সংবাদ

দুমকিতে ফায়ার সার্ভিস নেই, ভরসা শুধু চোখের পানি


প্রতিনিধি, দুমকি (পটুয়াখালী)
প্রতিনিধি, দুমকি (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

দুমকিতে ফায়ার সার্ভিস নেই, ভরসা শুধু চোখের পানি
ছবি : সংগৃহীত

আগুন লাগলে নেভানোর কেউ নেই, চোখের সামনে সম্পদ পুড়ে ছাই হওয়া দেখা ছাড়া স্থানীয়দের আর কিছুই করার থাকে না। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় কোনো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন না থাকায় অগ্নিকাণ্ডে বারবার নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। জেলা সদর থেকে দমকল বাহিনী আসতে আসতে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় দুমকিবাসী এখন বলছেন-‘এখানে ফায়ার সার্ভিস নেই, আছে শুধু চোখের পানি।’

বর্তমানে দুমকিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে পটুয়াখালী জেলা সদর বা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে হয়। ১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে অন্তত ৪০ মিনিট। স্থানীয়দের মতে, আগুনের প্রথম ১০-১৫ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অথচ সেই সময়ে কোনো সাহায্য পাওয়া যায় না। ফলে সামান্য আগুনও মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয়।

সম্প্রতি উপজেলার নতুন বাজারে একটি ভাতের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে পীরতলা বাজার, থানা ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে জেএস মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, হাওলাদার বেকারি ও বোর্ড অফিস বাজারে একাধিকবার বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, সময়মতো ফায়ার সার্ভিস না আসায় তারা আজ পথের ফকির।

দুমকি উপজেলার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এখানে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) অবস্থিত। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও গুরুত্বপূর্ণ ল্যাবরেটরি থাকার পরও এখানে একটি ফায়ার স্টেশন না থাকা জননিরাপত্তার বড় অভাব হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রকৌশলী মো. আফজার হোসেন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস কোনো বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার অধিকার। আমরা চাই না আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক বা কোনো ব্যবসায়ীর স্বপ্ন পুড়ে ছাই হোক।’

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়, সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে দুমকিতে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হোক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


দুমকিতে ফায়ার সার্ভিস নেই, ভরসা শুধু চোখের পানি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

আগুন লাগলে নেভানোর কেউ নেই, চোখের সামনে সম্পদ পুড়ে ছাই হওয়া দেখা ছাড়া স্থানীয়দের আর কিছুই করার থাকে না। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় কোনো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন না থাকায় অগ্নিকাণ্ডে বারবার নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। জেলা সদর থেকে দমকল বাহিনী আসতে আসতে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় দুমকিবাসী এখন বলছেন-‘এখানে ফায়ার সার্ভিস নেই, আছে শুধু চোখের পানি।’

বর্তমানে দুমকিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে পটুয়াখালী জেলা সদর বা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে হয়। ১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে অন্তত ৪০ মিনিট। স্থানীয়দের মতে, আগুনের প্রথম ১০-১৫ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অথচ সেই সময়ে কোনো সাহায্য পাওয়া যায় না। ফলে সামান্য আগুনও মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয়।

সম্প্রতি উপজেলার নতুন বাজারে একটি ভাতের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে পীরতলা বাজার, থানা ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে জেএস মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, হাওলাদার বেকারি ও বোর্ড অফিস বাজারে একাধিকবার বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, সময়মতো ফায়ার সার্ভিস না আসায় তারা আজ পথের ফকির।

দুমকি উপজেলার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এখানে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) অবস্থিত। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও গুরুত্বপূর্ণ ল্যাবরেটরি থাকার পরও এখানে একটি ফায়ার স্টেশন না থাকা জননিরাপত্তার বড় অভাব হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রকৌশলী মো. আফজার হোসেন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস কোনো বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার অধিকার। আমরা চাই না আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক বা কোনো ব্যবসায়ীর স্বপ্ন পুড়ে ছাই হোক।’

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়, সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে দুমকিতে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হোক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত