ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পের আট দিন পর এক ব্যক্তিকে অলৌকিকভাবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম হার্নান গিল। প্রায় ১৪০ টন ওজনের বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর, দীর্ঘ পাঁচ দিনেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকর্মীরা তাকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ওই শক্তিশালী ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৫৯৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
ভূমিকম্পের সময় হার্নান গিল দেশটির রাজধানী কারাকাসের কাছে কাতিয়া লা মার এলাকার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিংমলের পাশের একটি পার্কিং এলাকার বেজমেন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে একটি ছোট কংক্রিটের নিরাপত্তা কক্ষে থাকার কারণে চারপাশের বিশাল ধ্বংসস্তূপ চাপা পড়লেও সেটি ঢাল হিসেবে তাকে রক্ষা করে।
কোস্টারিকার রেড ক্রসের প্যারামেডিক অ্যালান মাদ্রিগাল গত রোববার প্রথম ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে গিলের ক্ষীণ আর্তনাদ শুনতে পান। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, "মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। পরে সহকর্মীকে ডেকে নিশ্চিত হই যে আমি ভুল শুনছি না।" মাদ্রিগাল জানান, হার্নান গিলকে প্রায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
গিলের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই তাকে উদ্ধারে দিনরাত এক করে যৌথভাবে কাজে নেমে পড়েন ভেনেজুয়েলা, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল।
তবে গিলের কাছে পৌঁছানোর জন্য তৈরি করা সরু পথটি কয়েকবার ধসে পড়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া চিলির এক দমকলকর্মী এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, "আমার কর্মজীবনে এটিই সবচেয়ে জটিল ও প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন উদ্ধার অভিযান।"
চূড়ান্তভাবে উদ্ধারের আগে গিলের জীবন বাঁচাতে এবং শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে তাকে পানি ও শিরার মাধ্যমে তরল খাবার (আইভি) দেওয়া হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত রাতভর অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর উদ্ধারকারীরা গিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন এবং তাকে সফলভাবে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনেন।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পের আট দিন পর এক ব্যক্তিকে অলৌকিকভাবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম হার্নান গিল। প্রায় ১৪০ টন ওজনের বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর, দীর্ঘ পাঁচ দিনেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকর্মীরা তাকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ওই শক্তিশালী ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৫৯৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
ভূমিকম্পের সময় হার্নান গিল দেশটির রাজধানী কারাকাসের কাছে কাতিয়া লা মার এলাকার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিংমলের পাশের একটি পার্কিং এলাকার বেজমেন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে একটি ছোট কংক্রিটের নিরাপত্তা কক্ষে থাকার কারণে চারপাশের বিশাল ধ্বংসস্তূপ চাপা পড়লেও সেটি ঢাল হিসেবে তাকে রক্ষা করে।
কোস্টারিকার রেড ক্রসের প্যারামেডিক অ্যালান মাদ্রিগাল গত রোববার প্রথম ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে গিলের ক্ষীণ আর্তনাদ শুনতে পান। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, "মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। পরে সহকর্মীকে ডেকে নিশ্চিত হই যে আমি ভুল শুনছি না।" মাদ্রিগাল জানান, হার্নান গিলকে প্রায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
গিলের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই তাকে উদ্ধারে দিনরাত এক করে যৌথভাবে কাজে নেমে পড়েন ভেনেজুয়েলা, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল।
তবে গিলের কাছে পৌঁছানোর জন্য তৈরি করা সরু পথটি কয়েকবার ধসে পড়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া চিলির এক দমকলকর্মী এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, "আমার কর্মজীবনে এটিই সবচেয়ে জটিল ও প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন উদ্ধার অভিযান।"
চূড়ান্তভাবে উদ্ধারের আগে গিলের জীবন বাঁচাতে এবং শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে তাকে পানি ও শিরার মাধ্যমে তরল খাবার (আইভি) দেওয়া হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত রাতভর অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর উদ্ধারকারীরা গিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন এবং তাকে সফলভাবে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনেন।

আপনার মতামত লিখুন