সংবাদ

মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধের গ্রাফ অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখানোর পেছনে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেছেন, বর্তমানে থানায় গিয়ে মামলা করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা নেই। ফলে রেকর্ডভুক্ত ঘটনার সংখ্যা আগের চেয়ে বেশি দেখাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য এবার ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা মঞ্জুরির দাবি পেশ করা হয়। এরপর বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা এই দাবি ছাঁটাই করে বরাদ্দ মাত্র ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

"গত মার্চ ও এপ্রিলেই সারা দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০টিরও বেশি খুন হচ্ছে। এই যখন আমাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তখন আমরা ৩১ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দের দাবি তুলছি!"

আইনজীবীদের ব্যান্ড পরে অধিবেশনে অংশ নেওয়া রুমিন ফারহানা অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চমৎকার বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মুগ্ধতা যদি তিনি তার কাজের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন, তাহলে বাজেট ১ টাকা করার প্রস্তাব তিনি দিতেন না।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল খালেক দেশে মাদকের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে ইউনিয়ন ও মহল্লাভিত্তিক গ্রাম পুলিশ নিয়োগের মাধ্যমে মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দেন।

সংসদ সদস্যদের এসব সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "গত ১০-১৫ বছরের তুলনায় খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ডাকাতির পরিসংখ্যানে আমরা ঐতিহাসিকভাবে বেশ উন্নত ও ভালো অবস্থানে আছি। তবে একটি ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি, সেটি হলো ধর্ষণের মামলা রেকর্ডের ক্ষেত্রে।"

এর কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন: আগে সামাজিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ভয়ে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি বা তাদের পরিবার থানায় যেতে পারতেন না। এখন তারা সরাসরি থানায় গিয়ে কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে অনায়াসে অভিযোগ দায়ের করতে পারছেন।

এই প্রক্রিয়ায় এখন কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক হস্তক্ষেপ না থাকায় রেকর্ডের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে সুখের বিষয় হলো, ঘটনা যেখানেই ঘটুক না কেন, পুলিশ এখন তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।

গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া কোনো দেশেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বরাদ্দ ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বেড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও জুয়া প্রতিরোধ আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পাস হওয়ার পর প্রকল্প অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও বরাদ্দ চাওয়া হবে।

সবশেষে রুমিন ফারহানার পোশাক (আইনজীবীদের ব্যান্ড) প্রসঙ্গে মন্তব্য করে মন্ত্রী রসাত্মকভাবে বলেন, সংসদের নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি রয়েছে, যেখানে বাইরের কোনো বিধি প্রযোজ্য নয়। পোশাকের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও রুমিন ফারহানার পরা পোশাকটি অত্যন্ত শোভন ও সুন্দর ছিল।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধের গ্রাফ অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখানোর পেছনে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেছেন, বর্তমানে থানায় গিয়ে মামলা করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা নেই। ফলে রেকর্ডভুক্ত ঘটনার সংখ্যা আগের চেয়ে বেশি দেখাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য এবার ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা মঞ্জুরির দাবি পেশ করা হয়। এরপর বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা এই দাবি ছাঁটাই করে বরাদ্দ মাত্র ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

"গত মার্চ ও এপ্রিলেই সারা দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০টিরও বেশি খুন হচ্ছে। এই যখন আমাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তখন আমরা ৩১ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দের দাবি তুলছি!"

আইনজীবীদের ব্যান্ড পরে অধিবেশনে অংশ নেওয়া রুমিন ফারহানা অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চমৎকার বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মুগ্ধতা যদি তিনি তার কাজের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন, তাহলে বাজেট ১ টাকা করার প্রস্তাব তিনি দিতেন না।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল খালেক দেশে মাদকের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে ইউনিয়ন ও মহল্লাভিত্তিক গ্রাম পুলিশ নিয়োগের মাধ্যমে মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দেন।

সংসদ সদস্যদের এসব সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "গত ১০-১৫ বছরের তুলনায় খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ডাকাতির পরিসংখ্যানে আমরা ঐতিহাসিকভাবে বেশ উন্নত ও ভালো অবস্থানে আছি। তবে একটি ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি, সেটি হলো ধর্ষণের মামলা রেকর্ডের ক্ষেত্রে।"

এর কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন: আগে সামাজিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ভয়ে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি বা তাদের পরিবার থানায় যেতে পারতেন না। এখন তারা সরাসরি থানায় গিয়ে কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে অনায়াসে অভিযোগ দায়ের করতে পারছেন।

এই প্রক্রিয়ায় এখন কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক হস্তক্ষেপ না থাকায় রেকর্ডের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে সুখের বিষয় হলো, ঘটনা যেখানেই ঘটুক না কেন, পুলিশ এখন তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।

গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া কোনো দেশেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বরাদ্দ ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বেড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও জুয়া প্রতিরোধ আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পাস হওয়ার পর প্রকল্প অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও বরাদ্দ চাওয়া হবে।

সবশেষে রুমিন ফারহানার পোশাক (আইনজীবীদের ব্যান্ড) প্রসঙ্গে মন্তব্য করে মন্ত্রী রসাত্মকভাবে বলেন, সংসদের নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি রয়েছে, যেখানে বাইরের কোনো বিধি প্রযোজ্য নয়। পোশাকের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও রুমিন ফারহানার পরা পোশাকটি অত্যন্ত শোভন ও সুন্দর ছিল।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত