সংবাদ

মার্কিন ‘কবল’ থেকে মুক্তি চায় ইসরায়েল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

মার্কিন ‘কবল’ থেকে মুক্তি চায় ইসরায়েল
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান মতপার্থক্যের জেরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার (২৩ জুন) বলেছেন, ‘ইসরায়েলকে অবশ্যই বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। একটি স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ গুশ এতজিওন বসতি ব্লকে রিজার্ভ কমব্যাট অফিসারদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেটের’ বরাতে জানা যায়, নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের মার্কিন বন্ধুদের কাছ থেকে ইসরায়েল যে সমর্থন পেয়েছে। আমি তার গভীর প্রশংসা করি। তবে আমাদের এখন এই নির্ভরতা থেকে মুক্ত হতে হবে এবং নিজেদের স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইসরায়েলকে তার সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়িয়ে যেতে হবে।’ তার মতে, নির্ভরতা থেকে মুক্ত হওয়া, শক্তি বৃদ্ধি করা, নতুন প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষ কমান্ডার তৈরি করাই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারক এবং লেবানন ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের প্রভাব নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এলো। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই চুক্তির বিরোধিতা করায় নেতানিয়াহু সরকারের মন্ত্রীদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ভ্যান্স কড়া ভাষায় বলেছিলেন, তিনি ইসরাইলি ক্যাবিনেটের সদস্য হলে বিশ্বের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের ওপর এভাবে আক্রমণ করতেন না।

তিনি মনে করিয়ে দেন, গত তিন মাসে ইসরাইলের সুরক্ষায় ব্যবহৃত দুই-তৃতীয়াংশ রক্ষণাত্মক অস্ত্রই আমেরিকার হাত দিয়ে তৈরি এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিশোধিত। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইসরাইলের সমস্যা ডোনাল্ড ট্রাম্প নন, এবং যারা এটি ভাবছেন তাদের বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করা উচিত।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ১৪ দফার সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ নামে পরিচিত এই স্মারকটি গত ১৮ জুন কার্যকর হয়। এই চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


মার্কিন ‘কবল’ থেকে মুক্তি চায় ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান মতপার্থক্যের জেরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার (২৩ জুন) বলেছেন, ‘ইসরায়েলকে অবশ্যই বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। একটি স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ গুশ এতজিওন বসতি ব্লকে রিজার্ভ কমব্যাট অফিসারদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেটের’ বরাতে জানা যায়, নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের মার্কিন বন্ধুদের কাছ থেকে ইসরায়েল যে সমর্থন পেয়েছে। আমি তার গভীর প্রশংসা করি। তবে আমাদের এখন এই নির্ভরতা থেকে মুক্ত হতে হবে এবং নিজেদের স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইসরায়েলকে তার সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়িয়ে যেতে হবে।’ তার মতে, নির্ভরতা থেকে মুক্ত হওয়া, শক্তি বৃদ্ধি করা, নতুন প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষ কমান্ডার তৈরি করাই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারক এবং লেবানন ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের প্রভাব নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এলো। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই চুক্তির বিরোধিতা করায় নেতানিয়াহু সরকারের মন্ত্রীদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ভ্যান্স কড়া ভাষায় বলেছিলেন, তিনি ইসরাইলি ক্যাবিনেটের সদস্য হলে বিশ্বের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের ওপর এভাবে আক্রমণ করতেন না।

তিনি মনে করিয়ে দেন, গত তিন মাসে ইসরাইলের সুরক্ষায় ব্যবহৃত দুই-তৃতীয়াংশ রক্ষণাত্মক অস্ত্রই আমেরিকার হাত দিয়ে তৈরি এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিশোধিত। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইসরাইলের সমস্যা ডোনাল্ড ট্রাম্প নন, এবং যারা এটি ভাবছেন তাদের বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করা উচিত।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ১৪ দফার সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ নামে পরিচিত এই স্মারকটি গত ১৮ জুন কার্যকর হয়। এই চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত