সংবাদ

দক্ষিণ কোরিয়ার কোচকে ‘হত্যার হুমকি’!


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ার কোচকে ‘হত্যার হুমকি’!

বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায়ের পর জাতীয় দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বোকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত আরও জোরদার করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ।

 বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই জাতীয় দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পাশাপাশি তাঁকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি জানিয়েছে, হং মিউং-বোর নিয়োগ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সোমবার পুলিশ জানায়, কোরিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) সভাপতি চুং মং-গ্যু এবং সংস্থাটির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর লি লিম-সেংয়ের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আইনি বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে।

এই তদন্তের সূচনা হয় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। সে সময় কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি এবং বিশ্বস্ততার দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে কেএফএর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

চলতি বছরে মামলাটি নতুন মোড় নেয়, যখন সিউল প্রশাসনিক আদালত রায় দেয় যে, হং মিউং-বোকে প্রধান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সময় কেএফএ অবৈধভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ফেডারেশন। আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

এদিকে তদন্ত চলাকালেই বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার হতাশাজনক পারফরম্যান্স ঘিরে সমর্থকদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। রোববার একটি অনলাইন কমিউনিটিতে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে হং মিউং-বোকে হত্যা করবো।’

নিজেকে ৪১ বছর বয়সী একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি দাবি করেন, জাতীয় দল দেশে ফেরার সময় ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোচের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছেন।

এই হুমকির পর পুলিশ জানিয়েছে, পোস্টটি যিনি করেছেন তাঁকে শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হং মিউং-বো এবং জাতীয় দলের আটজন খেলোয়াড়ের মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ায় ফেরার কথা রয়েছে।

শুধু এই হুমকিই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য সহিংস বার্তার বিষয়েও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

সমর্থকদের অসন্তোষ অনলাইন সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে হং মিউং-বোকে ব্যঙ্গ করে তৈরি করা অসংখ্য ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি শেয়ার হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে নামার পর সমর্থকদের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে দৌড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছেন কোচ।

সমর্থকদের ক্ষোভ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও প্রভাব ফেলেছে। আনইয়াং শহরের একটি বারের প্রবেশপথে নোটিশ টাঙিয়ে জানানো হয়েছে, হং মিউং-বোর ওই প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

বারটির মালিক ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সিকে বলেন, বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ম্যাচটি দেখে আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। আমার মতো অনেক মানুষই হতাশ হয়েছেন, কারণ কোচ হিসেবে তিনি কোনো সামর্থ্যেরই প্রমাণ দিতে পারেননি।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


দক্ষিণ কোরিয়ার কোচকে ‘হত্যার হুমকি’!

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায়ের পর জাতীয় দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বোকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত আরও জোরদার করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ।

 বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই জাতীয় দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পাশাপাশি তাঁকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি জানিয়েছে, হং মিউং-বোর নিয়োগ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সোমবার পুলিশ জানায়, কোরিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) সভাপতি চুং মং-গ্যু এবং সংস্থাটির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর লি লিম-সেংয়ের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আইনি বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে।

এই তদন্তের সূচনা হয় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। সে সময় কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি এবং বিশ্বস্ততার দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে কেএফএর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

চলতি বছরে মামলাটি নতুন মোড় নেয়, যখন সিউল প্রশাসনিক আদালত রায় দেয় যে, হং মিউং-বোকে প্রধান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সময় কেএফএ অবৈধভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ফেডারেশন। আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

এদিকে তদন্ত চলাকালেই বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার হতাশাজনক পারফরম্যান্স ঘিরে সমর্থকদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। রোববার একটি অনলাইন কমিউনিটিতে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে হং মিউং-বোকে হত্যা করবো।’

নিজেকে ৪১ বছর বয়সী একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি দাবি করেন, জাতীয় দল দেশে ফেরার সময় ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোচের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছেন।

এই হুমকির পর পুলিশ জানিয়েছে, পোস্টটি যিনি করেছেন তাঁকে শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হং মিউং-বো এবং জাতীয় দলের আটজন খেলোয়াড়ের মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ায় ফেরার কথা রয়েছে।

শুধু এই হুমকিই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য সহিংস বার্তার বিষয়েও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

সমর্থকদের অসন্তোষ অনলাইন সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে হং মিউং-বোকে ব্যঙ্গ করে তৈরি করা অসংখ্য ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি শেয়ার হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে নামার পর সমর্থকদের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে দৌড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছেন কোচ।

সমর্থকদের ক্ষোভ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও প্রভাব ফেলেছে। আনইয়াং শহরের একটি বারের প্রবেশপথে নোটিশ টাঙিয়ে জানানো হয়েছে, হং মিউং-বোর ওই প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

বারটির মালিক ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সিকে বলেন, বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ম্যাচটি দেখে আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। আমার মতো অনেক মানুষই হতাশ হয়েছেন, কারণ কোচ হিসেবে তিনি কোনো সামর্থ্যেরই প্রমাণ দিতে পারেননি।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত