আরও এক বার ব্যর্থ চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। এই নিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপে হতাশ করেছে তারা। এবার রাউন্ড অফ ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বাদ যেতে হয়েছে তাদের। এই হারের পর দলের সব ফুটবলারকে দায়ী করেছেন অধিনায়ক জোসুয়া কিমিচ।
এই হারের পর জার্মানির কোচ
জুলিয়ান নাগেলসম্যান চাপে। হারের জন্য কোচের দায় কতটা, এই প্রশ্ন করা হয়েছিল কিমিচকে।
খেলা শেষে দলের অধিনায়ক বলেন, ‘দিনের শেষে সব দায় ফুটবলারদের। আমাদের উচিত ছিল প্যারাগুয়ের
মতো একটা দলকে হারানো। ওদের ছোট করছি না। কিন্তু আপনারাও জানেন, তৃতীয় স্থানাধিকারী
দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শেষে থাকা একটা দল পরের রাউন্ডে চলে গেলো। আমরা পারলাম না। এই
হারের জন্য দলের সব ফুটবলার দায়ী।’ কিমিচের কথা থেকে স্পষ্ট, কোচ নন, ২৬ জন ফুটবলারকেই
দায়ী করেছেন তিনি।
জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচে
বিতর্ক হয়েছে একটি গোল বাতিলকে কেন্দ্র করে। অনেকের দাবি, গোলটি ন্যায্য ছিল। কিমিচ
সেসব নিয়ে ভাবছেন না। তিনি নিজেদের ছাড়া কাউকে দায়ী করছেন না। জার্মানির অধিনায়ক বলেন,
‘রেফারিকে দায়ী করা বা টাইব্রেকারের অজুহাত দেয়ার কোনো মানে নেই। যদি আপনি ১২০ মিনিটে
জিততে না পারেন, তা হলে আপনার বেরিয়ে যাওয়াই উচিত। সব সময় ভাগ্যের ওপর নির্ভর করা যায়
না। আমাদের দলের যা দক্ষতা, তাতে ১২০ মিনিটের মধ্যে জিতে যাওয়া উচিত ছিল। আমরা পারিনি।
দায় আমাদের।’ অধিনায়ক হিসেবে এই হার হজম করতে কষ্ট হচ্ছে কিমিচের। তিনি যে জার্মানিকে
দেখে বড় হয়েছেন তার সঙ্গে এই দলের মিল পাচ্ছেন না। কিমিচ বলেন, ‘ছোট বেলায় যে জার্মানিকে
টেলিভিশনে দেখেছি, তারা সেমিফাইনাল, ফাইনালে খেলত। চ্যাম্পিয়ন হতো। সেটা দেখেই তো ফুটবলার
হওয়া। কিন্তু এই জার্মানিকে দেখে হতাশ লাগছে। সমর্থকেরা কত আশা নিয়ে এসেছিল। সবইকে
খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। তার ওপর অধিনায়ক হিসেবে আমার বাড়তি দায়িত্ব ছিল। সেই দায়িত্ব
সামলাতে পারিনি। অধিনায়ক হিসেবে এই হার আমার কাছে আরও বেশি কষ্টের।’
এ বারের বিশ্বকাপ জেতার বড় দাবিদার ছিল জার্মানি। বিশ্বকাপের আগে ভালো ফর্মে ছিল তারা। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছিল তাদের। কুরাসাওকে ৭ গোল দিয়েছিল তারা। কিন্তু গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে ধাক্কা খায় জার্মানি। ল্যাটিন আমেরিকার আরও একটি দল প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো তাদের।
‘ওদের খেলতেই দিইনি!’
চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড়
অঘটন ঘটিয়েছে প্যারাগুয়ে। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে
তারা। যে জার্মানি এর আগে বিশ্বকাপে কোনো দিন টাইব্রেকারে হারেনি তাদের টাইব্রেকারেই
হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। খেলা শেষে প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো জানান, জার্মানিকে
খেলতেই দেননি তারা।
খেলা শেষে গুস্তাভো জানান,
শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন, তা মাঠে বাস্তবে করে দেখিয়েছেন
ফুটবলারেরা। গুস্তাভো বলেন, ‘ফুটবলারেরা ভালো করে বুঝেছিল, মাঠে নেমে কী করতে হবে।
ওরা সেটাই করেছে। জার্মানিকে জায়গা দিইনি আমরা। ওদের স্বাভাবিক খেলা খেলতেই দিইনি।’
জার্মানির মতো একটা দলের বিরুদ্ধে
নিজেদের নিংড়ে দিয়েছেন ফুটবলারেরা। দলকে নিয়ে গর্বিত কোচ গুস্তাভো বলেন, ‘পুরো ম্যাচ
জুড়ে চাপে ছিলাম। শুরু থেকে আমরা জানতাম ওদের আটকানো কঠিন হবে। এমন একটা দলের বিপক্ষে
নেমেছিলাম, যারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবিদার। ওদের বিরুদ্ধে সবাই নিজের ১০০ শতাংশ দিয়েছে।
এই রকম একটা দলের কোচ হতে পেরে আমি গর্বিত।’
ম্যাসাচুসেটসের গরমে টানা
১২০ মিনিট খেলার ধকল সহজ ছিল না। সেটাই তার দল করে দেখিয়েছে। এক বারের জন্যও হাল ছাড়েনি
তারা। এই মনোভাবই তাদের জিতিয়েছে বলে মনে করেন গুস্তাভো। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক দুর্বলতা
আছে। কিন্তু তার মধ্যেও নিজেদের সেরাটা দিয়েছি। খুব গরম ছিল। এতো গরমে ১২০ মিনিট খেলা
সহজ নয়। তবু আমরা হাল ছাড়িনি।’
টাইব্রেকারেও দেখা গিয়েছে
নাটক। দু’দলই শুরুর পাঁচটি পেনাল্টিতে দু’টি করে ব্যর্থ হয়। কিন্তু সাডেন ডেথে জার্মানিকে
হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। কষ্ট না করলে এই জয় আসত না বলেই মনে করেন গুস্তাভো। তিনি বলেন,
‘দেখে মনে হচ্ছিল, কষ্ট না করলে জিততে পারবো না। কী নাটক হলো। ষষ্ঠ পেনাল্টিতে গিয়ে
জিতলাম।’
জার্মানিকে হারালেও সামনে কঠিন লড়াই। ফ্রান্স ও সুইডেন ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে শেষ ষোলোয় খেলতে নামবে প্যারাগুয়ে। আরও একটি কঠিন ম্যাচ। তবে জার্মানিকে হারিয়ে যে আত্মবিশ্বাস তারা পেয়েছেন তা আগামী ম্যাচে কাজে লাগাতে চাইবেন গুস্তাভো। সেই পরিকল্পনাই শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
আরও এক বার ব্যর্থ চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। এই নিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপে হতাশ করেছে তারা। এবার রাউন্ড অফ ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বাদ যেতে হয়েছে তাদের। এই হারের পর দলের সব ফুটবলারকে দায়ী করেছেন অধিনায়ক জোসুয়া কিমিচ।
এই হারের পর জার্মানির কোচ
জুলিয়ান নাগেলসম্যান চাপে। হারের জন্য কোচের দায় কতটা, এই প্রশ্ন করা হয়েছিল কিমিচকে।
খেলা শেষে দলের অধিনায়ক বলেন, ‘দিনের শেষে সব দায় ফুটবলারদের। আমাদের উচিত ছিল প্যারাগুয়ের
মতো একটা দলকে হারানো। ওদের ছোট করছি না। কিন্তু আপনারাও জানেন, তৃতীয় স্থানাধিকারী
দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শেষে থাকা একটা দল পরের রাউন্ডে চলে গেলো। আমরা পারলাম না। এই
হারের জন্য দলের সব ফুটবলার দায়ী।’ কিমিচের কথা থেকে স্পষ্ট, কোচ নন, ২৬ জন ফুটবলারকেই
দায়ী করেছেন তিনি।
জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচে
বিতর্ক হয়েছে একটি গোল বাতিলকে কেন্দ্র করে। অনেকের দাবি, গোলটি ন্যায্য ছিল। কিমিচ
সেসব নিয়ে ভাবছেন না। তিনি নিজেদের ছাড়া কাউকে দায়ী করছেন না। জার্মানির অধিনায়ক বলেন,
‘রেফারিকে দায়ী করা বা টাইব্রেকারের অজুহাত দেয়ার কোনো মানে নেই। যদি আপনি ১২০ মিনিটে
জিততে না পারেন, তা হলে আপনার বেরিয়ে যাওয়াই উচিত। সব সময় ভাগ্যের ওপর নির্ভর করা যায়
না। আমাদের দলের যা দক্ষতা, তাতে ১২০ মিনিটের মধ্যে জিতে যাওয়া উচিত ছিল। আমরা পারিনি।
দায় আমাদের।’ অধিনায়ক হিসেবে এই হার হজম করতে কষ্ট হচ্ছে কিমিচের। তিনি যে জার্মানিকে
দেখে বড় হয়েছেন তার সঙ্গে এই দলের মিল পাচ্ছেন না। কিমিচ বলেন, ‘ছোট বেলায় যে জার্মানিকে
টেলিভিশনে দেখেছি, তারা সেমিফাইনাল, ফাইনালে খেলত। চ্যাম্পিয়ন হতো। সেটা দেখেই তো ফুটবলার
হওয়া। কিন্তু এই জার্মানিকে দেখে হতাশ লাগছে। সমর্থকেরা কত আশা নিয়ে এসেছিল। সবইকে
খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। তার ওপর অধিনায়ক হিসেবে আমার বাড়তি দায়িত্ব ছিল। সেই দায়িত্ব
সামলাতে পারিনি। অধিনায়ক হিসেবে এই হার আমার কাছে আরও বেশি কষ্টের।’
এ বারের বিশ্বকাপ জেতার বড় দাবিদার ছিল জার্মানি। বিশ্বকাপের আগে ভালো ফর্মে ছিল তারা। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছিল তাদের। কুরাসাওকে ৭ গোল দিয়েছিল তারা। কিন্তু গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে ধাক্কা খায় জার্মানি। ল্যাটিন আমেরিকার আরও একটি দল প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো তাদের।
‘ওদের খেলতেই দিইনি!’
চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড়
অঘটন ঘটিয়েছে প্যারাগুয়ে। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে
তারা। যে জার্মানি এর আগে বিশ্বকাপে কোনো দিন টাইব্রেকারে হারেনি তাদের টাইব্রেকারেই
হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। খেলা শেষে প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো জানান, জার্মানিকে
খেলতেই দেননি তারা।
খেলা শেষে গুস্তাভো জানান,
শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন, তা মাঠে বাস্তবে করে দেখিয়েছেন
ফুটবলারেরা। গুস্তাভো বলেন, ‘ফুটবলারেরা ভালো করে বুঝেছিল, মাঠে নেমে কী করতে হবে।
ওরা সেটাই করেছে। জার্মানিকে জায়গা দিইনি আমরা। ওদের স্বাভাবিক খেলা খেলতেই দিইনি।’
জার্মানির মতো একটা দলের বিরুদ্ধে
নিজেদের নিংড়ে দিয়েছেন ফুটবলারেরা। দলকে নিয়ে গর্বিত কোচ গুস্তাভো বলেন, ‘পুরো ম্যাচ
জুড়ে চাপে ছিলাম। শুরু থেকে আমরা জানতাম ওদের আটকানো কঠিন হবে। এমন একটা দলের বিপক্ষে
নেমেছিলাম, যারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবিদার। ওদের বিরুদ্ধে সবাই নিজের ১০০ শতাংশ দিয়েছে।
এই রকম একটা দলের কোচ হতে পেরে আমি গর্বিত।’
ম্যাসাচুসেটসের গরমে টানা
১২০ মিনিট খেলার ধকল সহজ ছিল না। সেটাই তার দল করে দেখিয়েছে। এক বারের জন্যও হাল ছাড়েনি
তারা। এই মনোভাবই তাদের জিতিয়েছে বলে মনে করেন গুস্তাভো। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক দুর্বলতা
আছে। কিন্তু তার মধ্যেও নিজেদের সেরাটা দিয়েছি। খুব গরম ছিল। এতো গরমে ১২০ মিনিট খেলা
সহজ নয়। তবু আমরা হাল ছাড়িনি।’
টাইব্রেকারেও দেখা গিয়েছে
নাটক। দু’দলই শুরুর পাঁচটি পেনাল্টিতে দু’টি করে ব্যর্থ হয়। কিন্তু সাডেন ডেথে জার্মানিকে
হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। কষ্ট না করলে এই জয় আসত না বলেই মনে করেন গুস্তাভো। তিনি বলেন,
‘দেখে মনে হচ্ছিল, কষ্ট না করলে জিততে পারবো না। কী নাটক হলো। ষষ্ঠ পেনাল্টিতে গিয়ে
জিতলাম।’
জার্মানিকে হারালেও সামনে কঠিন লড়াই। ফ্রান্স ও সুইডেন ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে শেষ ষোলোয় খেলতে নামবে প্যারাগুয়ে। আরও একটি কঠিন ম্যাচ। তবে জার্মানিকে হারিয়ে যে আত্মবিশ্বাস তারা পেয়েছেন তা আগামী ম্যাচে কাজে লাগাতে চাইবেন গুস্তাভো। সেই পরিকল্পনাই শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন