ফেনী শহরের বহুতল ভবনের পার্কিং স্পেসে অবৈধভাবে দোকানপাট বসানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা ও পৌর প্রশাসন। ইতিমধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার পাঁচটি ভবনের ২২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ফেনী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত ২১ মে ফেনী পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোমেল শর্মা এই আদেশ জারি করেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ফেনী শহরের ট্রাঙ্ক রোড ও শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের কয়েকটি বহুতল ভবনের বেজমেন্টে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ভাড়া দিয়েছে মালিকপক্ষ। এতে ভবনে আসা ক্রেতা ও সেবাগ্রহীতাদের যানবাহনগুলো রাস্তায় পার্কিং করতে হয়, যার ফলে শহরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিল্ডিং কোড মেনে পার্কিং সচল করতে ভবন মালিকদের ইতিপূর্বে কয়েকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা তা আমলে নেননি।
লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, ইত্যাদি হোটেল, ভাবনা সুজ, আনিকা সুজ, কে এস অ্যান্ড কোং, তাজমোহন ক্রোকারিজ, আরপি অ্যান্ড কোং, সায়মা কসমেটিকস, মা লেদার হাউস, চায়না লেদার হাউস, এস এম ফিল্টার হাউস, হিল ট্যাক্স, টাইলস ভুবন, সুমি কসমেটিকস, নিউ কেয়া বাজার এবং নাভানা সুজ। শেখ আহমদ টাওয়ার, ফাহাদ ভবন, সূচনা সেন্টার, গ্রিন টাওয়ার ও শাহ আলম টাওয়ারের পার্কিং স্পেসে থাকা দোকানগুলো এই আদেশের আওতায় রয়েছে।
ফেনী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দিন জানান, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৮৬ ধারা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শহরের সব ভবনের পার্কিং স্পেস দখলমুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে মার্কেট সিলগালা বা জরিমানার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে নোটিশ ছাড়া লাইসেন্স বাতিলের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। শাহ আলম টাওয়ারের বেজমেন্টে থাকা গার্ডেন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী নুরুল আফসার কবির বলেন, ‘পৌরসভার লাইসেন্সসহ সব সংস্থার ছাড়পত্র নিয়ে কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আমরা ব্যবসা করছি। জায়গাটি অবৈধ হলে কর্তৃপক্ষ কেন আগে লাইসেন্স দিয়েছিল?’ তাঁর দাবি, শহরের প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অনেক ভবন মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
আপনার মতামত লিখুন