টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ‘গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যজোট। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বাওয়ারকুমারজানি এলাকায় অবস্থিত মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিন দুপুরে মির্জাপুর বাইপাস এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা কার্যালয়টি ঘেরাও করে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হন।
পৌর জামায়াতের আমির মহিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। প্রচণ্ড গরমে একদিকে যেমন জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, অন্যদিকে শিল্পকারখানার উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
বক্তারা অবিলম্বে এই সংকট সমাধানের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইয়াহ ইয়াহ খান মারুফ, সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবুল কাশেম মৃধা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মনির হোসেন, খেলাফত মজলিসের সভাপতি আসাদুজ্জামান খান ছিটু, এনসিপির উপজেলা সদস্যসচিব লিটন হোসেন প্রমুখ।
কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোখলেছুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ডিজিএম মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা অবগত আছি। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে স্মারকলিপি দিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন