দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলা স্থগিত করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (১ আগস্ট) এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, একটি চুক্তির ‘পেরিমিটার’ বা রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো আমাদের কাছে হামলা স্থগিতের অনুরোধ করেছে, কারণ একটি চুক্তির রূপরেখায় সম্মতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে থাকবে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানো।”
ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত (‘লকড অ্যান্ড লোডেড’) ছিল। তবে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি হামলা বাতিলের বিষয়ে একমত হয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকালীন মিত্র ইসরায়েলও শামিল রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “সবাই কাজে লেগে পড়ুন এবং এটি সম্পন্ন করুন।”
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের দ্রুত ওই অঞ্চল ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে ওয়াশিংটন।
এর আগে শুক্রবার (৩১ জুলাই) ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর ‘খুব কঠোর আঘাত’ হানবে। পাল্টা জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। উভয় দেশই একে অপরের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমাগত উত্তপ্ত হচ্ছে। কুয়েত সেনাবাহিনী শনিবার জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে দুই দিন আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে ‘বড় আকারের হামলা’ চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এক ফোনালাপে ইরানের ওপর চরম আক্রমণাত্মক হওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এনবিসি নিউজকে জানিয়েছে, যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ক্রমশ বিরক্ত হয়ে উঠছেন। যুদ্ধের শেষ কোথায় বা এর প্রকৃত কৌশল কী, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প শুরুতে যুদ্ধটি ‘খুব দ্রুত’ শেষ হওয়ার পূর্বাভাস দিলেও এটি এখন ষষ্ঠ মাসে গড়িয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ ছিল। তবে জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাম্প সেই যুদ্ধবিরতি শেষ করার ঘোষণা দিলে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। সূত্র : এনবিসি নিউজ
\

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলা স্থগিত করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (১ আগস্ট) এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, একটি চুক্তির ‘পেরিমিটার’ বা রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো আমাদের কাছে হামলা স্থগিতের অনুরোধ করেছে, কারণ একটি চুক্তির রূপরেখায় সম্মতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে থাকবে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানো।”
ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত (‘লকড অ্যান্ড লোডেড’) ছিল। তবে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি হামলা বাতিলের বিষয়ে একমত হয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকালীন মিত্র ইসরায়েলও শামিল রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “সবাই কাজে লেগে পড়ুন এবং এটি সম্পন্ন করুন।”
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের দ্রুত ওই অঞ্চল ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে ওয়াশিংটন।
এর আগে শুক্রবার (৩১ জুলাই) ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর ‘খুব কঠোর আঘাত’ হানবে। পাল্টা জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। উভয় দেশই একে অপরের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমাগত উত্তপ্ত হচ্ছে। কুয়েত সেনাবাহিনী শনিবার জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে দুই দিন আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে ‘বড় আকারের হামলা’ চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এক ফোনালাপে ইরানের ওপর চরম আক্রমণাত্মক হওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এনবিসি নিউজকে জানিয়েছে, যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ক্রমশ বিরক্ত হয়ে উঠছেন। যুদ্ধের শেষ কোথায় বা এর প্রকৃত কৌশল কী, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প শুরুতে যুদ্ধটি ‘খুব দ্রুত’ শেষ হওয়ার পূর্বাভাস দিলেও এটি এখন ষষ্ঠ মাসে গড়িয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ ছিল। তবে জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাম্প সেই যুদ্ধবিরতি শেষ করার ঘোষণা দিলে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। সূত্র : এনবিসি নিউজ
\

আপনার মতামত লিখুন