রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ছালাপাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
এর আগে অভিযোগের প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে গেলে তাকেও কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ বিদ্যালয়ে যায়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আশ্বাসের পর বিকেলে শিক্ষকরা বিদ্যালয় থেকে বের হতে পারেন।
বিদ্যালয় সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট দুপুরে টিফিনের সময় ওই শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে বসে ছিল। এ সময় সহকারী শিক্ষক রেয়াজুল ইসলাম সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীর পাশে বসেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ করে ওই শিক্ষার্থী। এতে প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীটি বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে সে ঘটনাটি জানায়।
ঘটনা জানাজানি হলে বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে জড়ো হন। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকারের দাবি জানান। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে গেলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ বিদ্যালয়ে যায়। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আশ্বাসে বিকেলে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে আসেন।
এদিকে, বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক রেয়াজুল ইসলাম বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দ্রুত বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম বলেন, সোমবার বিকেলে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অভিযোগটি পাই। পরে মঙ্গলবার বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ম্যানেজিং কমিটিকে জানাই। বুধবার শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি দেখার কথা ছিল। এর মধ্যেই স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে এসে অভিযোগটির প্রতিকার দাবি করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, আমি বিষয়টি মঙ্গলবার জানতে পেরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধান শিক্ষক ফোন করে জানান, তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। পরে আমি বিদ্যালয়ে যাই। তখন স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষককে তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফোনে তাদের আশ্বস্ত করলে বিকেলে আমরা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে আসি।
রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ছালাপাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
এর আগে অভিযোগের প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে গেলে তাকেও কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ বিদ্যালয়ে যায়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আশ্বাসের পর বিকেলে শিক্ষকরা বিদ্যালয় থেকে বের হতে পারেন।
বিদ্যালয় সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট দুপুরে টিফিনের সময় ওই শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে বসে ছিল। এ সময় সহকারী শিক্ষক রেয়াজুল ইসলাম সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীর পাশে বসেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ করে ওই শিক্ষার্থী। এতে প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীটি বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে সে ঘটনাটি জানায়।
ঘটনা জানাজানি হলে বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে জড়ো হন। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকারের দাবি জানান। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে গেলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ বিদ্যালয়ে যায়। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আশ্বাসে বিকেলে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে আসেন।
এদিকে, বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক রেয়াজুল ইসলাম বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দ্রুত বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম বলেন, সোমবার বিকেলে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অভিযোগটি পাই। পরে মঙ্গলবার বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ম্যানেজিং কমিটিকে জানাই। বুধবার শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি দেখার কথা ছিল। এর মধ্যেই স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে এসে অভিযোগটির প্রতিকার দাবি করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, আমি বিষয়টি মঙ্গলবার জানতে পেরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধান শিক্ষক ফোন করে জানান, তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। পরে আমি বিদ্যালয়ে যাই। তখন স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষককে তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফোনে তাদের আশ্বস্ত করলে বিকেলে আমরা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে আসি।
রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন