চলতি বছরের শুরু থেকেই অস্থির স্বর্ণের বাজার। প্রথম ছয় মাসেই দাম সমন্বয় হয়েছে ৮৪ বার। যেখানে ৪১ বার দাম বেড়েছে, ৪২ বার কমেছে। শুধু একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০।
কী কারণে এই অস্থিরতা? স্বর্ণের বাজার কি স্থিতিশীল হচ্ছে, নাকি আরও অস্থিরতার অপেক্ষায়? তথ্য অনুযায়ী, গেল জানুয়ারি ছিল সোনার দামের রেকর্ডের মাস। ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বছরের প্রথম মাসেই স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা যায়। মাসের শুরুতে দাম কমলেও মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় টানা উত্থান- ১০, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি টানা ছয় দফা বাড়ে দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি গিয়ে ঠেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায়।
এরপর ২৩ জানুয়ারি রেকর্ড ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। ২৯ জানুয়ারি আরও ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে- ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা।
তারপরই শুরু হয় ছন্দপতন। ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা দুই দিনে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমে যায়। তবে ৩১ জানুয়ারি সকালে দাম কমানোর ১২ ঘণ্টাও পেরোতে না পেরোতে আবার বাড়ানো হয় দাম।
ফেব্রুয়ারিতে ১৫ বার দাম সমন্বয় (বেড়েছে ৮, কমেছে ৭)। মার্চে ১৬ বার (বেড়েছে ৭, কমেছে ৯)। এপ্রিলে ১০ বার (বেড়েছে ৪, কমেছে ৬)। মে মাসে ৯ বার (বেড়েছে ৪, কমেছে ৫)।
চলতি জুন মাসে দাম সমন্বয় হয়েছে ১৫ বার। যেখানে বাড়ানো হয়েছে ৪ দফা, কমেছে ১০ দফা এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। সবশেষ ৩০ জুন ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকায়।
কেন অস্থিরতা
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে দাম ওঠা-নামার কারণেই দেশের বাজারেও প্রভাব পড়ে। বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতার জন্য বাজুস বা বাংলাদেশের কেউ দায়ী নয়। মূলত বিদেশে স্টক করা বা কাগজে কলমে লেনদেনের কারণে এই ওঠা-নামা ঘটছে।'
তিনি আরও বলেন, দাম সমন্বয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো স্বর্ণ পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হওয়া। দেশে দাম কম থাকলে স্বর্ণ পাচার হয়ে যাবে- এজন্য বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দাম সমন্বয় করা হয়।
বাজুস সভাপতি জানান, মানুষ এখন স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো- পৃথিবীর বাজারে বিক্রিত স্বর্ণের অনেকাংশই কাগজে কলমের মাধ্যমে (পেপার ট্রেডিং) মজুত করা হয়। বাস্তবে ফিজিক্যাল স্বর্ণ কতটা আছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের দামের এই চাঞ্চল্যকর ওঠা-নামা বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তারই প্রতিচ্ছবি। করোনা-পরবর্তী বিশ্বে মূল্যস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পেপার গোল্ডের প্রাধান্য- এই কয়েকটি বিষয়ই স্বর্ণের বাজারকে অস্থির করে রেখেছে।
আগামী দিনে স্বর্ণের বাজার কোন দিকে যাবে- সে প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এত অল্প সময়ে এত দফা দাম সমন্বয় ইঙ্গিত দেয়, বাজার নিশ্চয়ই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও সময় নেবে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
চলতি বছরের শুরু থেকেই অস্থির স্বর্ণের বাজার। প্রথম ছয় মাসেই দাম সমন্বয় হয়েছে ৮৪ বার। যেখানে ৪১ বার দাম বেড়েছে, ৪২ বার কমেছে। শুধু একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০।
কী কারণে এই অস্থিরতা? স্বর্ণের বাজার কি স্থিতিশীল হচ্ছে, নাকি আরও অস্থিরতার অপেক্ষায়? তথ্য অনুযায়ী, গেল জানুয়ারি ছিল সোনার দামের রেকর্ডের মাস। ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বছরের প্রথম মাসেই স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা যায়। মাসের শুরুতে দাম কমলেও মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় টানা উত্থান- ১০, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি টানা ছয় দফা বাড়ে দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি গিয়ে ঠেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায়।
এরপর ২৩ জানুয়ারি রেকর্ড ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। ২৯ জানুয়ারি আরও ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে- ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা।
তারপরই শুরু হয় ছন্দপতন। ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা দুই দিনে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমে যায়। তবে ৩১ জানুয়ারি সকালে দাম কমানোর ১২ ঘণ্টাও পেরোতে না পেরোতে আবার বাড়ানো হয় দাম।
ফেব্রুয়ারিতে ১৫ বার দাম সমন্বয় (বেড়েছে ৮, কমেছে ৭)। মার্চে ১৬ বার (বেড়েছে ৭, কমেছে ৯)। এপ্রিলে ১০ বার (বেড়েছে ৪, কমেছে ৬)। মে মাসে ৯ বার (বেড়েছে ৪, কমেছে ৫)।
চলতি জুন মাসে দাম সমন্বয় হয়েছে ১৫ বার। যেখানে বাড়ানো হয়েছে ৪ দফা, কমেছে ১০ দফা এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। সবশেষ ৩০ জুন ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকায়।
কেন অস্থিরতা
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে দাম ওঠা-নামার কারণেই দেশের বাজারেও প্রভাব পড়ে। বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতার জন্য বাজুস বা বাংলাদেশের কেউ দায়ী নয়। মূলত বিদেশে স্টক করা বা কাগজে কলমে লেনদেনের কারণে এই ওঠা-নামা ঘটছে।'
তিনি আরও বলেন, দাম সমন্বয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো স্বর্ণ পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হওয়া। দেশে দাম কম থাকলে স্বর্ণ পাচার হয়ে যাবে- এজন্য বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দাম সমন্বয় করা হয়।
বাজুস সভাপতি জানান, মানুষ এখন স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো- পৃথিবীর বাজারে বিক্রিত স্বর্ণের অনেকাংশই কাগজে কলমের মাধ্যমে (পেপার ট্রেডিং) মজুত করা হয়। বাস্তবে ফিজিক্যাল স্বর্ণ কতটা আছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের দামের এই চাঞ্চল্যকর ওঠা-নামা বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তারই প্রতিচ্ছবি। করোনা-পরবর্তী বিশ্বে মূল্যস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পেপার গোল্ডের প্রাধান্য- এই কয়েকটি বিষয়ই স্বর্ণের বাজারকে অস্থির করে রেখেছে।
আগামী দিনে স্বর্ণের বাজার কোন দিকে যাবে- সে প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এত অল্প সময়ে এত দফা দাম সমন্বয় ইঙ্গিত দেয়, বাজার নিশ্চয়ই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও সময় নেবে।

আপনার মতামত লিখুন