আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকতার এই যুগে বাঁশির সুর যেন ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে। তবুও ভোলার চরফ্যাশনের পথে পথে এখনো ভেসে আসে বাঁশির মায়াবী সুর। সেই সুরের কারিগর ৭০ বছর বয়সি জগদীশ চন্দ্র শীল। বয়সের ভারে শরীর কিছুটা ন্যুব্জ হলেও, কাঁধে ঝোলানো বাঁশির ঝুলি আর ঠোঁটে জমানো সুরই এখন তার জীবনের প্রধান অবলম্বন।
সম্প্রতি চরফ্যাশন উপজেলা সদরে দেখা মেলে এই প্রবীণ বংশীবাদকের। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারীরাও তার বাঁশির সুর শুনে থমকে দাঁড়ান। কেউ শখ করে বাঁশি কিনছেন, আবার কেউ সুরের মোহে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে শুনছেন তার পরিবেশনা।
বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জগদীশ চন্দ্র শীলের জীবনসংগ্রাম দীর্ঘদিনের। অভাব-অনটনের কারণে শৈশবে পড়ালেখার সুযোগ হয়নি তার। জীবিকার তাগিদে শুরুতে বেছে নিয়েছিলেন যাত্রাদলের বংশীবাদক হিসেবে কাজ। প্রায় ৭ বছর যাত্রাদলে থাকার পর দলটি ভেঙে গেলে তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েন। তবে দমে যাননি তিনি।
স্ত্রী রমলা রাণী, ছেলে জয়ন্ত ও পুত্রবধূ বন্নিকাকে নিয়ে জগদীশ গড়ে তোলেন একটি পারিবারিক কুটির শিল্প। সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে মুলি বাঁশ সংগ্রহ করে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের বাঁশি। প্রায় ৪৮ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন হাটবাজার, স্কুল-কলেজ এবং গ্রাম্য মেলায় ঘুরে ঘুরে বাঁশি বিক্রি করছেন তিনি। ৫০ থেকে ৫০০ টাকা মূল্যের এসব বাঁশি বিক্রি করে প্রতিদিন তার গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় হয়। সেই আয় দিয়েই চলে চার সদস্যের সংসার।
তবে এই লোকশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জগদীশ চন্দ্র। তার মতে, নতুন প্রজন্মের বাঁশির প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এত বছর ধরে কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকলেও সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি। অথচ যারা এ কাজের সঙ্গে নেই, তারাও অনেক সময় নানা সুবিধা পাচ্ছেন।’
স্থানীয়রা বলছেন, প্রযুক্তির ভিড়ে যখন গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন জগদীশ চন্দ্র শীলের মতো শিল্পীরাই এখনো বাংলার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তার এই সুরের মূর্ছনা আগামীতেও বেঁচে থাকুক এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
/

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকতার এই যুগে বাঁশির সুর যেন ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে। তবুও ভোলার চরফ্যাশনের পথে পথে এখনো ভেসে আসে বাঁশির মায়াবী সুর। সেই সুরের কারিগর ৭০ বছর বয়সি জগদীশ চন্দ্র শীল। বয়সের ভারে শরীর কিছুটা ন্যুব্জ হলেও, কাঁধে ঝোলানো বাঁশির ঝুলি আর ঠোঁটে জমানো সুরই এখন তার জীবনের প্রধান অবলম্বন।
সম্প্রতি চরফ্যাশন উপজেলা সদরে দেখা মেলে এই প্রবীণ বংশীবাদকের। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারীরাও তার বাঁশির সুর শুনে থমকে দাঁড়ান। কেউ শখ করে বাঁশি কিনছেন, আবার কেউ সুরের মোহে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে শুনছেন তার পরিবেশনা।
বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জগদীশ চন্দ্র শীলের জীবনসংগ্রাম দীর্ঘদিনের। অভাব-অনটনের কারণে শৈশবে পড়ালেখার সুযোগ হয়নি তার। জীবিকার তাগিদে শুরুতে বেছে নিয়েছিলেন যাত্রাদলের বংশীবাদক হিসেবে কাজ। প্রায় ৭ বছর যাত্রাদলে থাকার পর দলটি ভেঙে গেলে তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েন। তবে দমে যাননি তিনি।
স্ত্রী রমলা রাণী, ছেলে জয়ন্ত ও পুত্রবধূ বন্নিকাকে নিয়ে জগদীশ গড়ে তোলেন একটি পারিবারিক কুটির শিল্প। সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে মুলি বাঁশ সংগ্রহ করে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের বাঁশি। প্রায় ৪৮ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন হাটবাজার, স্কুল-কলেজ এবং গ্রাম্য মেলায় ঘুরে ঘুরে বাঁশি বিক্রি করছেন তিনি। ৫০ থেকে ৫০০ টাকা মূল্যের এসব বাঁশি বিক্রি করে প্রতিদিন তার গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় হয়। সেই আয় দিয়েই চলে চার সদস্যের সংসার।
তবে এই লোকশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জগদীশ চন্দ্র। তার মতে, নতুন প্রজন্মের বাঁশির প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এত বছর ধরে কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকলেও সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি। অথচ যারা এ কাজের সঙ্গে নেই, তারাও অনেক সময় নানা সুবিধা পাচ্ছেন।’
স্থানীয়রা বলছেন, প্রযুক্তির ভিড়ে যখন গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন জগদীশ চন্দ্র শীলের মতো শিল্পীরাই এখনো বাংলার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তার এই সুরের মূর্ছনা আগামীতেও বেঁচে থাকুক এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
/

আপনার মতামত লিখুন