গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গবাদিপশুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘অ্যানথ্রাক্স’ বা তড়কা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির সংস্পর্শে এসে উপজেলার অন্তত পাঁচজন ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।আক্রান্ত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের জাহেদুল ইসলাম (৫০), খায়রুল ইসলাম (৩৫), আজগর আলী (৪৮), আবুল হোসেন (৫০) ও নাজমুল হক (৪০)। তাঁদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অভাবে এলাকায় বারবার এই রোগের সংক্রমণ ঘটছে। বেলকা ইউনিয়নের খামারি শামীম সরকার বলেন, রোগ ছড়ানোর পর কর্তৃপক্ষের কিছুটা তৎপরতা দেখা যায়, কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আর কোনো খোঁজ থাকে না।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম জানান, গত মাসের ২৫ তারিখে একটি অসুস্থ গরু জবাই করা হয়েছিল। খবর পেয়ে ৩১ আগস্ট তারা ঘটনাস্থলে যান। ততক্ষণে স্থানীয়রা মাংস খেয়ে ফেলায় কোনো নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আতিয়ার রহমান সোহাগ বলেন, রোগীদের উপসর্গ দেখে প্রাথমিকভাবে এটি অ্যানথ্রাক্স বলেই মনে হচ্ছে। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি জানান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া পশু জবাই বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গিয়েছিলেন এবং আরও অন্তত ১৭ জন সংক্রমিত হয়েছিলেন। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলেও স্থায়ী প্রতিকার না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।