ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের কোন্দলের জেরে হামলার শিকার ভ্যানচালক একেন আলী মোল্লা (৬০) মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত একেন আলী উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর আউয়াল এবং সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৫ জুন জামির হোসেনের এক সমর্থককে মাদকসহ আটক করে পুলিশ। জামিরের পক্ষের লোকজনের ধারণা ছিল, আউয়ালের সমর্থকেরা পুলিশকে তথ্য দিয়ে তাকে ধরিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
গত শনিবার (২৭ জুন) সকালে জামির হোসেনের সমর্থকেরা আউয়ালের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ভ্যানচালক একেন আলী মোল্লাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া ও পরে ফরিদপুরে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাতে ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ জামির হোসেন দাবি করেন, একেন আলী অসুস্থ ছিলেন এবং তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় আগে করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হবে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আপনার মতামত লিখুন