করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ একদিনের মধ্যে সীমান্ত পার হয়েছিলেন। এর মধ্যে অন্তত ৪৮ হাজার ৩০০ জনকে ইতিমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে, আরও অনেকে নিজে থেকেই ছিটমহল ছেড়ে গেছেন। স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টার সময় সাম্প্রতিক দিনগুলোয় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন করে বসানো প্রতিবন্ধকতাটি প্রায় ৪৮৮ মিটার (১,৬০০ ফুট) লম্বা এবং পানির প্রায় এক মিটার নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নৌবাহিনীর নোঙর করা বয়ার আরেকটি সারি, যা প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে।

এই ঘটনার জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০টির বেশি দেশ কমিশনের কাছে জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কমিশনকে চিঠি লিখে নিজের সরকারের অভিবাসননীতি সমর্থন করেছেন এবং স্পেনকে শেনজেন ব্যবস্থার বাইরে রাখার দাবিকারীদের সমালোচনা করেছেন।

সেউতার একটি সৈকতে এখনো অনেক অভিবাসী অবস্থান করছেন, যাদের বড় অংশ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা। তাদের অনেকের ধারণা, ভিন্ন দেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। খাবারের সংকটেও ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তারা। সুদান থেকে আসা এক তরুণ জানান, দেশে গৃহযুদ্ধের কারণে তিনি পালিয়ে এসেছেন এবং মরক্কোয় ফিরতে চান না।

আপাতত স্পেন সরকারের নজর মূলত সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের দিকেই। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ জানিয়েছেন, সমুদ্রে বয়া বসিয়ে অন্তত একটি দৃশ্যমান প্রতিবন্ধক তৈরি করাই এখনকার লক্ষ্য।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত