দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া আর বন্দিজীবনের অবসান। অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন তিনি। কারামুক্তির পর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের নিজ বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন জনপ্রিয় এই নেত্রী। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, বিকেলে জামিনের নথিপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে তিনি মুক্তি পান। আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ১২টি মামলায় উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের ধারাবাহিক আদেশে জামিন বহাল থাকায় তার মুক্তির পথ পরিষ্কার হয়। গত ১০ মে ১০টি মামলায় এবং পরবর্তীতে ১৭ মে আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ। ঈদুল আজহার ছুটির কারণে নথিপত্র কারাগারে পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হলেও, বুধবার সম্পন্ন হয় সব আনুষ্ঠানিকতা। পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে। এরপর থেকে দেওভোগের নিজ বাসভবনেই ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ৮ মে রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে সৃষ্টি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। বাড়ির সামনে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক সমর্থক। প্রায় ৬ ঘণ্টার নাটকীয়তা শেষে ৯ মে ভোররাতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ৩টি হত্যা ও ২টি হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একের পর এক নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন তার আইনজীবীরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট তাকে নতুন কোনো মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের নির্বাচিত মেয়র এবং সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। একইসঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। দীর্ঘ বন্দিদশা পেরিয়ে মুক্ত বাতাসে ফেরা এই জনপ্রিয় নেত্রী, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আবারও রাজনীতির মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমনটাই আভাস তার আইনজীবীদের।