সংবাদ

অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত, খুনি ছেলেই


প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ এএম

অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত, খুনি ছেলেই
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত ছেলে মো. জনি। ছবি : সংবাদ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার কলাকান্দা ও হানিরপাড় গ্রামের মাঝামাঝি একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক ক্ষোভের জেরে মা মজিদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে জনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মতলব উত্তর থানা-পুলিশ সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসা সংবাদের ভিত্তিতে ছেংগারচর পৌরসভার কলাকান্দা ও হানিরপাড় গ্রামের মাঝামাঝি একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি পচে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল এবং বন্য প্রাণীর আক্রমণে শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো সূত্র না থাকায় ঘটনাটি পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে ও মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এসআই সাদেক, এসআই মিজান, এসআই রেজাউল ও এএসআই রবিউলকে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা নিহতের ছেলে মো. জনিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জনি জানান, ছোটবেলা থেকে পারিবারিক নানা কারণে মায়ের ওপর তার তীব্র ক্ষোভ ছিল। জনি ঢাকায় ফল বিক্রি করেন। গত ১৭ জুন তিনি ছেংগারচর বাজার থেকে মাকে অটোরিকশায় করে ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য মায়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি একটি পুকুরে ফেলে দেন।

গ্রেপ্তার জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। পারিবারিক ক্ষোভের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

\

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬


অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত, খুনি ছেলেই

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার কলাকান্দা ও হানিরপাড় গ্রামের মাঝামাঝি একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক ক্ষোভের জেরে মা মজিদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে জনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মতলব উত্তর থানা-পুলিশ সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসা সংবাদের ভিত্তিতে ছেংগারচর পৌরসভার কলাকান্দা ও হানিরপাড় গ্রামের মাঝামাঝি একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি পচে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল এবং বন্য প্রাণীর আক্রমণে শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো সূত্র না থাকায় ঘটনাটি পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে ও মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এসআই সাদেক, এসআই মিজান, এসআই রেজাউল ও এএসআই রবিউলকে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা নিহতের ছেলে মো. জনিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জনি জানান, ছোটবেলা থেকে পারিবারিক নানা কারণে মায়ের ওপর তার তীব্র ক্ষোভ ছিল। জনি ঢাকায় ফল বিক্রি করেন। গত ১৭ জুন তিনি ছেংগারচর বাজার থেকে মাকে অটোরিকশায় করে ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য মায়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি একটি পুকুরে ফেলে দেন।

গ্রেপ্তার জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। পারিবারিক ক্ষোভের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

\


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত