পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত টোল হিসেবে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়েই সরকারের কোষাগারে ঋণের কিস্তি জমা দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর ২৬ জুন থেকে পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত সেতুটি দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। টোল হিসেবে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা।
পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারের অর্থ বিভাগের সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের চুক্তি অনুযায়ী, ১ শতাংশ সুদহারে ৩৫ বছরের মধ্যে সুদসহ মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। প্রতি অর্থবছরে চার কিস্তিতে মোট ১৪০টি কিস্তিতে এই টাকা জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
এখন পর্যন্ত আদায়কৃত টোল থেকে ১৬টি কিস্তিতে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। কোনো কিস্তি বকেয়া নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া মোট টোলের ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২২১ টাকাও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। সমীক্ষায় নির্ধারিত ৪-লেনের হাইওয়ে ও রেল সংযোগের প্রাথমিক কারিগরি প্রস্তাব পরবর্তীতে সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাওয়া প্রান্তে সেতুর অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করলে মাওয়া-জাজিরা রুটটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে যুক্ত করার একমাত্র প্রধান রুট হিসেবে স্থায়ী রূপ পায়।
সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সেতুর সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিফাইড ন্যাশনাল ইটিসি ফ্রেমওয়ার্ক (ইউএনইএফ) ও অন্যান্য জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার ভাগ্যই বদলায়নি, বরং এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কোনো কিস্তি বকেয়া না রেখে যথাসময়ে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আর্থিক শৃঙ্খলা ও টোল আদায়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ বিভাগের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত টোল হিসেবে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়েই সরকারের কোষাগারে ঋণের কিস্তি জমা দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর ২৬ জুন থেকে পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত সেতুটি দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। টোল হিসেবে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা।
পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারের অর্থ বিভাগের সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের চুক্তি অনুযায়ী, ১ শতাংশ সুদহারে ৩৫ বছরের মধ্যে সুদসহ মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। প্রতি অর্থবছরে চার কিস্তিতে মোট ১৪০টি কিস্তিতে এই টাকা জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
এখন পর্যন্ত আদায়কৃত টোল থেকে ১৬টি কিস্তিতে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। কোনো কিস্তি বকেয়া নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া মোট টোলের ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২২১ টাকাও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। সমীক্ষায় নির্ধারিত ৪-লেনের হাইওয়ে ও রেল সংযোগের প্রাথমিক কারিগরি প্রস্তাব পরবর্তীতে সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাওয়া প্রান্তে সেতুর অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করলে মাওয়া-জাজিরা রুটটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে যুক্ত করার একমাত্র প্রধান রুট হিসেবে স্থায়ী রূপ পায়।
সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সেতুর সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিফাইড ন্যাশনাল ইটিসি ফ্রেমওয়ার্ক (ইউএনইএফ) ও অন্যান্য জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার ভাগ্যই বদলায়নি, বরং এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কোনো কিস্তি বকেয়া না রেখে যথাসময়ে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আর্থিক শৃঙ্খলা ও টোল আদায়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ বিভাগের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন