টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডালিয়া পয়েন্টে পানি কিছুটা ওঠানামা করলেও ভাটিতে তীব্র বেগে পানি বাড়ায় প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল। পানির প্রচণ্ড চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেটই খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রংপুর পানি
উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন, ভারত গজলডোবা
ব্যারেজের ৪০টি গেট একযোগে খুলে দেওয়ায় রোববার রাত থেকে পানি হু হু করে বাড়তে থাকে
এবং একপর্যায়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে উত্তরের ৫ জেলা—রংপুর, লালমনিরহাট,
নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি বাড়ার
পাশাপাশি তিস্তাপাড়ের জেলাগুলোতে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ৫ জেলার
অন্তত ২৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
আকস্মিক এই
বন্যায় তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। চরাঞ্চলের বাদামক্ষেত, ধানের বীজতলা,
মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের কাশীরাম এলাকার বাদাম চাষি লোকমান মিয়া জানান, চরে ৭০ শতক
জমিতে চাষ করা চিনাবাদাম ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় গাছ হলুদ হয়ে পচন ধরছে। একই সাথে চলতি
আমন মৌসুমের জন্য প্রস্তুত করা বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে লোকসানের মুখে পড়েছেন
কৃষকরা।
তিস্তার পানি
বাড়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর,
বাঘের চর, সিঙ্গীমারি, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি; কালীগঞ্জের শৈলমারী,
চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন ও স্পারবাধ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়া রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা এবং কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা তীরবর্তী
চরাঞ্চলগুলো পুরোপুরি পানির নিচে।
মহিপুর তিস্তার
চরের বাসিন্দা বুলু মিয়া জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় গবাদি পশু
ও সন্তানদের নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে চর রাজপুরের বাসিন্দা আসাদুলসহ
একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত দুই দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও স্থানীয়
জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি।
ত্রাণ ও পুনর্বাসন
প্রসঙ্গে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানান: "তিস্তার মধ্যবর্তী চরের
কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের দ্রুত তালিকা তৈরি করতে
বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।"
ডালিয়া পানি
উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, পানি কখনো বিপৎসীমার ওপরে
আবার কখনো নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় বেলা বাড়ার
সঙ্গে সঙ্গে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চরের বাসিন্দাদের নিরাপদ
আশ্রয়ে ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডালিয়া পয়েন্টে পানি কিছুটা ওঠানামা করলেও ভাটিতে তীব্র বেগে পানি বাড়ায় প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল। পানির প্রচণ্ড চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেটই খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রংপুর পানি
উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন, ভারত গজলডোবা
ব্যারেজের ৪০টি গেট একযোগে খুলে দেওয়ায় রোববার রাত থেকে পানি হু হু করে বাড়তে থাকে
এবং একপর্যায়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে উত্তরের ৫ জেলা—রংপুর, লালমনিরহাট,
নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি বাড়ার
পাশাপাশি তিস্তাপাড়ের জেলাগুলোতে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ৫ জেলার
অন্তত ২৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
আকস্মিক এই
বন্যায় তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। চরাঞ্চলের বাদামক্ষেত, ধানের বীজতলা,
মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের কাশীরাম এলাকার বাদাম চাষি লোকমান মিয়া জানান, চরে ৭০ শতক
জমিতে চাষ করা চিনাবাদাম ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় গাছ হলুদ হয়ে পচন ধরছে। একই সাথে চলতি
আমন মৌসুমের জন্য প্রস্তুত করা বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে লোকসানের মুখে পড়েছেন
কৃষকরা।
তিস্তার পানি
বাড়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর,
বাঘের চর, সিঙ্গীমারি, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি; কালীগঞ্জের শৈলমারী,
চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন ও স্পারবাধ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়া রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা এবং কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা তীরবর্তী
চরাঞ্চলগুলো পুরোপুরি পানির নিচে।
মহিপুর তিস্তার
চরের বাসিন্দা বুলু মিয়া জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় গবাদি পশু
ও সন্তানদের নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে চর রাজপুরের বাসিন্দা আসাদুলসহ
একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত দুই দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও স্থানীয়
জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি।
ত্রাণ ও পুনর্বাসন
প্রসঙ্গে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানান: "তিস্তার মধ্যবর্তী চরের
কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের দ্রুত তালিকা তৈরি করতে
বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।"
ডালিয়া পানি
উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, পানি কখনো বিপৎসীমার ওপরে
আবার কখনো নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় বেলা বাড়ার
সঙ্গে সঙ্গে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চরের বাসিন্দাদের নিরাপদ
আশ্রয়ে ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন